শর্মিষ্ঠা সাহা মৈত্র ★ সাশ্রয় নিউজ : ঘরকে সুন্দর রাখার আকাঙ্ক্ষা থাকে সকলেরই। অন্দরসজ্জায় যত্নবান থাকলেও কখনও কখনও ছোট কিছু ভুলের কারণে বাড়ির গোটা পরিবেশটাই যেন মলিন হয়ে পড়ে। বাইরে থেকে যেভাবেই দেখাক না কেন, ভিতরে ঢুকেই অনেক সময় অতিথিরা মুখ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হন। অথচ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখেও কিছু অজান্ত ভুল এমন প্রভাব ফেলে যে তা ঘরের সৌন্দর্য সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দামি আসবাব বা ঝকঝকে দেয়াল নয়, অন্দরসজ্জায় সচেতন সিদ্ধান্তই ঘরের প্রকৃত রূপ নির্ধারণ করে। বিশেষত যে ৫টি বিষয়ে নিয়মিত নজর না দিলে আপনার বাড়ি হয়ে উঠতে পারে চোখের কাঁটা।

দরজার চৌকাঠেই প্রথম ভুল: ডোরম্যাটের অযত্ন
ঘরের প্রথম ইমপ্রেশন শুরু হয় মূল দরজার কাছ থেকেই। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখানেই থাকে সবচেয়ে অবহেলা। পুরনো, ছেঁড়া বা নোংরা ডোরম্যাট ঘরের সৌন্দর্যে একধাক্কায় ধুলো ছিটিয়ে দেয়। হোম ডেকর বিশেষজ্ঞ রিয়া মালহোত্রা (Riya Malhotra) বলেন, “অনেকেই ভাবেন ডোরম্যাট তো শুধু ময়লা পা মুছতেই, ওতে আর এমন কী! কিন্তু বাস্তবে ডোরম্যাটই অতিথির প্রথম নজরে আসে।” তার পরামর্শ, শুধু মূল দরজা নয়, ঘরের প্রতিটি দরজার সামনেই উপযুক্ত মানের ডোরম্যাট থাকা জরুরি এবং তা যেন নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলানো হয়।
বিছানার চাদরেই ঘরের সৌন্দর্য লুকিয়ে : বেডরুম ঘরের সবচেয়ে ব্যক্তিগত অংশ। অথচ এখানেই অনেক সময় চাদর বা বালিশের কভার থাকে এলোমেলো বা বিবর্ণ। খেয়াল না করলে সেটিই হয়ে ওঠে বিরক্তির কারণ। ইন্টেরিয়র ডিজাইনার অঞ্জলি খন্না (Anjali Khanna) বলেন, “বেডশিটের রঙ, কাপড়ের মান ও পরিপাটিতা অনেকাংশেই ঘরের পরিচ্ছন্নতা ও রুচির পরিচায়ক। ফাটা বা বিবর্ণ চাদর যত দ্রুত সম্ভব বদলে দেওয়া উচিত।”
নকল ফুল নয়, প্রকৃতির স্পর্শ দিন : ঘরের পরিবেশে সৌন্দর্য যোগ করতে অনেকেই আর্টিফিশিয়াল ফুল ব্যবহার করেন। কিন্তু সেটাই হতে পারে সৌন্দর্যহানির কারণ। পুরনো, ধুলো জমা কৃত্রিম ফুল যে কেবল অলসতা প্রকাশ করে তা-ই নয়, এক ধরনের নকল পরিবেশ তৈরি করে ঘরের মধ্যে। ইন্টেরিয়র কনসালট্যান্ট নীলেশ ভার্মা (Nilesh Verma) বলেন, “ভুলভাল সাজানো নকল ফুল মানসিকভাবে অতিথির অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যতটুকু সম্ভব প্রকৃত ফুল বা গাছই ঘরে রাখার পরামর্শ দিই আমি।” অদেখা থেকে যায় আয়নার ধুলো। ঘরের আয়না বা কাচের জানালা নিয়মিত না মুছলে তাতে জমে ধুলো ও দাগ। যা স্বভাবতi নান্দনিকতায় প্রভাব ফেলে। এবং আলোর প্রতিফলনের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিচ্ছন্নতা পরামর্শদাতা সঞ্জয় শর্মা (Sanjay Sharma) জানান, “বাড়িতে আয়না বা কাচের জানালার সংখ্যা বেশি থাকলে সপ্তাহে অন্তত একদিন সেগুলো মুছে ফেলা দরকার। নইলে ধীরে ধীরে নোংরা ভাব পুরো ঘর জুড়ে পড়বে।”

সস্তার ফার্নিচার মানেই অস্বস্তিকর ছাপ : আসবাবের গুণগত মানও ঘরের সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অনেকেই অর্থ বাঁচাতে সস্তা ও নিম্নমানের ফার্নিচার কিনে ফেলেন, যার ফলে কিছুদিন পরেই তার রং উঠে যায়, কোণ ভেঙে যায়, কিংবা কাঠ ফেটে যায়। অভ্যন্তরীন ডিজাইনার শ্বেতা দেশপান্ডে (Shweta Deshpande) বলেন, “দামের সঙ্গে মানের সম্পর্ক থাকলেও সেটি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবেই দেখা উচিত। একটি ভালো মানের সোফা বা চেয়ার শুধুমাত্র আরাম নয়, দৃষ্টিনন্দনতারও প্রতীক।”
এই পাঁচটি সাধারণ অথচ গুরুতর ভুল রোধ করতে পারলেই বদলে যেতে পারে আপনার ঘরের চেহারা। অতিথি আসার আগেই ঘরকে দিন একটি ছোট্ট নতুন পরিচয়। কারণ, ঘর শুধু চার দেওয়ালের সংমিশ্রণ নয়, তা আপনার রুচি, পরিশ্রম ও পরিচ্ছন্নতার পরিচায়কও বটে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Musical Village of Mali | মালির কিরিনার ঘরে ঘরে সঙ্গীতের জন্ম, একটি সুরে বাঁধা গ্রাম




