সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ১ নভেম্বর ২০২৫: বঙ্গোপসাগরের উপর সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মন্থা (Cyclone Mantha)-এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে টানা কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টির ফলে একাধিক জেলা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তবে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department – IMD) জানিয়েছে, আজ থেকে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া ধীরে ধীরে উন্নতির পথে। যদিও উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। আইএমডি-এর সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, সাইক্লোন মন্থার অবশিষ্টাংশ বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থান করছে। এই নিম্নচাপটি ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে, তবে এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের চারটি জেলায় দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) এবং আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) আজ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ল্যান্ডস্লাইডের (Landslide) আশঙ্কা থাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, “হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৮ সেন্টিমিটার ছুঁয়েছে। এর মধ্যে জলপাইগুড়ির মালবাজার ও দার্জিলিংয়ের সুকনা এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।” উত্তরবঙ্গে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৯ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে জানা গিয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে, সঙ্গে বজ্রপাত ও ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা।

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলের ল্যান্ডস্লাইড-প্রবণ এলাকাগুলো থেকে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। কালিম্পং জেলা প্রশাসক (District Magistrate, Kalimpong) জানিয়েছেন, “গত বছরের মতো বিপর্যয় এড়াতে আমরা আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছি। উদ্ধারকারী দল ও এনডিআরএফ (NDRF) প্রস্তুত রয়েছে।” অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। কলকাতা (Kolkata), হাওড়া (Howrah), হুগলি (Hooghly), বীরভূম (Birbhum), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) এবং পশ্চিম বর্ধমান (West Burdwan)-এ আজ আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় বর্তমান তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। আর্দ্রতা ৭৫-৮৫% পর্যন্ত থাকতে পারে, যার ফলে গরম-আর্দ্র অনুভূতি থাকবে। দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ৭-৯ কিমি/ঘণ্টা বেগে বাতাস বয়ে যাবে।আইএমডি জানিয়েছে, ২ নভেম্বর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আরও কমবে, এবং ৩ নভেম্বরের পর রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় শুকনো আবহাওয়া ফিরে আসবে। এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, “মনথা-পরবর্তী নিম্নচাপটি দ্রুত বিলীন হচ্ছে। ফলে বৃষ্টি কমে আসবে। তবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে আগামী ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকা জরুরি।”
দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে পর্যটকদের পাহাড়ি রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়াতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেল ও সড়ক পথে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে ঘূর্ণিঝড় মনথা-র প্রভাবে গোটা পূর্বভারতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। ওডিশা (Odisha), ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) এবং পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশে একাধিক জায়গায় জল জমে জনজীবন ব্যাহত হয়। কলকাতার একাধিক রাস্তা ও আন্ডারপাসেও জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। তবে এখন রাজ্য জুড়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শীতের আগমনী বার্তা মিলতে শুরু করবে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে রাতের তাপমাত্রা ১৮-২০ ডিগ্রিতে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে আইএমডি-র পরামর্শ, “উত্তরবঙ্গে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকুন, পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। দক্ষিণবঙ্গে আংশিক মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বড় কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই।”
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত




