সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : মহাকাশে এক দিনে ১৬ বার সূর্য ওঠে আবার ১৬ বারই অস্ত যায়। ভাবলে অবাক লাগে, সেখানে থাকা মহাকাশচারীরা কীভাবে ঘুমোন বা দিনরাতের হিসাব রাখেন? এই প্রশ্নই তুলেছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়ারা। আর সেই কৌতূহল মেটালেন ভারতের প্রথম আইএসএস নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা (Shubhangshu Shukla)।মঙ্গলবার ইসরোর উত্তর-পূর্ব স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (NESAC)-এর উদ্যোগে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র (ISS) থেকে সরাসরি যুক্ত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু। কেউ জানতে চেয়েছিল কীভাবে মহাকাশে খাবার খাওয়া যায়, আবার কারও প্রশ্ন ছিল ঘুম কীভাবে হয় এত সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মধ্যে।
শুভাংশু জানালেন, “আমরা প্রতি ৯০ মিনিটে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করি। তাই দিনে ১৬ বার সূর্য ওঠা ও ডোবা দেখি। কিন্তু সূর্য দেখে আমাদের কাজের সময় ঠিক হয় না। আমরা গ্রিনিচ মান সময় (GMT) অনুযায়ী কাজ করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “গ্রিনিচ সময় ভারতের সময়ের থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পিছিয়ে। সেই হিসাবেই আমাদের দিনরাত ও শিফট চলে।” পড়ুয়াদের আরেকটি বড় প্রশ্ন ছিল শূন্য মাধ্যাকর্ষণে শরীর কেমন থাকে। শুভাংশুর কথায়, “পৃথিবীতে আমরা মাধ্যাকর্ষণে বড় হয়েছি। তাই হঠাৎ যখন মাধ্যাকর্ষণহীন স্থানে আসি, তখন শরীরে অনেক পরিবর্তন হয়। প্রথমে মাথা ঘোরা, বমিভাব, অস্বস্তি (space sickness) হয়। তবে আমাদের প্রশিক্ষণেই শেখানো হয়, কীভাবে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। ওষুধও থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই আমরা ঠিক হয়ে যাই।”
তিনি জানান, মহাকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শরীর সুস্থ রাখা। শুভাংশুর কথায়, “শূন্য মাধ্যাকর্ষণে পেশি ও হাড় ক্ষয় হতে থাকে। তাই আমাদের রোজ শরীরচর্চা করতে হয়। ট্রেডমিল, সাইকেল, স্ট্রেংথ ট্রেনিং মেশিনে এক্সারসাইজ করি যাতে ফিট থাকতে পারি। কারণ পৃথিবীতে ফেরার পর যেন কোনও শারীরিক সমস্যা না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হয়।” এই মিশনে রোবোট-বাহুও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর ফলে মহাকাশে অনেক জটিল কাজ সহজ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ভারতের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে শুভাংশুর বার্তা, “তোমরা স্বপ্ন দেখো। মহাকাশে পৌঁছনো অসম্ভব নয়। আমি লখনউয়ের (Lucknow) ছেলে। দেশের ছেলেমেয়েরা আরও বড় স্বপ্ন দেখুক, সেটাই চাই।”
উল্লেখ্য, ২৬ জুন স্পেসএক্সের (SpaceX) ‘ড্রাগন’ মহাকাশযানে চড়ে চার নভশ্চর পাড়ি দেন আইএসএসের (ISS) উদ্দেশ্যে। এই অভিযানে শুভাংশু ছাড়াও রয়েছেন ক্রু কমান্ডার পেগি হুইটসন (Peggy Whitson), মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজ়নিউস্কি (Slawosz Uznanski-Wizniowski) ও টিবর কাপু (Tibor Kapu)। নাসা-অ্যাক্সিয়ম (NASA-Axiom) ৪ অভিযানের অন্তর্গত এই মিশনে শুভাংশু ভারতের প্রথম নভশ্চর হিসেবে আইএসএস-এ পা রাখলেন। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubhanshu and Kamna Shukla | তৃতীয় শ্রেণির বেঞ্চ থেকে মহাকাশে : শুভাংশুর ও কামনার সম্পর্কের অন্দর মহল



