সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ রাজভবনে (Raj Bhavan, West Bengal) আসছে এক অনন্য মুহূর্ত। রাজ্যের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (C.V. Ananda Bose) দায়িত্বগ্রহণের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে রাজভবন চত্বরে আয়োজন করতে চলেছেন গণবিবাহের (Mass Marriage) অনুষ্ঠান। আগামী ২৩ নভেম্বর, যে দিনটি তাঁর দায়িত্বগ্রহণের বার্ষিকী, সেদিনই রাজভবনের উদ্যোগে ১০০ দুঃস্থ যুবক-যুবতীর জীবনে নতুন সূর্যোদয় ঘটবে। শুরু হয়েছে আবেদনপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়াও। রাজ্যপালের এই মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই রাজ্যের নানা প্রান্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
রাজভবনের তরফে প্রকাশিত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৩ নভেম্বর রাজভবনের গণবিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ নভেম্বর। ইচ্ছুক বর-কনের পরিবার বা আইনগত অভিভাবকরা নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে বর-কনের নাম, বয়স, ঠিকানা, পেশা, আধার নম্বর, পরিবারের বাৎসরিক আয় এবং অভিভাবকের বিবরণ। সঙ্গে দিতে হবে বয়স ও পরিচয় সংক্রান্ত বৈধ প্রমাণপত্র। এছাড়া, বর-কনে উভয়ের সম্মতি এবং বিবাহ নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও লিখিতভাবে জানাতে হবে। যদি রেজিস্ট্রেশনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে থাকে, সংশ্লিষ্ট নথি আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য গ্রামের প্রশাসনিক আধিকারিক, পুরসভা কাউন্সিলর বা কোনও গেজেটেড অফিসারের (Gazetted Officer) সনদপত্রও আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। রাজভবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পরেই নির্বাচিত যুগলদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
রাজভবন জানিয়েছে, বিবাহ অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ রাজভবনের উদ্যোগে আয়োজিত হবে এবং এর সমস্ত ব্যয়ভার বহন করবে রাজভবন নিজেই। বিয়ের দিন প্রত্যেক নবদম্পতিকে প্রতীকী উপহার দেওয়া হবে। বর-কনে ছাড়াও তাঁদের বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজন মিলিয়ে সর্বাধিক ১০ জন অতিথি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। রাজভবন সূত্রে খবর, “গণবিবাহের মূল উদ্দেশ্য হল, সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির যুবক-যুবতীদের সম্মানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করা। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস চান, তাঁর তৃতীয় বর্ষপূর্তির দিনটি সমাজসেবামূলক কাজে উৎসর্গিত হোক। তাই এই উদ্যোগ।”
প্রসঙ্গত, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তিনটি মাধ্যম রাখা হয়েছে-
১️. ই-মেল মারফত পাঠানো যাবে। [peaceroomrajbhavan@gmail.com](mailto:peaceroomrajbhavan@gmail.com), [generalcellgs@gmail.com](mailto:generalcellgs@gmail.com) অথবা [specialcellgs@gmail.com](mailto:specialcellgs@gmail.com) ঠিকানায়।
২️. ডাকযোগে পাঠানো যাবে রাজভবনের নির্দিষ্ট ঠিকানায়।
৩️. সরাসরি রাজভবনে গিয়েও আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
রাজভবনের এক আধিকারিক বলেন, “অনেক সময় দুঃস্থ পরিবারগুলি আর্থিক সমস্যার কারণে সন্তানের বিবাহ দিতে পারেন না। রাজ্যপাল মহাশয়ের নির্দেশে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো যায়।” বিশেষ সূত্রে খবর, রাজভবনের অভ্যন্তরে তৈরি করা হবে একটি সজ্জিত মণ্ডপ। সেদিন রাজভবনের আঙিনায় একসঙ্গে ১০০ যুগল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন। পুরো আয়োজনের দায়িত্বে থাকবেন রাজভবনের প্রশাসনিক টিম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। বিবাহ অনুষ্ঠান চলবে ধর্মীয় ও সামাজিক সব রীতিনীতি মেনে।রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই উদ্যোগকে সমাজকল্যাণের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখতে চান। তিনি বলেছেন, “রাজভবন শুধু প্রশাসনিক প্রতীক নয়, এটি মানুষের জন্যও খোলা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জীবনে আনন্দের আলো আনতে চাই।”
রাজভবনের এই পদক্ষেপকে ইতিমধ্যেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন বিভিন্ন সমাজকর্মী ও সংগঠন। এক সমাজকর্মী বলেন, “রাজ্যপাল হিসেবে সিভি আনন্দ বোস দেখিয়ে দিলেন, মানবিকতার রাজনীতি এখনও বেঁচে আছে। রাজভবনের দরজা যদি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে খোলা থাকে, সেটাই আসল গণতন্ত্র।”
রাজভবনের ইতিহাসে এই গণবিবাহ হতে চলেছে এক অনন্য ঘটনা। সরকারি উৎসব, আনুষ্ঠানিক সভা বা প্রটোকল মিটিংয়ের বাইরে রাজভবনের প্রাঙ্গণে এবার প্রথমবার শোনা যাবে ‘সানাই’-এর সুর। বিয়ে উপলক্ষে সাজানো হবে রাজভবনের বাগান, তৈরি হবে বিশেষ অতিথি কক্ষ ও রেজিস্ট্রেশন বুথ। অনেকে বলছেন, রাজ্যপাল বোসের (Governor Bose) এই মানবিক উদ্যোগ হয়তো অন্য রাজ্যের রাজভবনগুলিকেও অনুপ্রাণিত করবে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২৩ নভেম্বর ২০২5 হয়তো এক বিশেষ দিনে পরিণত হবে, যেখানে রাজভবনের গেট খুলবে সুখ, ভালবাসা ও সামাজিক সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Birbhum temple marriage, Sainthia viral news | স্ত্রীকে বন্ধুর হাতে তুলে দিলেন স্বামী! বীরভূমে মন্দিরে অনন্য বিয়ে, যুবক বললেন, ‘আজ থেকে আমি মুক্ত’




