জয়ী বিশ্বাস, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সামনের দরজায় দাঁড়িয়ে উৎসবের মৌসুম। দুর্গাপুজো মানেই লম্বা ছুটি, জমজমাট আনন্দ আর একেবারে পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময়। কেউ পাহাড়, কেউ আবার সমুদ্রের টানে ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেন অনেক আগেই। শরতের এই সময়টা ভ্রমণের জন্য একেবারে উপযুক্ত, বর্ষা পেরিয়ে পাহাড়ি রাস্তা শুকনো, জঙ্গল সাফারি গুলো আবার খুলছে, সমুদ্রের ঢেউতেও রোদের খেলা। কিন্তু ভ্রমণের মাঝেই যদি হঠাৎ করে পিরিয়ডস শুরু হয়ে যায়, তখন যে আনন্দ নিমেষে ফিকে হয়ে যেতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

শরীরের অস্বস্তি, মুড সুইং, ব্যথা আর বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার ঝক্কি, সব মিলিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা মাটি হয়ে যায়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা (Health Experts) বলছেন, কিছু সহজ প্রস্তুতি থাকলে আর কিছু প্রাকৃতিক কৌশল মেনে চললে পিরিয়ডস কখনওই আনন্দে ভাটা ফেলতে পারবে না।চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা (Nutritionists) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিচ্ছেন, যা মেনে চললেই ছুটির ভ্রমণ হবে আরামদায়ক ও নিশ্চিন্ত।

প্রথমেই, যাত্রার আগে স্যানিটারি সামগ্রী যেমন স্যানিটারি প্যাড, ট্যাম্পন বা মেনস্ট্রুয়াল কাপ সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। বিশেষত যারা সাঁতার কাটার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য ট্যাম্পন বা কাপ অপরিহার্য। “যথেষ্ট পরিমাণ স্যানিটারি প্রোডাক্ট সঙ্গে রাখলে বাইরে গিয়ে অস্বস্তি বা সমস্যায় পড়তে হয় না,” বলছেন গাইনোকলজিস্ট ডাঃ রুচি মেহতা।

আবার শরীর আর্দ্র রাখা ভ্রমণের সময় খুব জরুরি। পর্যাপ্ত জল খেলে শুধু ফোলাভাব কমে না, তা পেটের ব্যথাও অনেকটাই হালকা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম জল শরীরের মাংসপেশি শিথিল করে আর আরাম দেয়। তাই ব্যাগে একটি ফ্লাস্ক বা বোতল ভরে রাখা যায় গরম জল। অন্যদিকে, হালকা শারীরিক কার্যকলাপও উপকারি। যোগব্যায়াম, হালকা স্ট্রেচিং বা ধীরে হাঁটাহাঁটি করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ব্যথা কমে। “ভ্রমণের মাঝেও যদি হালকা হাঁটাহাঁটি বা স্ট্রেচিং করা যায়, তাহলে শরীর অনেকটাই রিল্যাক্স থাকে,” জানাচ্ছেন ফিটনেস ট্রেনার অনন্যা দত্ত। প্রয়োজনে ব্যথানাশক ওষুধ কিংবা হিটিং প্যাড সঙ্গে রাখা যায়। গরম জলের ব্যাগ পেটে বা পিঠে দিয়ে রাখলে ব্যথা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এই সহজ পদ্ধতি অনেক মহিলাই কাজে লাগান।

পিরিয়ডসের সময় প্রাকৃতিক কিছু উপায়ও বেশ কার্যকরী হতে পারে। আদা বা ক্যামোমাইল চা ব্যথা কমাতে পরিচিত। অনেকে আবার তুলসী চা বা পেপারমিন্ট চাও ব্যবহার করেন। এগুলো শরীরকে প্রশান্ত করে এবং অস্বস্তি দূর করে। খাওয়াদাওয়ার দিকেও নজর রাখতে হবে। ভ্রমণে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত তেল-মশলাদার খাবার পিরিয়ডসের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু টাটকা ফলমূল, শাকসবজি ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।পোশাকের ক্ষেত্রে আরামকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ঢিলেঢালা তুলো বা রেয়ন কাপড় পিরিয়ডসের সময় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভাল। এগুলো শুধু আরামদায়কই নয়, তা দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার সময় কোনও অস্বস্তি তৈরি করে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মানসিক প্রস্তুতি। মাসিক একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তাই ভ্রমণকে ভয় না পেয়ে বরং আগে থেকে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে বেরোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। “পিরিয়ডস মানেই ছুটি বাতিল নয়, নিজের যত্ন নিলে আর কিছু কৌশল ব্যবহার করলে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ উপভোগ করাও সম্ভব,” বলছেন মনোবিদ স্নেহা সেনগুপ্ত।

সুতরাং এই দুর্গাপুজোর (Durga Puja) ছুটিতে যদি কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আগে থেকেই ব্যাগে রাখুন প্রয়োজনীয় স্যানিটারি সামগ্রী, হিটিং প্যাড, জল আর কিছু প্রাকৃতিক উপায়। তখনই আপনি বিন্দাস উপভোগ করতে পারবেন পাহাড়ি কুয়াশা, সমুদ্রের হাওয়া বা জঙ্গলের সাফারির রোমাঞ্চ, পিরিয়ডস কোনও বাধাই হয়ে দাঁড়াবে না।
সব ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : period pain relief exercises, period time gym workout | ঋতুস্রাব চলাকালীন ভুল শরীরচর্চায় বেড়ে যেতে পারে যন্ত্রণা, কী করলে মিলবে আরাম? বিশেষজ্ঞের পরামর্শে জেনে নিন সঠিক পথ




