Murshidabad explosion, Kandi fire accident | বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কান্দি! রামেশ্বরপুরে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে দাউদাউ আগুন, ৩ বছরের আমিনার মৃত্যু, আশঙ্কাজনক আরও ৫

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বহরমপুর : মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) আবারও কেঁপে উঠল ভয়াবহ বিস্ফোরণে। বুধবার দুপুরে জেলার কান্দি থানার (Kandi Police Station) অন্তর্গত কুমারসন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের রামেশ্বরপুর (Rameshwarpur) গ্রামে হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে পুড়ে যায় একটি কাঁচা বাড়ি। সেই বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় এক শিশুর নিথর দেহ। মৃতের নাম আমিনা পারভীন (Amina Parveen), বয়স মাত্র তিন বছর। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য।

খবর পেয়েই, ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কান্দি থানার পুলিশ এবং দমকলের ইঞ্জিন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, বাড়ির রান্নাঘরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার (Gas Cylinder) ফেটেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে তদন্তকারীরা এখনই কিছু উড়িয়ে দিচ্ছেন না, তাঁরা খতিয়ে দেখছেন, ওই ঘরে অন্য কোনও দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক মজুত করা ছিল কি না। কান্দি থানার এক আধিকারিক বলেন, “আমাদের প্রাথমিক ধারণা, রান্নার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুন লাগে। ঘরে উপস্থিত ছয়জন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর একটা নাগাদ আনিসুর শেখের (Anisur Sheikh) বাড়িতে রান্না চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তে ঘরের ছাদ উড়ে যায়, আগুন লেলিহান শিখার মতো ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে। স্থানীয়রা প্রথমে ভেবেছিলেন বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে, কারণ শব্দটি এতটাই তীব্র ছিল যে গ্রামের প্রায় আধ কিলোমিটার দূর থেকেও সেটি শোনা যায়। দমকল ইঞ্জিন আসার আগেই গ্রামের লোকজন জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাড়ির অনেক কিছু। ভিতরে থাকা মোটর সাইকেল, আসবাবপত্র, রান্নার জিনিস সব কিছু ধ্বংস হয়ে যায় আগুনে।

এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আনিসুর শেখ, নুরজাহান বিবি (Nurjahan Bibi), আল্লাদি বিবি (Alladi Bibi), রুলি বিবি (Ruli Bibi) এবং রিজবা বিবি (Rizba Bibi)। তাঁদের সবাইকে প্রথমে স্থানীয় গোকর্ণ হাসপাতাল-এ (Gokarna Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Murshidabad Medical College Hospital) স্থানান্তর করা হয় বলে উল্লেখ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচজনেরই শরীরের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ পুড়ে গিয়েছে। এক চিকিৎসক জানান, “দগ্ধ রোগীদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁদের শ্বাসযন্ত্রেও গভীর দগ্ধ ক্ষত রয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল শেখ (Mokbul Sheikh) বলেন, “দুপুর একটা নাগাদ যখন মহিলারা রান্না করছিলেন, তখন হঠাৎ জোরে বিস্ফোরণ হয়। আমরা ছুটে যাই। দেখি পুরো বাড়িতে আগুন। কোনও রকমে দরজা ভেঙে সবাইকে টেনে বার করি। শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই ও মারা যায়।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে দু’টি সিলিন্ডারে। দুটোই ফেটে দু’টুকরো হয়ে যায়। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পাশে থাকা টিনের ছাউনিও গলে যায়। মৃত শিশুর এক আত্মীয় মুকলেসেনা বিবি (Muklesena Bibi) কান্নাভেজা গলায় বলেন, “আমরা আজ আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। দুপুরে ফোনে শুনি, বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে। দৌড়ে এসে দেখি সব শেষ। আমার মা, দিদি, আর ছোট্ট নাতনি, সবাই আগুনে পুড়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। ফরেনসিক টিমও পৌঁছেছে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য। কান্দি থানার ইনচার্জ জানিয়েছেন, “ঘটনাস্থল থেকে দুই সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করেছেন।”

উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে গত কয়েক বছরে একাধিকবার এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে অবৈধভাবে বোমা তৈরির কাজ বা বিস্ফোরক মজুত করে রাখার ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। যদিও এ ক্ষেত্রে পুলিশ এখনও তা নিশ্চিত করেনি। ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোকের ছায়া। মৃত আমিনা পারভীনের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েছে গ্রামবাসী। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক সাজাহান শেখ (Sajahan Sheikh) বলেন, “এমন দুর্ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। বাচ্চাটির মুখটাই চোখের সামনে ভাসছে।” জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছে। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। এক সরকারি আধিকারিক জানান, “আমরা প্রতিটি বাড়িতে সেফটি চেক করব, বিশেষ করে যাঁদের রান্নাঘরে পুরনো সিলিন্ডার আছে। গ্যাস লিকেজ বা অযত্নই অনেক সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” উল্লেখ্য, রামেশ্বরপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, একটি ছোট্ট অসতর্কতা কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে পুরো পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Kurnool Bus Fire, Andhra Pradesh Accident | কুর্নুলে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা : আগুনে পুড়ে ২০ জনের মৃত্যু, বেঁচে গেলেন মাত্র কয়েকজন

 

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন