Red Fort Blast | টার্গেট ছিল দীপাবলি ও প্রজাতন্ত্র দিবস! লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে এলো ভয়ঙ্কর সাদা-কলারের জঙ্গি ছক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, ১২ নভেম্বর: রাজধানীর লালকেল্লা (Red Fort) সংলগ্ন এলাকায় গত সোমবার সন্ধ্যার ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু ও বহু আহত হওয়ার ঘটনার পর তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে এখন এক ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্কের প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ , যেখানে অস্ত্র হাতে উচ্চশিক্ষিত ডাক্তার ও গবেষকেরা ছিলেন ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর মূল চালিকাশক্তি।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, ধৃত ডাক্তার মুজাম্মিল গনাই (Dr. Muzammil Ganai) ছিলেন এই মডিউলের অন্যতম মূলচক্রী। তিনি কেবল একজন চিকিৎসক নন, নিরাপত্তা সংস্থার ভাষায়, “বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভয় সৃষ্টির এক নতুন মডেল গড়ে তুলেছিলেন।” পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুজাম্মিল একাধিকবার রেড ফোর্ট ও সংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। তাঁর মোবাইল ফোনের ডাম্প ডেটাসিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে মিলেছে তার প্রমাণ। এক তদন্তকারী কর্তা বলেন, “জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মুজাম্মিল একাধিকবার ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি প্রতিবারই আশেপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনচলাচলের রুট খতিয়ে দেখছিলেন। স্পষ্টতই এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রেকি।”

আরও বিস্ময়কর তথ্য জানাচ্ছে এনডিটিভি (NDTV) -এর প্রতিবেদন। তাদের দাবি, দীপাবলির সময়ও একটি বড়সড় বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল মুজাম্মিলের টিমের, তবে উৎসবকালে বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারির কারণে তারা ছক বদলে ফেলে। পুলিশ মনে করছে, পরবর্তী লক্ষ্য ছিল ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে (Republic Day) একটি বড় হামলা চালানো। তদন্তে উঠে এসেছে, মুজাম্মিল একা ছিলেন না। তাঁর সহযোগী ছিলেন পুলওয়ামার বাসিন্দা ডাঃ উমর নবি (Dr. Umar Nabi), যিনি পরবর্তীতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মারা যান। তাঁরা দু’জনই রেড ফোর্টের আশপাশে বারবার যাতায়াত করতেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল জায়গাগুলি চিহ্নিত করছিলেন। পুলিশের দাবি, তাদের দুজনের ফোন লোকেশন একাধিকবার একই টাওয়ারে ধরা পড়েছে, যা এই পরিকল্পনার যোগসূত্র প্রমাণ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিল্লি পুলিশের এক সিনিয়র অফিসার অবস্থায় বলেন, “এই হামলার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। দীপাবলি এবং ২৬ জানুয়ারি, দুই সময়কেই টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে আতঙ্কে উমর আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।” সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত তদন্তে প্রকাশ, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আরও কিছু ডাক্তার ও গবেষক, যারা মেডিকেল ও টেকনিক্যাল পেশার আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার তাজামুল আহমেদ মালিক (Dr. Tajamul Ahmed Malik) এবং ডাক্তার আদিল আহমেদ রাদার (Dr. Adil Ahmed Rather), দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)

একজন এনআইএ আধিকারিক বলেন, “এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় জঙ্গিবাদ নয়, তা বুদ্ধিজীবী স্তরের এক নতুন বিপজ্জনক প্রবণতা। তাঁরা প্রযুক্তি, আর্থিক নেটওয়ার্ক ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ সংগঠিত করছিলেন।” পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারীরা এখন ডিজিটাল প্রমাণের সন্ধানে জোর দিচ্ছেন। মুজাম্মিল ও উমরের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ক্লাউড ডেটা এবং টেলিগ্রাম (Telegram)সিগন্যাল (Signal) অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাদের চ্যাট লগে বিদেশি নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চিহ্ন মিলেছে, যা পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু নম্বরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই মডিউলটি শুধুমাত্র দিল্লিতে নয়, মুম্বাই, লখনউ এবং বেঙ্গালুরুতেও ছড়াতে চেয়েছিল। এটি ছিল এক ধরনের ‘স্লিপার সেল নেটওয়ার্ক’ যেখানে পেশাদারদের ব্যবহার করে সামাজিক বিশ্বাস অর্জন করা হচ্ছিল।”

এখন প্রশ্ন, কীভাবে এত সুরক্ষিত অঞ্চলে এমন হামলার পরিকল্পনা সম্ভব হল? নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লালকেল্লা সংলগ্ন অঞ্চলে পর্যটক ও যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় নিরাপত্তার কিছু জায়গায় দুর্বলতা থেকে গিয়েছিল। এই ফাঁকগুলোকেই কাজে লাগিয়েছিল মুজাম্মিল ও উমরের টিম। ঘটনার পর থেকে রাজধানীতে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মেট্রো স্টেশন, পর্যটন কেন্দ্র, সরকারি ভবন সর্বত্রই চলছে কড়া নজরদারি। দিল্লি পুলিশের কমিশনার জানিয়েছেন, “এটি ভারতের বিরুদ্ধে এক সুশিক্ষিত জঙ্গি গোষ্ঠীর ঘোষণা। আমরা ইতিমধ্যেই তদন্তে অগ্রগতি করেছি এবং আরও কয়েকটি গ্রেফতার হতে পারে।”

এই ঘটনার পর দেশজুড়ে আতঙ্কের পাশাপাশি নতুন করে চিন্তা শুরু হয়েছে যখন চিকিৎসক, অধ্যাপক, গবেষকেরা পর্যন্ত এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, তখন তা শুধু নিরাপত্তা নয়, নৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাকেও গভীরভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে। রাজধানী দিল্লি এখন কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। বিস্ফোরণের ক্ষতচিহ্ন এখনও তাজা, কিন্তু তার থেকেও ভয়ঙ্কর যে বার্তা দিয়েছে এই তদন্ত শিক্ষা ও পেশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিবাদের এক নতুন মুখ।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Delhi blast | লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ রহস্যে নতুন মোড়! পুলওয়ামার চিকিৎসক উমরের মাকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ডেকে পাঠাল পুলিশ, আটক বাবাও

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন