Delhi blast NIA investigation | দিল্লি বিস্ফোরণের সূত্র মুর্শিদাবাদে! এনআইএ -এর অভিযান নিম গ্রামে, মইনুল হাসানের জেরায় উঠে আসছে বিস্ফোরক তথ্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দিল্লির লালকেল্লার (Red Fort) কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে নতুন মোড়, এবার সেই বিস্ফোরণের সূত্র পৌঁছল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলায়। বুধবার সকাল থেকেই ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-এর একটি বিশেষ দল তল্লাশি চালায় মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থানার নিম গ্রামে। তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে মইনুল হাসান (Moinul Hasan) নামে এক পরিযায়ী শ্রমিকের নাম। সূত্রের খবর, এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন দিল্লি (Delhi) ও মুম্বইয়ে (Mumbai) কাজ করতেন, এবং সেখানে তাঁর যোগাযোগ হয় এক বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে। সেই সূত্রেই কি বিস্ফোরণ চক্রের সংযোগ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এনআইএ।

তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা খবর, বুধবার সকাল থেকেই নিম গ্রামে মোতায়েন ছিল সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। এনআইএ-এর আধিকারিকরা মইনুল হাসানের বাড়িতে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালান। ঘর থেকে উদ্ধার হয় কিছু কাগজপত্র, একটি পুরনো মোবাইল ফোন এবং কয়েকটি নোটবই। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, মইনুল বহু বছর ধরে দিল্লি ও মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মাঝে মাঝে গ্রামে ফিরতেন ছুটি কাটাতে। এক এনআইএ আধিকারিক বলেন, “মইনুল হাসানের সঙ্গে এক বাংলাদেশি নাগরিকের যোগাযোগ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেই ব্যক্তি কিছু দিন আগে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন বলে ধারণা। তাঁদের মধ্যে আদানপ্রদান হয়েছিল কিছু ফোন কল ও টাকা লেনদেন। এখন সেটাই যাচাই করা হচ্ছে, এই যোগাযোগ কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না।” সূত্রের আরও দাবি, দিল্লি বিস্ফোরণের পর সন্দেহভাজনদের মোবাইল কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে এই তল্লাশির সূত্র মেলে। বেশ কিছু নম্বর মুর্শিদাবাদের দিক থেকে সক্রিয় ছিল বলে দেখা যায়। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা বুধবার সকালে নিম গ্রামে পৌঁছন। এনআইএ একইসঙ্গে আরও কয়েকটি গ্রামেও নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তল্লাশির সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আজিজুল শেখ বলেন, “হঠাৎ এত পুলিশ-গাড়ি দেখে আমরা ভয় পেয়ে যাই। পরে শুনি দিল্লির বিস্ফোরণের মামলার তদন্ত চলছে। আমাদের মতো শান্ত গ্রামের নাম এভাবে জড়াবে, ভাবতেও পারিনি।”

প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট নাগাদ দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে এক হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের দোকান, গাছপালা ও গাড়ি উড়ে যায় আগুনে। ঘটনাস্থলে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের আগে সুনহেরি মসজিদের (Sunehri Masjid) পার্কিং লটে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পার্ক করা ছিল ঘাতক গাড়িটি। এরপর হঠাৎ সেটি লালকেল্লার দিকের রাস্তায় ঢুকে যায় এবং প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তে জানা গেছে, ফরিদাবাদের (Faridabad) আল ফালহা মেডিক্যাল কলেজ (Al Falha Medical College) থেকে বিস্ফোরণের আগের দিন প্রায় ৩৫০ কেজি রাসায়নিক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। সন্দেহভাজন এক চিকিৎসককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu & Kashmir) পুলিশ।

এনআইএ সূত্রে জানা খবর, ওই রাসায়নিকটি সম্ভবত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (Ammonium Nitrate), যা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা তৈরিতে ব্যবহার হয়। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই রাসায়নিকই দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই পুরো অপারেশনটি পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছিল, এবং এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বিভিন্ন রাজ্যের কিছু ব্যক্তি। সূত্রের খবর, মইনুল হাসানের জিজ্ঞাসাবাদের পর এনআইএ ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিদেশি যোগাযোগ ছাড়াও, সম্প্রতি তিনি যে একটি বিশেষ ট্রানজেকশন করেছিলেন, তা নজরে এসেছে তদন্তকারীদের। যদিও এ বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি।

মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, “এনআইএ -এর তদন্তে আমরা সম্পূর্ণ সহায়তা করছি। রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।” স্থানীয় প্রশাসনও সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছে। উল্লেখ্য, এর আগেও মুর্শিদাবাদ জেলায় জঙ্গি সংগঠনের যোগ পাওয়া গিয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (Ansarullah Bangla Team) কয়েকজন সদস্যকে এখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময়ও বিপুল অস্ত্র ও ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার হয়েছিল। ফলে গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই জেলায় এখনও সক্রিয় কিছু গোপন চক্র কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বিস্ফোরণের পর এক টুইটে বলেছেন, “দোষীরা যেই হোক, কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। দিল্লির নিরাপত্তা ভাঙার চেষ্টা যারা করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে।” এনআইএ-র একটি সূত্র বলছে, “আমরা কয়েকটি রাজ্যে সমান্তরাল তল্লাশি চালাচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, ফরিদাবাদ ও উত্তরপ্রদেশে পাওয়া কিছু সূত্র পরস্পর সংযুক্ত। আমরা নিশ্চিত, শিগগিরই মূল চক্রটি চিহ্নিত হবে।” দিল্লির সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্ত এখন মুর্শিদাবাদের মাটিতে এসে পৌঁছেছে। প্রশ্ন উঠছে, কতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে এই জঙ্গি চক্রের নেটওয়ার্ক? উত্তর খুঁজছে গোটা দেশ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Delhi Blast | দিল্লি বিস্ফোরণে নতুন মোড়: শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার ডাক্তার তাজামুল, তদন্তে জঙ্গি মডিউলের জাল ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে 

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন