সোমনাথ আচার্য ✪ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : তুলসী (Tulsi) হিন্দু ধর্মে যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের ঘরে তুলসী গাছ থাকা যেন এক আবশ্যিক প্রথা। অনেকে তুলসীকে শুধু পবিত্র গাছ ভাবেন না, তাঁরা বিশ্বাস করেন এই গাছ স্বয়ং দেবী তুলসী (Tulsi Devi)। তবে আয়ুর্বেদ অনুযায়ীও এই গাছের রয়েছে বহু গুণ। তুলসী গাছ রোগ প্রতিরোধ করে, বাতাস বিশুদ্ধ রাখে, এমনকি মানসিক শান্তিও আনে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন এই গাছকে স্রেফ সৌন্দর্য্যবর্ধক উপাদান হিসাবে রেখে দেওয়া হয়, অথচ তার সঠিক যত্ন নেওয়া হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম না মেনে তুলসী গাছ বসালে তার সুফলের বদলে জীবনে নেমে আসতে পারে নানান অশুভ প্রভাব।
বসানোর সময় এই দিকটিতে রাখতেই হবে তুলসী গাছ
বাস্তু শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে থাকেন, তুলসী গাছ বসানোর সবচেয়ে শুভ দিক হল উত্তর-পূর্ব কোণ (North-East direction) বা পূর্ব দিক (East direction)। ওই স্থানে গাছ রাখলে বাড়ির মধ্যে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ তৈরি হয়। কলকাতার বাস্তু বিশেষজ্ঞ শৌণক দত্ত (Shaunak Dutta) বলেন, “উত্তর-পূর্ব কোণ দেবস্থান বলেই পরিচিত। এখানে তুলসী গাছ রাখলে পরিবারের মধ্যে শান্তি, সুস্থতা ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।”
প্লাস্টিক নয়, ব্যবহার করুন মাটির টব
অনেকেই তুলসী গাছ রাখার সময় প্লাস্টিকের পটে গাছ বসিয়ে দেন, যা একেবারেই ভুল। তুলসীর শিকড় যেন নিঃশ্বাস নিতে পারে, তার জন্য মাটির টব (Clay Pot) বা উঁচু ইটের বেদিতে বসানো উত্তম। এতে গাছ সুস্থ থাকে ও সহজে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, এমন টব নির্বাচিত করুন যাতে গাছটি সূর্যের আলো পায় প্রতিদিন।
➤জল দেওয়া ও পুজো করার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে
তুলসী গাছে প্রতিদিন সকালে জল দেওয়া ও পুজো করাকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। তুলসী দেবীর প্রতি ভক্তিভাব প্রকাশ করতে ধূপ, প্রদীপ ও ফুল দেওয়া হয়ে থাকে বহু বাড়িতে। পঞ্জিকার বিশেষ দিনগুলিতে যেমন কার্তিক মাস, তুলসী পূর্ণিমা তখন তুলসীকে ঘিরে বিশেষ পুজোর আয়োজনও হয়।
➤শনিবার ও একাদশীতে ভুলেও তুলসী ছেঁড়ার চেষ্টা করবেন না
পুরাণ মতে, শনিবার (Saturday) ও একাদশী (Ekadashi) তিথিতে তুলসী গাছ স্পর্শ করাও অনুচিত, বিশেষ করে পাতা ছেঁড়া। তুলসী পুজোর আচার অনুসারে, এই দিনগুলিতে গাছকে পুজো করলেও, তা ছেঁড়ার বা ছোঁয়ার নিয়ম নেই। এমন কাজ করলে নাকি ভাগ্যে কুপ্রভাব পড়ে, এমনটাই বিশ্বাস বহু ধর্মপ্রাণ মানুষের।
➤তুলসীর নিচে ময়লা রাখলে হয় গুরুতর বাস্তু দোষ
বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলসী গাছ দেবতুল্য হওয়ায় তার নিচে কোনও আবর্জনা (Garbage), পলিথিন, জুতো বা ময়লা রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনটা করলে পরিবারে আর্থিক সমস্যা, অশান্তি ও রোগ-ব্যাধির প্রভাব বাড়তে পারে। শুচি পরিবেশ বজায় রাখা তাই সবচেয়ে জরুরি।
➤সূর্যাস্তের পর তুলসী গাছে জল দেবেন না
হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে, সন্ধ্যার পর তুলসী গাছে জল দেওয়া একেবারেই অশুভ। এতে গাছ নষ্ট হয় এবং বাস্তু দোষ তৈরি হতে পারে। তাই সকালবেলা সূর্যোদয়ের পরে জল দিন এবং সন্ধ্যার আগেই গাছের চারপাশ পরিষ্কার করুন।
➤তুলসী শুকিয়ে গেলে দ্রুত নতুন গাছ বসানো জরুরি
তুলসী গাছ শুকিয়ে গেলে, সেটিকে কখনও ফেলে দেওয়া উচিত নয়। বরং নদীতে বিসর্জন দেওয়া শুভ। এরপর দ্রুত একটি নতুন তুলসী গাছ লাগানো প্রয়োজন। মনে রাখা দরকার, ঘরের তুলসী গাছ যতটা পবিত্র, ততটাই সংবেদনশীল। যত্ন ও নিয়ম না মানলে তার আশীর্বাদ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন আপনি।
মনে রাখতে হবে, তুলসী গাছ শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, এটি বাস্তবিকভাবেও ঘরকে বিশুদ্ধ রাখে ও মনকে শান্ত করে। তবে সবটাই সম্ভব হয়, যদি নিয়ম মেনে তার দেখাশোনা করা হয়। না হলে, যে শুভ শক্তি টানার কথা ছিল, সেটাই পরিণত হতে পারে জীবনে নেতিবাচক প্রভাবে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Home decoration : এই ভুলেই মলিন হয়ে যায় ঘরের সৌন্দর্য




