India Women Champions, Pratika Rawal News, ICC Medal Update | অবশেষে প্রতিকার হাতে উঠল বিশ্বজয়ের সোনার পদক, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর উদ্যোগে পূরণ হল প্রতিকার অপূর্ণ স্বপ্ন

SHARE:

২৫ বছর বয়সী প্রতিকা রাওয়াল এখন বিশ্রামে আছেন। খুব শিগগিরই জাতীয় দলের হয়ে আবার মাঠে নামার আশা করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই পদক শুধু আমার নয়, প্রতিটি ক্রিকেটারের, যারা স্বপ্ন দেখেন দেশের হয়ে কিছু করে দেখানোর।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থরাও প্রতিকার পদক পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত। ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana) বলেন, “প্রতিকা আমাদের দলের মেরুদণ্ড ছিল। তাঁর অবদান না থাকলে আমরা হয়তো এই ট্রফি ছুঁতে পারতাম না।”

সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ভারতের নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বজয়ের গল্পে এবার যুক্ত হল এক আবেগঘন অধ্যায়। অবশেষে অলরাউন্ডার প্রতিকা রাওয়াল (Pratika Rawal) -এর হাতে উঠছে সেই কাঙ্ক্ষিত বিশ্বজয়ের পদক, যেটি থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছিলেন চোটের কারণে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) ভারতের এই তরুণ ক্রিকেটারকে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিকার হাতে পৌঁছে যাবে তাঁর প্রাপ্য সোনার পদক। এবং প্রতিকার স্বপ্ন পূরণের মুহূর্তটি সম্ভব হয়েছে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর (Jay Shah) ব্যক্তিগত উদ্যোগেই।

২০২৫ সালের আইসিসি মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ (ICC Women’s ODI World Cup 2025) -এ ভারতের অন্যতম ভরসাযোগ্য মুখ ছিলেন প্রতিকা। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর ধারাবাহিক ব্যাটিংই ভারতকে ফাইনালের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ফিল্ডিং করতে গিয়ে গোড়ালিতে মারাত্মক চোট পান তিনি। ফলে সেমিফাইনালের আগে পুরো প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে যান এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর জায়গায় দলে সুযোগ পান শেফালি বর্মা (Shafali Verma)।আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনালে খেলা ১৫ জন ক্রিকেটারকেই পদক প্রদান করা হয়। তাই ফাইনাল দলের বাইরে থাকায় প্রতিকার হাতে পদক ওঠেনি। যদিও দলের প্রতিটি সদস্য জানতেন, প্রতিকার অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, পুরো টুর্নামেন্টে ৩০৮ রান করে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর শতরান ভারতকে শেষ চারে পৌঁছে দিয়েছিল।

২৫ বছর বয়সী প্রতিকা রাওয়াল এখন বিশ্রামে আছেন। খুব শিগগিরই জাতীয় দলের হয়ে আবার মাঠে নামার আশা করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই পদক শুধু আমার নয়, প্রতিটি ক্রিকেটারের, যারা স্বপ্ন দেখেন দেশের হয়ে কিছু করে দেখানোর।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থরাও প্রতিকার পদক পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত। ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana) বলেন, “প্রতিকা আমাদের দলের মেরুদণ্ড ছিল। তাঁর অবদান না থাকলে আমরা হয়তো এই ট্রফি ছুঁতে পারতাম না।”
ওপরের ছবিতে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে প্রতিকা রাওয়াল। নিচের ছবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্ত। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া

বিশ্বজয়ের রাতে, ২ নভেম্বর, হুইলচেয়ারে বসেই সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করেছিলেন প্রতিকা। গলায় ছিল না পদক, কিন্তু মুখে ছিল হাসি। এরপর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে, ‘যে খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা, সে পদক পাবে না কেন?’ সামাজিক মাধ্যমে আইসিসির নিয়মের সমালোচনা শুরু হয়। তবে সেই অপূর্ণতার অবসান ঘটাতে এগিয়ে আসেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ নিজে। প্রতিকা জানান, “বিশ্বকাপ ফাইনালের রাতেই জয় শাহ স্যার আমাদের টিম ম্যানেজারকে মেসেজ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘প্রতিকার জন্য আমি আলাদা করে পদক পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।’ আমি তখন কিছু বলিনি, কারণ বিষয়টা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করতে চাইনি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের দলের এক সাপোর্ট স্টাফ পরে আমাকে তাঁর পদকের বাক্সটা দেখাতে দেন। আমি তখনই পদকটা হাতে নিই, আর অজান্তেই চোখ থেকে জল বেরিয়ে আসে। আমি সাধারণত কাঁদি না, কিন্তু তখন আবেগটা সামলাতে পারিনি। বিশ্বকাপের পদক দেখা মানে যেন নিজের জীবনকাহিনির একটা পূর্ণবিরতি।”

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ কুড়ি-তম কিস্তি)

জয় শাহ কেবল মেসেজেই থেমে থাকেননি। সূত্রের খবর, আইসিসি সদর দফতর থেকে প্রতিকার জন্য একটি আলাদা পদক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফেডারেশন সূত্রে খবর, সেই পদক ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের হাতে পৌঁছেছে, এবং খুব শীঘ্রই তা প্রতিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে।প্রতিকা জানান, “বিশ্বজয়ের রাতে জয় স্যার বলেছিলেন, ‘তোমার জন্য পদক আসছে, একটু সময় দাও।’ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে দেখা করার আগেই আমাদের দলের একজন সাপোর্ট স্টাফ তাঁর নিজের পদকটা আমাকে পরার জন্য দেন। বলেন, ‘এই পদকটা তোমারও প্রাপ্য।’ আমি তখন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমার প্রকৃত পদক না পাওয়া পর্যন্ত এই মুহূর্তটা ভোলার নয়।”

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় প্রতিকার গলায় ঝুলছিল সেই প্রতীকী পদকটি। তখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, “আপনার পদক কোথা থেকে এলো?” জবাবে প্রতিকা জানান, “জয় শাহ স্যর আমার জন্য পদকের ব্যবস্থা করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই আমি আমার নিজের পদকটা হাতে পাব।”
উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ ও প্রশংসার ঢেউ। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিকার এই সম্মান প্রাপ্যই ছিল। তাঁর পারফরম্যান্স ছাড়া ভারতের বিশ্বজয় অসম্ভব ছিল বললেই চলে। অনেক ভক্ত লিখেছেন, “প্রতিকার হাসিই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের গর্ব।”

২৫ বছর বয়সী প্রতিকা রাওয়াল এখন বিশ্রামে আছেন। খুব শিগগিরই জাতীয় দলের হয়ে আবার মাঠে নামার আশা করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই পদক শুধু আমার নয়, প্রতিটি ক্রিকেটারের, যারা স্বপ্ন দেখেন দেশের হয়ে কিছু করে দেখানোর।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থরাও প্রতিকার পদক পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত। ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana) বলেন, “প্রতিকা আমাদের দলের মেরুদণ্ড ছিল। তাঁর অবদান না থাকলে আমরা হয়তো এই ট্রফি ছুঁতে পারতাম না।”
এখন প্রতিকার সেই পদক হাতে পেলে তাঁর গল্পটি পূর্ণতা পাবে, এক তরুণীর ধৈর্য, পরিশ্রম ও ভালোবাসা একসঙ্গে মিশে তৈরি করেছে ভারতীয় নারী ক্রিকেটের ইতিহাসের এক মোটিভেশনের অধ্যায়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Pratika Rawal, Women’s World Cup, India Women Cricket News | বিশ্বকাপে প্রথম শতরানেই ইতিহাস, প্রতিকা রাওয়ালের সাফল্যের রহস্য জানুন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন