Body hair removal | অবাঞ্ছিত লোম বিদায়: পুজোর আগে শরীরের বাড়তি লোম থেকে মুক্তির কার্যকর উপায়

SHARE:

সৌমি নন্দ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : শরীরের অবাঞ্ছিত লোম এমন এক সমস্যা, যা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে দেয়। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মুখ, হাত, পা বা আন্ডারআর্মে অতিরিক্ত লোম শুধু সৌন্দর্যেই নয়, আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। তবে চিন্তার কারণ নেই। আধুনিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে ঘরোয়া টোটকা—সব মিলিয়ে এখন অবাঞ্ছিত লোম দূর করার নানান সমাধান রয়েছে। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শরীরের লোম কমানো বা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে অবশ্যই নিজের ত্বকের ধরন ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।” পুজোর আগে নিজের লুক নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাইলে রইল পরীক্ষিত কয়েকটি টিপস।

>প্রথমেই রয়েছে লেজার হেয়ার রিমুভাল। আধুনিক সৌন্দর্য চিকিৎসার মধ্যে এটি এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। লেজারের আলো সরাসরি লোমের গোড়ায় প্রয়োগ করা হয়, যা ফলিকল দুর্বল করে দেয়। এর ফলে নতুন লোম গজানো প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মিত কয়েকটি সেশনের পর স্থায়ীভাবে লোমের ঘনত্ব কমে যায়। এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কথায়, “লেজার হেয়ার রিমুভাল একবার করলে দীর্ঘদিন আর বাড়তি ঝামেলা নিতে হয় না।” যদিও খরচ তুলনামূলক বেশি, তবে ফল দীর্ঘস্থায়ী।
>এর পরেই আসে ওয়াক্সিং। এটি বহু বছরের প্রচলিত উপায়। গরম বা ঠাণ্ডা ওয়াক্স ব্যবহার করে লোম গোড়া থেকে তুলে ফেলা হয়। এর সুবিধা হল একবার ওয়াক্স করলে অন্তত ৩-৪ সপ্তাহ লোমহীন ত্বক পাওয়া যায়। পাশাপাশি, নিয়মিত ওয়াক্সিং করলে লোম পাতলা হয়ে আসে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।

>শেভিং যদিও সবচেয়ে দ্রুত এবং সহজ সমাধান, তবে এর স্থায়িত্ব খুব কম। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার লোম গজিয়ে ওঠে। সুবিধা হল, এটি একেবারেই ব্যথাহীন এবং হাতে-কালেও করা যায়। তবে অনেকের অভিযোগ, ঘন ঘন শেভ করলে লোম মোটা ও শক্ত মনে হয়।
>ডিপিলেটরি ক্রিমও অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে। বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এই হেয়ার রিমুভাল ক্রিম। এগুলো ত্বকের উপরিভাগের লোম গলিয়ে দেয়। ব্যবহারে সুবিধা থাকলেও নিয়মিত ব্যবহার করলে কারও কারও ত্বকে অ্যালার্জি বা র‍্যাশ হতে পারে। তাই আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া জরুরি।
>প্রাকৃতিক উপায়ে সমাধান চাইলে ঘরোয়া প্যাক কাজে দেয়। হলুদ ও বেসনের প্যাক বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেসন, হলুদ ও দুধ মিশিয়ে শরীরে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ঘষে তুললে লোম কমে আসে। নিয়মিত ব্যবহার করলে শুধু লোমই কমে না, ত্বকও হয় উজ্জ্বল।

>চিনি ও লেবুর মিশ্রণও কার্যকর ঘরোয়া উপায়। এটি একরকম হালকা ওয়াক্সের মতো কাজ করে। সপ্তাহে এক-দুবার ব্যবহার করলে লোম ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে আসে।

ডায়েট ও হরমোন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীরে অতিরিক্ত লোমের সমস্যা আসলে হরমোনজনিত। বিশেষ করে পিসিওডি (PCOD) বা থাইরয়েডের মতো সমস্যায় লোমের বৃদ্ধি বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, “সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও হরমোন ব্যালান্স বজায় রাখা গেলে অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।” উল্লেখ্য, পুজোর আগে তাই যদি স্থায়ী সমাধান চান, লেজার বা ইলেক্ট্রোলাইসিসে ভরসা রাখতে পারেন। আর দ্রুত ও সহজ সমাধান চাইলে শেভিং বা ওয়াক্সিংই যথেষ্ট। আবার প্রাকৃতিক উপায়ে ধীরে ধীরে সমাধান চাইলে ঘরোয়া প্যাক ও হোম রেমেডিই আপনার ভরসা হতে পারে। সবশেষে বলা যায়, কোন পদ্ধতি আপনার জন্য সেরা হবে তা নির্ভর করে আপনার বাজেট, ত্বকের ধরণ ও প্রয়োজনের উপর।

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Begun Posto Recipe | এমন স্বাদের বেগুন পোস্ত রেসিপি, একবার খেলে আরও খাওয়ার জন্য আঙুল চাটবেন

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন