West Midlands rape case | ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে বর্ণবিদ্বেষের তীব্রতা, অভিযুক্তের খোঁজে তৎপর ব্রিটিশ পুলিশ

SHARE:

হরিয়ানার গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডে চলন্ত গাড়িতে তিন ঘণ্টা ধরে গণধর্ষণের অভিযোগ। রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয় ২৫ বছরের তরুণীকে, গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস : যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস (West Midlands) আবারও কেঁপে উঠেছে এক নির্মম যৌন নির্যাতনের ঘটনায়। ২০ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে ব্রিটিশ-পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ ঘটনাটিকে “বর্ণগতভাবে প্রণোদিত (racially aggravated)” আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এক শ্বেতাঙ্গ পুরুষ সন্দেহভাজনকে (white male suspect) খুঁজে বের করার জন্য বড়সড় অভিযান শুরু করেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় পার্ক হল (Park Hall) এলাকার রাস্তায় এক তরুণীকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি কাছাকাছি একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে আক্রমণ ও ধর্ষণ করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও মানসিকভাবে গভীর আঘাতপ্রাপ্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা সুপারিনটেনডেন্ট রোনান টাইর (Detective Superintendent Ronan Tyrer) বলেছেন, “এটি এক তরুণীর উপর নৃশংস ও জঘন্য আক্রমণ। আমরা অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য দিনরাত কাজ করছি। ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধই নয়, আমাদের সমাজের মৌলিক মানবিক মূল্যবোধের উপর আঘাত।”

তিনি আরও যোগ করেছেন, “আমরা প্রত্যেককে অনুরোধ করছি, যদি কেউ সেই সময় এলাকায় কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহন দেখে থাকেন, অথবা যদি কারও কাছে ড্যাশক্যাম (dashcam) বা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ থাকে, তবে অবিলম্বে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তির একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, ছোট চুল ও কালো পোশাক পরা অবস্থায় এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তদন্তকারীরা জানান, এই আক্রমণটি জাতিগত বৈরিতার প্রেক্ষিতে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে, ঘটনাটি অন্য কোনও চলমান তদন্তের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে সাম্প্রতিককালে একই অঞ্চলে একাধিক ঘৃণা-প্রণোদিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় পাঞ্জাবি সংগঠনগুলির এক নেতা, গুরুপ্রীত সিং ধালিওয়াল (Gurpreet Singh Dhaliwal), বলেন, “আমরা ক্রমশ লক্ষ্য করছি যে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারীরা এমন আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এই ঘটনাগুলি শুধু ভুক্তভোগীদের নয়, পুরো সম্প্রদায়ের মানসিক নিরাপত্তা নষ্ট করছে।” উল্লেখ্য,  ওল্ডবেরি (Oldbury) এলাকায় গত মাসেও এক ব্রিটিশ শিখ (British Sikh) নারীকে একইভাবে “বর্ণগতভাবে প্রণোদিত ধর্ষণ”-এর শিকার হতে হয়েছিল। যদিও সেই ঘটনার সন্দেহভাজনদের পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়, এই নতুন ঘটনা স্থানীয়দের আতঙ্কিত করে তুলেছে। ওয়ালসাল (Walsall) পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট ফিল ডলবি (Chief Superintendent Phil Dolby) বলেন, “ওয়ালসাল একটি বৈচিত্র্যময় অঞ্চল, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। এই জঘন্য ঘটনাটি আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আমরা সকলের সঙ্গে কথা বলছি, তাদের উদ্বেগ শুনছি এবং এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করছি।” তিনি আরও জানান, পরবর্তী কয়েক দিনে পার্ক হল ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে, ফরেনসিক টিম (Forensic Team) এবং জননিরাপত্তা ইউনিট (Public Safety Unit) -এর বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ কুড়ি-তম কিস্তি)

স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী তরুণী পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত এবং কয়েক বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে বসবাস করছেন। তিনি একজন কলেজ শিক্ষার্থী, যিনি সপ্তাহান্তে পার্ট-টাইম কাজ করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তরুণীর বাবা-মা ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং পুলিশি নিরাপত্তা চেয়েছেন। ব্রিটিশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (British Human Rights Watch)-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, “জাতিগত ঘৃণার কারণে যৌন আক্রমণ একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার ইস্যু নয়, বরং সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য ও হিংসার প্রতিফলন।”

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছে, যদি কেউ ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিনে থাকেন বা ঘটনাস্থলের আশেপাশে সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করে থাকেন, তবে অবিলম্বে পুলিশের ১০১ নম্বরে যোগাযোগ করতে। একইসঙ্গে, গোপনীয়ভাবে তথ্য পাঠানোর জন্য অনলাইন পোর্টালও খোলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ঘটনার জেরে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ভারতীয় ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে বর্ণবাদবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। অভিবাসী সংগঠনগুলির দাবি, সরকারকে এখনই বর্ণবিদ্বেষমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কড়া আইন আনতে হবে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে বহু সংস্কৃতির সহাবস্থান সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে পুলিশ অপরাধীকে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে এই ঘটনা ব্রিটেনে সংখ্যালঘু নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

ছবি : প্রতীকী 

আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan viral interview, Bollywood inspirational story | আচমকা শাহরুখের গালে চড়! কোন ভুলে প্রকাশ্যে অপমানিত হতে হয়েছিল কিং খানকে?

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন