সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দুর্গাপুরের ভয়ঙ্কর গণধর্ষণকাণ্ডের পর ডাক্তারি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ (Bankura Sammilani Medical College) কর্তৃপক্ষ। কলেজ ও হস্টেল এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য একগুচ্ছ নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অর্পণকুমার গোস্বামী (Arpankumar Goswami) জানান, “রাত ১১টার পর হস্টেল থেকে ছাত্রছাত্রীদের বের হতে হলে নিরাপত্তারক্ষীকে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। নিরাপত্তারক্ষী তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন। আমরা ডাক্তারি পড়ুয়াদের চলাচলে বাধা দিচ্ছি না, তবে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।” উপাধ্যক্ষ আরও জানান, “ছাত্রীদের হস্টেলে ক্যান্টিন রয়েছে। আগে তারা রাতের খাবারের জন্য হস্টেল রবিনের ক্যান্টিনে যেত। এখন থেকে রাতের কোনো ক্যান্টিন হস্টেল রবিনে খোলা থাকবে না। কলেজ হাসপাতাল চত্বরে সেন্ট্রাল ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে, যেখানে ছাত্রীরা খাবার সেবা পাবেন।”
মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজে বর্তমানে ১০০০ জন স্নাতক স্তরের ছাত্র, ২০০ জন ইন্টার্ন, ৭০ জন হাউস স্টাফ এবং স্নাতকোত্তর স্তরের পিজিটি ও সিনিয়র রেসিডেন্ট মিলিয়ে প্রায় ৩২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। ফলে মোট ডাক্তারি পড়ুয়ার সংখ্যা ১৬০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৪০০ জন ছাত্রী হস্টেলে থাকে। নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কলেজ ও হাসপাতালের দুটি ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্ব রয়েছে। হস্টেলগুলোও ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থিত। মেন রোড ধরে ছাত্রছাত্রীরা কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করে। এর আগে ছাত্রী হস্টেলে বহিরাগত অনুপ্রবেশ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জেআরজি কর কাণ্ডের সময়ও অনুরূপ পরিস্থিতি ঘটেছিল।এছাড়াও কলেজ প্রশাসন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘পিঙ্ক মোবাইল ভ্যান’ ও অন্যান্য টহলবাহিনী হস্টেল ও কলেজ হাসপাতাল এলাকায় নিয়মিত টহল দেবে। বাঁকুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকেও টহলদারি বৃদ্ধি করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
মেডিকেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নির্যাতিত ছাত্রী রাতে বন্ধুর সঙ্গে বের হওয়ার সময় জঙ্গলে আক্রান্ত হন। এই ঘটনাই হস্টেল ও কলেজ এলাকায় কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, নতুন নিরাপত্তা বিধি ও নিয়মিত পুলিশি টহলদারি দুর্গাপুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, “এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষের তৎপরতা প্রশংসনীয়।” বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ প্রশাসন ইতিমধ্যে ছাত্রছাত্রীদের নির্দেশিকা পাঠানোর কাজ শুরু করেছে। হস্টেল ও ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি, ডাক্তারি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিও চালু করা হবে।প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীর পরিচয়পত্র পরীক্ষা ও টহলদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে কলেজ কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে রাতের সময়ে হস্টেল ও হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে পড়াশোনা ও চিকিৎসা অনুশীলনে মনোযোগ দিতে পারবে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “ডাক্তারি শিক্ষার্থীদের হস্টেল ও কলেজ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত টহল ও পরিচয়পত্র যাচাই হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।” বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষও মনে করছে, কলেজের সম্প্রসারণ ও হস্টেল ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bankura Flood 2025 | দ্বারকেশ্বর গিলে নিল প্রাণ, টানা বৃষ্টিতে ভাসছে বাঁকুড়া, সেতু-রাস্তা বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন



