সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা, ২৬ অক্টোবর: ভোটের আগে বিহারের (Bihar) রাজনীতি আরও উত্তপ্ত। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) নেতা এবং ইন্ডিয়া ব্লকের (INDIA Bloc) মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav) রবিবার ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে তাঁর দল ক্ষমতায় এলে ওয়াকফ (সংশোধন) আইন সম্পূর্ণ বাতিল করা হবে। এক নির্বাচনী সভায় তেজস্বী বলেন, “বিহারের মানুষ ধর্মীয় বিভাজন নয়, ন্যায় ও উন্নয়ন চায়। এই ওয়াকফ সংশোধন আইনকে আমরা ক্ষমতায় এসে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেব।”
তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। বিজেপি (BJP) নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, তেজস্বী ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছেন। অন্যদিকে ইন্ডিয়া ব্লকের শরিকরা বলছেন, এটি সংবিধাননিষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষতার ঘোষণা। তেজস্বী আরও প্রতিশ্রুতি দেন, পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার প্রতিনিধিদের ভাতা দ্বিগুণ করা হবে, যাতে “গ্রামীণ উন্নয়নের মূল যোদ্ধারা” মর্যাদা পান।
এদিন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী–লেনিনবাদী) লিবারেশন [CPI (ML) Liberation] তাদের সংকল্প পত্র প্রকাশ করেছে। এতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, ভূমিহীনদের মধ্যে ২১ লক্ষ একর জমি পুনর্বণ্টন, কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমিকদের ঋণ মওকুফ, এবং সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য ৬৫% সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। দলের এক নেতা বলেন, “আমরা শুধু সরকার নয়, সমাজ বদলাতে চাই।” অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) পাল্টা বলেন, “২০০৫ সালের পর থেকে বিহার আইনের শাসন ও উন্নয়নের পথে এসেছে। আজ বিহারি হওয়া গর্বের বিষয়।” তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা অতীতে রাজ্যকে অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছিল, আর এখন উন্নয়নের ক্রেডিট নিতে চায়।
এদিকে, নীতীশের দল জেডি(ইউ) (JDU) ১৬ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন এক বর্তমান বিধায়ক ও দুই প্রাক্তন মন্ত্রী। কারণ তাঁরা এনডিএ (NDA) প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে লড়ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-এর বিহার সফর ঘিরেও শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। তেজস্বী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বিহারকে প্রতারণা করতে আসছেন। কেবল সফর আর সমাবেশে বাস্তবতা বদলাবে না।” বিজেপি এই বক্তব্যের নিন্দা করেছে। দলটির মুখপাত্র বলেন, “যে পরিবার রাজ্যকে একসময় অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল, তারাই আজ উন্নয়নের পাঠ পড়াচ্ছে!” অন্যদিকে জনশক্তি জনতা দলের (JJD) নেতা তেজ প্রতাপ যাদব (Tej Pratap Yadav) আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, “মহুয়ায় (Mahua) এসে দেখুন, মানুষ কাদের পাশে আছে। কেউ আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, তাঁর দলের লক্ষ্য শুধুমাত্র ক্ষমতা নয়, “জনতার জন্য কাজ করা।” তেজ প্রতাপ জানান, “৬ ও ১১ নভেম্বর ভোট হবে। ১৪ নভেম্বর ফলাফল বেরোলেই মানুষ জানবে কারা সত্যিকারের লড়ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার বিহারের নির্বাচন এক ঐতিহাসিক মুখোমুখি, একদিকে ইন্ডিয়া ব্লক-এর যুব নেতৃত্ব, অন্যদিকে অভিজ্ঞ প্রশাসক নীতীশ কুমার ও এনডিএ শিবির। বিশেষজ্ঞ রাজীব ঝা (Rajeev Jha) বলেন, “ওয়াকফ বিল বাতিলের প্রতিশ্রুতি শুধুই ধর্মের ইস্যু নয়, এটি সংবিধাননিষ্ঠতা বনাম রাজনীতির প্রশ্নে দাঁড়িয়েছে।” উল্লেখ্য, ভোটের আগে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সংরক্ষণ ও দুর্নীতির প্রশ্নেও আলোচনা তীব্র হয়েছে। তরুণ ভোটারদের (যাদের প্রায় ৩৫%) মতামতই এবার নির্বাচন নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে মোদী-নীতীশের অভিজ্ঞ প্রশাসন, অন্যদিকে তেজস্বী-তেজ প্রতাপের নতুন প্রজন্মের আকর্ষণ, দুই প্রজন্মের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার বিহার।
রাজনৈতিক মানচিত্র
মোট আসন: 243
জোটের ভাগ:
- INDIA Bloc (RJD, INC, CPI(ML)) → প্রায় 118–125 আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা
- NDA (BJP + JD(U)) → 105–110 আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
- JJD, AIMIM, Independents → 10–15 আসনে প্রভাবশালী
হটস্পট জেলা: পাটনা, গয়া, ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর
মুখ্য ইস্যু: বেকারত্ব, ওয়াকফ আইন, সংরক্ষণ, কৃষিঋণ, দুর্নীতি
ছবি: সংগৃহীত




