সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহারে ফের একবার আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department – IMD)। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট করে বলেছে, “Day 1 (valid till 0830 hrs IST of 01 November 2025): Very heavy rainfall very likely at isolated places over East Champaran, Sitamarhi, Sheohar, Madhubani, Supaul, Araria, and Kishanganj. Heavy rainfall very likely at isolated places over Purnea, Madhepura, Saharsa, Khagaria, Muzaffarpur, Darbhanga, Gaya, Nawada, Lakhisarai, Sheikhpura, Nalanda, Jamui, Samastipur, Saran, Siwan, and Vaishali.”

এই বার্তা অনুযায়ী, রাজ্যের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে বিশেষ করে ইস্ট চম্পারণ (East Champaran), মধুবনী (Madhubani), সুপৌল (Supaul), আরারিয়া (Araria) এবং কিষানগঞ্জে (Kishanganj) অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ণিয়া (Purnea), সাহারসা (Saharsa), খগাড়িয়া (Khagaria), মুজাফফরপুর (Muzaffarpur), দরভাঙ্গা (Darbhanga) এবং গয়া (Gaya) সহ দক্ষিণ বিহারের বেশ কিছু জেলায়ও প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের এই সতর্কবার্তা রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর (Disaster Management Department) এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রেখেছে। পাটনা (Patna) মেট অফিস জানিয়েছে, “উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে (Bay of Bengal) সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপ দ্রুত সক্রিয় হয়ে বিহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে।”

আবহাওয়া দফতর নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। নদীবিধৌত এলাকা যেমন গঙ্গা (Ganga), কোসি (Kosi), বাঘমতী (Bagmati) এবং কামলা (Kamla)-এর তীরবর্তী অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সুপৌল, আরারিয়া এবং মধুবনী জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে জলস্তর দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য যে, প্রশাসন ইতিমধ্যেই জেলা পর্যায়ে রিলিফ টিম মোতায়েন করেছে। বিহার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (Bihar Disaster Management Authority) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রতিটি ব্লক ও পঞ্চায়েত পর্যায়ে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষকে নদীর পাড়ে বা জলপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
বৃষ্টিপাতের কারণে ট্রেন চলাচল, সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। পূর্ব-মধ্য রেলওয়ে (East Central Railway) সূত্রে জানা গিয়েছে, দরভাঙ্গা ও সাহারসা রুটে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পরিকল্পনা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে, কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। এখনো রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চলে ধান কাটার কাজ চলমান। এই সময় ভারী বর্ষণে ফসল নষ্টের আশঙ্কা প্রবল। মুজাফফরপুর ও সমস্থিপুর (Samastipur) জেলার চাষিরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি “প্রি-সাইক্লোনিক ডেভেলপমেন্ট”-এর অংশ হতে পারে, যা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclonic System) রূপ নিতে পারে। যদিও IMD এখনই ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঘোষণা করেনি, তবে দক্ষিণ-পূর্ব দিকের বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দুর্যোগ ম্যানেজমেন্ট সেলকে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিদ্যুৎ, জল এবং যোগাযোগব্যবস্থার জরুরি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও প্রতিটি জেলায় প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে আকস্মিক দুর্ঘটনা বা বজ্রপাতের ঘটনায় দ্রুত সেবা প্রদান সম্ভব হয়।

রাজ্যের মানুষকে এই সময় ঘরের বাইরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাত বা বন্যার ঝুঁকি থেকে বাঁচতে উঁচু স্থান ও পাকা ঘরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। এই সময় সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি, দুইয়ের ওপরই নির্ভর করছে বিহারের আগামী ৪৮ ঘণ্টার নিরাপত্তা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে সময়মতো সতর্কতা ও পরিকল্পনা গ্রহণই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে। আবহাওয়া দফতরের আপডেট এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চললেই এই সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত




