শ্রেয়সী মজুমদার, সাশ্রয় নিউজ ✪ কলকাতা : ভারতীয় ক্রিকেটারদের আয় কেবল মাঠে খেলার পারিশ্রমিকেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni), বিরাট কোহলি (Virat Kohli), কিংবা সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)-এর মতো ক্রিকেটাররা মাঠের বাইরেও কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেন, যার পরিমাণ শুনে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে মাইকেল ভন (Michael Vaughan), অ্যালিস্টার কুক (Alastair Cook) ও ফিল টাফনেল (Phil Tufnell)-এর মতো প্রাক্তন ইংরেজ ক্রিকেটারদের। সম্প্রতি একটি আলোচিত ক্রিকেট পডকাস্টে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী (Ravi Shastri), সঙ্গে ছিলেন মাইকেল ভন, ডেভিড লয়েড (David Lloyd), কুক ও টাফনেল। আলোচনা চলাকালীন ধোনি ও কোহলির উপার্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মাইকেল ভন। ভন জিজ্ঞেস করেন, “তোমাদের দেশের ক্রিকেটাররা অবসরের পরেও এত উপার্জন করেন কীভাবে?”
ভনের প্রশ্নের জবাব দেন রবি শাস্ত্রী। তিনি বলেন, “ধোনি, কোহলি, কিংবা সচিনের মতো তারকারা কেবল খেলার পারিশ্রমিকেই নির্ভর করেন না। বিজ্ঞাপনই তাঁদের বড় উপার্জনের উৎস।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার (প্রায় ১ কোটি পাউন্ড) কাছাকাছি উপার্জন করে ওরা।” শাস্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে মাইকেল ভন ও অন্য ইংরেজ ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া ছিল এককথায় বিস্ময়কর। তাঁদের অনেকেই বিশ্বাসই করতে পারেননি এই অঙ্কটা। আলিস্টার কুক মন্তব্য করেন, “আমরা তো ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ভাবি, ধারাভাষ্যে নামব বা লেখালেখি করব। কিন্তু এই অঙ্কটা শুনে মনে হচ্ছে ভারতীয়দের জন্য অবসর মানেই নতুন অধ্যায়।”
Read More | lip care tips in Bengali | ঠোঁট শুকোলে জিভ দিয়ে চাটছেন? সাময়িক আরাম, কিন্তু হতে পারে বড় বিপদ!
শুধু কি খেলোয়াড়ি খ্যাতি? না, এর পিছনে রয়েছে জনপ্রিয়তা, বিপুল ফ্যানবেস এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু। রবি শাস্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, “ধোনি বা কোহলি বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন করেন। শুধু তা-ই নয়, সচিনও এখনও বহু সংস্থার মুখপাত্র। ভারতের মতো দেশে যেখানে ক্রিকেট ধর্মের মতো, সেখানে এই তারকারা ঈশ্বরতুল্য। ফলে ব্র্যান্ডগুলোর কাছে ওদের চাহিদা আকাশচুম্বী।”
বিরাট কোহলি বর্তমানে ‘A+ গ্রেড’ চুক্তিতে রয়েছেন বোর্ডের সঙ্গে, যার অধীনে তিনি বছরে ৭ কোটি টাকা পান। এর সঙ্গে যোগ হয় ম্যাচ ফি ও আইপিএলের উপার্জন। কিন্তু সব ছাপিয়ে বিজ্ঞাপনই তাঁর প্রধান আয়ের উৎস। অন্যদিকে, ধোনি আইপিএল ছাড়া ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও, তাঁর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে এখনও নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে। রবি শাস্ত্রী আরও বলেন, “ধোনির মতো কেউ কেউ তো নিজেদের প্রোডাকশন হাউস বা অন্যান্য ব্যবসাও শুরু করেছে। ফলে শুধু বিজ্ঞাপন নয়, ব্যবসা থেকেও মোটা টাকা আয় করেন তাঁরা।”
এই আয়ের অঙ্কের সঙ্গে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তনদের তুলনা করলেই বোঝা যায় পার্থক্যটা কতটা বিস্তৃত। সেখানে অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারদের ধারাভাষ্য, লেখালেখি বা টিভি শো-ই তাঁদের প্রধান রোজগার। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে ক্রিকেটারের খ্যাতিই হয়ে ওঠে আজীবনের ব্র্যান্ড। শেষে রবি শাস্ত্রী মজার ছলেই বলেন, “আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের মাঠের বাইরে যতটা ক্যামেরার সামনে দেখা যায়, ততটাই অর্থ ঢোকে তাঁদের অ্যাকাউন্টে।”
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : MS Dhoni fitness tips | ‘তরুণরা পরিশ্রম করছে না, তাই চোট বাড়ছে’ মহেন্দ্র সিং ধোনি




