Ajit Agarkar News, Rohit Kohli World Cup 2027 | ২০২৭ বিশ্বকাপে রোহিত-কোহলির ভাগ্য অনিশ্চিত, শামিকে ঘিরে বিতর্কে মুখ খুললেন আগরকর

SHARE:

Ajit Agarkar News, Rohit Kohli World Cup 2027 | ২০২৭ বিশ্বকাপে রোহিত-কোহলির ভাগ্য অনিশ্চিত, শামিকে ঘিরে বিতর্কে মুখ খুললেন আগরকর

সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় ক্রিকেটে আবারও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে (World Cup 2027) কি দেখা যাবে রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলিকে (Virat Kohli)? এই প্রশ্নের উত্তর যেন বেশ সোজাসাপ্টা দিলেন ভারতীয় দলের প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর (Ajit Agarkar)। শনিবার ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট’ -এ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দু’বছর পরের বিশ্বকাপে কে খেলবেন বা কে নয়, সেই সিদ্ধান্ত এখনই বলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, ফিটনেস বিতর্কে মুখ খোলেন তিনি, যা ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন পেসার মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)।আগরকর বলেন, “রোহিত ও কোহলি দু’জনেই বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলের সদস্য। দু’জনই অসাধারণ ক্রিকেটার, ভারতীয় ক্রিকেটের সম্পদ। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু বলা যায় না। দু’বছর অনেক সময়। কে জানে, হয়তো কোনও তরুণ ক্রিকেটার ওদের জায়গা দখল করে নেবে।” তাঁর কথায়, “আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক ম্যাচে কাউকে অযথা পরীক্ষা করা উচিত নয়। কেউ যদি খেলছে, তবে তাকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করতে হবে, শুধু রান নয়, দলের জন্য ট্রফি জেতাতেও যে ভূমিকা রাখে, সেটাও বিবেচ্য। কেউ যদি অস্ট্রেলিয়ায় তিনটে শতরানও করে, তাতেই বিশ্বকাপের জায়গা পাকা হয়ে যায় না। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সময় ও পরিস্থিতি বুঝে।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, আগরকর ভবিষ্যৎ নির্বাচনের নীতি নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে চান না। তাঁর মতে, “দল নির্বাচনের কাজটা অনেক দায়িত্বের, যেখানে আবেগ নয়, যুক্তিই মুখ্য।”

২০২৭ বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর। শামির ফিটনেস বিতর্কেও দিলেন স্পষ্ট জবাব।Ajit Agarkar clarifies Rohit Sharma and Virat Kohli’s 2027 World Cup future, responds to Mohammed Shami’s fitness controversy with a bold statement.
প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি
ছবি : সংগৃহীত

এদিকে, অন্য এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মহম্মদ শামি। সম্প্রতি তিনি সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভারতীয় দল বা নির্বাচকেরা আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। আমার ফিটনেস সম্পর্কে জানতে চাননি। আমি তো আর নিজে থেকে গিয়ে বলব না যে আমি ফিট। এটা তাদের কাজ। আমি যদি চার দিনের রঞ্জি ট্রফির ম্যাচ খেলতে পারি, তবে ৫০ ওভারের ম্যাচও নিশ্চয়ই খেলতে পারি। যদি ফিট না থাকতাম, এনসিএ-তে (NCA) থাকতাম, রঞ্জির দলে নয়।” শামির বক্তব্যে ক্ষোভের সুর ছিল আরও স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমার ফিটনেস সবাই রঞ্জিতে দেখবে। আমি কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নই। এত বছর ধরে ভারতের হয়ে খেলেছি, প্রতিটা ম্যাচে নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছি। আশা করেছিলাম, নির্বাচকেরা অন্তত কথা বলবেন, কিন্তু কেউ তা করেননি।”

এই মন্তব্য নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয় ক্রিকেটমহলে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, শামির মতো সিনিয়র খেলোয়াড়ের সঙ্গে বোর্ডের যোগাযোগ না থাকা কি ঠিক? এ প্রসঙ্গে শান্ত কিন্তু দৃঢ় জবাব দেন আগরকর। তিনি বলেন, “যদি শামি সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করত, আমি উত্তর দিতে পারতাম। এখানে আমার সামনে থাকলেও বলতাম। সমাজমাধ্যমে ও কী বলেছে, আমি জানি না। জানতে পারলে হয়তো ওকে ফোন করতাম। আমার ফোন সব সময় ক্রিকেটারদের জন্য খোলা। গত কয়েক মাসে বহু ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতের হয়ে শামি অসাধারণ খেলোয়াড়। তবে যদি কিছু বলতেই হয়, সেটা আমাকে সরাসরি বলা উচিত ছিল। ইংল্যান্ড সিরিজের আগেও আমি বলেছিলাম, শামি যদি ফিট থাকত, নিশ্চয়ই দলে থাকত। দুর্ভাগ্যবশত, ও পুরোপুরি ফিট ছিল না। ঘরোয়া মরসুম এখনই শুরু হয়েছে, আর আমার জানা মতে, তখন ওর পূর্ণ ফিটনেস ফিরে আসেনি।”

আরও পড়ুন : Harmanpreet Kaur, Women’s World Cup 2025, England vs India Women | হরমনপ্রীতদের সামনে অ্যাসিড টেস্ট: ইংল্যান্ড ম্যাচেই সেমিফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ ভারতীয় মেয়েদের

এই মন্তব্যের পর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচক কমিটি ও শামির মধ্যে যোগাযোগে কিছু ঘাটতি ছিল, তবে আগরকর সেটাকে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান না। বরং তিনি বিষয়টিকে পেশাদারভাবে সামলানোর চেষ্টা করছেন। নিজের ভূমিকা নিয়েও খোলামেলা মত দিয়েছেন আগরকর। প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে ধারাভাষ্যকার, আর এখন নির্বাচক, এই যাত্রাকে তিনি বলেছেন জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়। তাঁর ভাষায়, “নির্বাচক হিসাবে ১৫ জনের দল বেছে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন কাজ। আমাদের দেশে এখন যে মানের ক্রিকেটার উঠে আসছে, তাতে ১৫ জন নির্ধারণ করা সত্যিই কঠিন। অনেক সময় এমনও হয়, সেরা খেলোয়াড়কেও বাইরে রাখতে হয় দলের ভারসাম্যের জন্য। সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচক হওয়া মানেই বিশাল দায়িত্ব নেওয়া। একটা সিদ্ধান্ত অনেক ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার বদলে দিতে পারে, কখনও ভাল, কখনও খারাপ দিকে। তাই নিজের সেরা কাজ করাটাই আমার লক্ষ্য।”

আগরকরের এই সোজাসাপ্টা বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, তিনি কাউকে খুশি রাখার জন্য নীতি বদলাতে চান না। বরং দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎই তাঁর মূল অগ্রাধিকার। তাই ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে রোহিত-কোহলির ভাগ্য এখনই নির্ধারিত নয়। আর শামির মতো সিনিয়র পেসারদের ক্ষেত্রেও ফিটনেসই থাকবে চূড়ান্ত মানদণ্ড। উল্লেখ্য, ভারতীয় ক্রিকেট এখন এক রূপান্তরের পথে। আগরকর যেমন বলছেন, “সময়ই বলে দেবে কে কোথায় থাকবে।”

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Test Retirement | বিরাট কোহলির অবসর নিয়ে মন্তব্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন