পার্বতী কাশ্যপ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : টলিউডের উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta) বাংলা সিনেমার এক প্রিয় অভিনেত্রী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্দায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের মিষ্টি প্রেমের নায়িকা থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী ঋতুপর্ণার পথচলা এক জীবনগাথা। সেই গাথারই আবেগে ভর করে জন্মদিনে কলম ধরলেন অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তী (Arjun Chakraborty)। লিখলেন এক চিঠি, এক সহকর্মী, এক বন্ধু, আর এক ‘অদম্য’ নারীকে উদ্দেশ্য করে।
অর্জুনের চোখে ঋতুপর্ণা শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক অনুপ্রেরণা। সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্মদিনের সকালে ঋতুপর্ণাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখলেন, “এই মেয়েটিকে আমি বহু বছর ধরে চিনি।চিনি বললে ভুল হবে, জানি। প্রায় ৩৫ বছর! ও আমার থেকে ছোট, পেশায় জুনিয়র, তবু বলতে দ্বিধা নেই যে ওর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমি আজ পর্যন্ত ওকে কারও ওপর রাগ করতে দেখিনি, কারও সম্পর্কে খারাপ বলতে দেখিনি। অত টেনশনের মধ্যেও ওকে ভেঙে পড়তে দেখিনি।”এই ‘ভেঙে না পড়া’ ঋতুপর্ণাই আজকের বাংলা ছবির মুখ। কখনও ব্যস্ত মা, কখনও শক্ত হাতে সংসার সামলানো নারী, আবার কখনও ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী তারকা- সব ক্ষেত্রেই তিনি সমান উজ্জ্বল। অর্জুনের কথায়, “ও নিজের পেশাগত জীবনের সমস্যা, পরশ্রীকাতরতা, হিংসা, বিতর্ক, সবকিছুর মধ্যেও নিজেকে ধরে রেখেছে। সন্তান, স্বামী, সংসার, সব সামলে আজও ও একই রকম দীপ্ত। আমি ওকে কখনও নিভে যেতে দেখিনি।”
চিঠির ভাষায় অর্জুনের কণ্ঠে ছিল শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর একরাশ নস্টালজিয়া। মনে করালেন ৩২ বছর আগের সেই দিনগুলো, যখন ঋতুপর্ণা প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তাঁর বিপরীতে। ছবির নাম ছিল ‘৭২ দিন পর’ (72 Din Por)। যদিও সিনেমাটি মুক্তি পায়নি, তবুও সেই প্রথম কাজের স্মৃতি আজও অমলিন অভিনেতার মনে। সেই সূত্রেই তিনি লিখলেন, “ওর উত্থানটা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি- একটা মেয়ের ধীরে ধীরে জটিলতা, সংগ্রাম, মান-অভিমান পেরিয়ে উঠে আসা। আজ তোর জন্মদিন, আমি কুর্নিশ জানাই তোর এই যুদ্ধকে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঋতুপর্ণার জন্মদিনে শুভেচ্ছার বন্যা। পরিচালক থেকে সহকর্মী, নতুন প্রজন্মের অভিনেতা থেকে পুরনো বন্ধুরা সবাই ভরিয়ে দেন প্রশংসায়। কিন্তু অর্জুনের এই লেখা যেন অন্য কিছু। সেখানে নেই গ্ল্যামারের ঝলক, নেই ফাঁকা সৌজন্য। আছে এক শিল্পীর অন্য শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। তিনি আরও লিখেছেন, “আমি ওকে লক্ষ্য করি, যখন ও আমার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে, নীলাঞ্জনার সঙ্গে নিজের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়। আমায় যে সম্মান দেয়, তা নিখাদ। ওর মধ্যে কোনও ভেজাল বা কারসাজি নেই। নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি আর মেধার জোরে ও নিজের জায়গা তৈরি করেছে। এমন সহকর্মী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।” অর্জুনের এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তরা আবেগে ভেসেছেন। কেউ লিখেছেন, “এটাই প্রকৃত শ্রদ্ধা।” কেউ বলেছেন, “অর্জুনদা, আপনার কথাগুলো যেন আমাদের মনের কথা।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “ঋতুপর্ণা আজও আমাদের সময়ের নারীশক্তির স্তম্ভ।”
অন্যদিকে ঋতুপর্ণা নিজেও অর্জুনের পোস্টে ভালবাসা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “দাদা, আপনার এই লেখাটা আমার দিনটাকে আরও বিশেষ করে তুলল। আপনি সব সময় এমন পাশে থেকেছেন, সেটাই আমার প্রাপ্তি।” উল্লেখ্য, টলিউডে (Tollywood) ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত মানেই এক অবিচল উপস্থিতি। ‘দহন’ (Dahan), ‘পারমিতার একদিন’ (Paromitar Ekdin), ‘চতুষ্কোণ’ (Chotushkone), ‘বেলাশেষে’ (Belaseshe), ‘অচেনা উত্তর’ (Achena Uttor) প্রভৃতি প্রতিটি চরিত্রে তিনি নতুন করে নিজেকে মেলে ধরেছেন। পর্দায় যেমন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের শর্তে বাঁচেন তিনি। সমালোচনা, প্রতিযোগিতা, সময়ের পরিবর্তন কিছুই তাঁকে হার মানাতে পারেনি।অর্জুন চক্রবর্তীর কথায়, “ওর মধ্যে শান্ত শক্তি আছে। কেউ হয়তো ভাবে, ও খুব ইমোশনাল কিন্তু আমি জানি, ওর ভেতরে এক যোদ্ধা আছে। আমি বারবার বলেছি, ‘তুই যেরকম আছিস, ঠিক সেইরকম থাকবি।’ কারণ এই আলোকিত, দৃঢ়, নির্ভীক ঋতুপর্ণাকেই আমরা চাই।”
অর্জুনের এই আবেগঘন চিঠি যেন আজকের ব্যস্ত টলিউডে এক অন্যরকম বাতাস বইয়ে দিল। এক প্রজন্মের অভিনেতা যখন আরেক প্রজন্মের অভিনেত্রীর সাফল্য, সংগ্রাম ও ব্যক্তিত্বকে এমনভাবে শ্রদ্ধা জানান, তখন সেটি হয়ে ওঠে শুধু শুভেচ্ছা নয়, এক ‘লেগেসি’র অংশ। অর্জুনের লেখার শেষ লাইনটি যেন সমগ্র বার্তার সারমর্ম, “তোর এই যুদ্ধ, তোর আলো, তোর না-ভাঙা মন, সবকিছুকে কুর্নিশ জানাই। শুভ জন্মদিন রে, ঋতুপর্ণা।”
ছবি সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি




