Kranti Goud World Cup Journey, Indian Women Cricket Team 2025 | গয়না বন্ধক, বাবার সাসপেনশন, সব বাধা জয় করে বিশ্বজয়ী ক্রান্তি গৌড়! ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন অনুপ্রেরণার নাম

SHARE:

ক্রান্তির পরিবারের গল্প যেন সিনেমার মতোই। বাবা মুন্না গৌড় (Munna Goud) পেশায় ছিলেন পুলিশ আধিকারিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক সময় তিনি সাসপেন্ড হন। সংসারে হঠাৎই নেমে আসে অনিশ্চয়তা। মা নীলম গৌড় (Neelam Goud) সাধারণ গৃহবধূ। সংসারের খরচ সামলাতে একসময় নিজের গয়নাগুলো বন্ধক রাখতে হয়েছিল তাঁকে। তবু মেয়ের স্বপ্নে ভাঙন ধরতে দেননি। মা নিজেই বলেছিলেন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে, “আমার মেয়ের হাতে ব্যাট ধরানোর সময় জানতাম, এটা শুধু খেলা নয়, ওর বাঁচার রাস্তা।”

সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : ২০২৫ সালের মহিলা একদিনের বিশ্বকাপ (Women’s ODI World Cup 2025) জয় করে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল (Indian Women Cricket Team)। দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে ফাইনালে ৫২ রানের দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল মিতালি রাজের উত্তরসূরি এই তরুণ দল। কিন্তু এই জয়ের পেছনে যে গল্পটা ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে জল এনে দিয়েছে, ক্রান্তি গৌড়ের (Kranti Goud) অবিশ্বাস্য জীবনের গল্প। মাত্র ২২ বছর বয়সেই নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ঘুওয়ারা গ্রামের এই মেয়েটি। কিন্তু এই সাফল্যের পথটা ছিল কাঁটায় ভরা। জীবনের নানা দুঃসময়, আর্থিক সংকট, পারিবারিক লড়াই, সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তিনি আজ ভারতের গর্ব।

আরও পড়ুন : IPL 2026, KKR, KL Rahul | আইপিএলে ঝড় তুলছে দলবদলের জল্পনা! রাহুল কেকেআরে? ক্লাসেন ছাড়ছেন হায়দরাবাদ?

ক্রান্তির পরিবারের গল্প যেন সিনেমার মতোই। বাবা মুন্না গৌড় (Munna Goud) পেশায় ছিলেন পুলিশ আধিকারিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক সময় তিনি সাসপেন্ড হন। সংসারে হঠাৎই নেমে আসে অনিশ্চয়তা। মা নীলম গৌড় (Neelam Goud) সাধারণ গৃহবধূ। সংসারের খরচ সামলাতে একসময় নিজের গয়নাগুলো বন্ধক রাখতে হয়েছিল তাঁকে। তবু মেয়ের স্বপ্নে ভাঙন ধরতে দেননি। মা নিজেই বলেছিলেন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে, “আমার মেয়ের হাতে ব্যাট ধরানোর সময় জানতাম, এটা শুধু খেলা নয়, ওর বাঁচার রাস্তা।” ক্রান্তির ছোটবেলা থেকেই ছিল ক্রিকেটের প্রতি অদম্য ভালোবাসা। গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে খেলতেন মাঠে মাঠে। সমাজের নানা বাঁকা কথা উপেক্ষা করে বাবা-মা দুজনেই মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বোন রোশনি গৌড় (Roshni Goud) এক সাক্ষাৎকারে জানান, “যখন দিদি ভারতীয় দলে সুযোগ পেল, তখন আমাদের ঘরে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ারও টাকা ছিল না। মা গহনা বিক্রি করলেন, ভাইরা দিনমজুরি করল, কিন্তু কেউই হাল ছাড়েনি।” এই কঠিন সময়েই ক্রান্তি নিজের লড়াই চালিয়ে যান। স্থানীয় ক্লাব থেকে শুরু করে রাজ্য দলের হয়ে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন নির্বাচকদের। অবশেষে ২০২৪ তিনি সালে জাতীয় দলে জায়গা পান। এবং সেই সুযোগই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২০২৫ বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স অসাধারণ। পুরো টুর্নামেন্টে ৯টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। পাকিস্তানের (Pakistan) বিরুদ্ধে ম্যাচে মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ক্রান্তি ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন। সেই ম্যাচটিই ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করে দেয়। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্রান্তির নিখুঁত বোলিংই ভারতকে শক্ত অবস্থানে রাখে। ভারতীয় ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur) ম্যাচ শেষে বলেন, “ক্রান্তি (Kranti) আমাদের দলের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। ওর গল্পটা শুধু ক্রিকেট নয়, সাহস আর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।” উল্লেখ্য, ক্রান্তি নিজেও ফাইনালের পর আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, “মা যেদিন গয়না বন্ধক রেখেছিলেন, সেদিন নিজেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, একদিন ওঁর মুখে হাসি ফেরাব। আজ বিশ্বকাপ ট্রফিটা আমার মায়ের জন্য।”
আজ সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণ করেছেন তিনি। ঘুওয়ারা গ্রামের মানুষজন এখন ক্রান্তির নামেই গর্বিত। ছোট শহরের মেয়েরা তাঁর পোস্টার হাতে নিয়ে বলছে, “আমরাও পারব।”

এই জয়ে ভারতের মহিলা ক্রিকেট এক নতুন অধ্যায় শুরু করল। ক্রান্তির মতো মেয়ে প্রমাণ করেছেন, যেখানে ইচ্ছা, সেখানে উপায়। পারিবারিক কষ্ট, আর্থিক অভাব, সমাজের বাঁধা কিছুই থামাতে পারেনি তাঁর স্বপ্নপূরণ। তাঁর গল্প আজ কোটি মেয়ের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। যেমন এক ক্রিকেট বিশ্লেষক লিখেছেন, “ক্রান্তি গৌড় শুধু বল হাতে উইকেট নেননি, ভাঙন ধরানো সমাজের মনেও নতুন স্বপ্ন জাগিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে ক্রান্তির নাম তাই এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে, একটি মেয়ে, তিনি প্রমাণ করেছেন, সাফল্য কিনে পাওয়া যায় না; লড়াই করে নিতে হয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Pratika Rawal ICC, Pratika Rawal no medal | ৩০৮ রান করেও মেডেলহীন! প্রতীকা রাওয়ালকে ঘিরে প্রশ্নে সরগরম ক্রিকেট দুনিয়া

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন