Shubhanshu and Kamna Shukla | তৃতীয় শ্রেণির বেঞ্চ থেকে মহাকাশে : শুভাংশুর ও কামনার সম্পর্কের অন্দর মহল 

SHARE:

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ, লখনউ : প্রাথমিক স্কুলের ছোট্ট ক্লাসরুমে পাশাপাশি বসা থেকে শুরু। আর আজ, সেই ছেলেটিই পৌঁছে গেল আকাশেরও ওপারে। কথা হচ্ছে লখনউয়ের (Lucknow) ছেলে শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla) ও তাঁর স্ত্রী কামনা শুক্লা (Kamna Shukla)-কে নিয়ে। ছোটবেলার বন্ধু,একে অপরের জীবনসঙ্গী। আর এই গল্প রূপকথার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। গল্পটা কেমন? লখনউয়ের আলিগঞ্জ ক্যাম্পাসের সিটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় আলাপ শুভাংশু ও কামনার। ক্লাসের সবচেয়ে লাজুক ছেলেটিকেই সবচেয়ে ভাল বন্ধু হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন কামনা। তখন স্কুলে বন্ধুরা শুভাংশুকে ডাকত ‘গুঞ্জন’। সেই বন্ধুত্বেরই রূপান্তর প্রেমে। আর প্রেম পূর্ণতা পেয়েছে বিয়েতে। তাঁদের একটি ছয় বছরের সন্তানও রয়েছে।

কামনা পেশায় দন্তচিকিৎসক। ও শুভাংশু ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন। যুদ্ধবিমান চালানোর বিরল অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এএন-৩২, জাগুয়ার, হক, মিগ-২১, সু-৩০, সবই তিনি চালিয়েছেন। তবে এ বারের অভিযান একেবারেই আলাদা। নাসার ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় রয়েছেন শুভাংশু। যুদ্ধবিমান থেকে মহাকাশযান এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। চলতি মাসের ২৫ জুন, বুধবার ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে স্পেস এক্সের (SpaceX) ‘ড্রাগন’ মহাকাশযান যখন আকাশ ছুঁল, তার মধ্যেই ছিলেন শুভাংশু। এই প্রথম কোনও ভারতীয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পা রাখলেন। লখনউয়ের এই ছেলে রচনা করলেন নতুন ইতিহাস। রাকেশ শর্মা (Rakesh Sharma)-র পর প্রায় চার দশক পেরিয়ে আর এক ভারতীয়র মহাকাশজয়।মহাকাশযাত্রার ঠিক আগে স্ত্রীর উদ্দেশে আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন শুভাংশু। কাচের ওপারে দাঁড়ানো স্ত্রীর ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “তোমাকে অশেষ ধন্যবাদ। তুমি ছাড়া এর কিছুই সম্ভব হত না। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তুমি না থাকলে এ সমস্ত কিছুই গুরুত্বপূর্ণ হত না।” উত্তরে কামনা লেখেন, “তোমার জন্য আমি প্রতিদিন গর্ব অনুভব করি, তুমি আমার ভালোবাসা।”

১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর লখনউয়ের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম শুভাংশুর। বাবা শম্ভুদয়াল শুক্ল (Shambhudayal Shukla) ছিলেন সরকারি কর্মী, মা আশা (Asha) গৃহবধূ। ছোটবেলা কেটেছে সীমিত স্বপ্ন আর লড়াইয়ের মধ্যেই। ১৯৯৮ সালে কার্গিল যুদ্ধ (Kargil War) দেখেই দেশের সেবা করার তাগিদ জন্মায় মনে। পরিবারের অজান্তে ইউপিএসসির ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) পরীক্ষা দিয়ে দেন। ২০০৫ সালে সেখান থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক হয়ে ২০০৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন ভারতীয় বায়ুসেনায়।
মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। কামনা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু। শুভাংশুকে যেতে হয়েছে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ পর্বের মধ্যে দিয়ে। দিনের পর দিন স্ত্রী, ছেলে, পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। তবু স্বামীর স্বপ্নপূরণে কখনও দমে যাননি কামনা। ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নাসা এবং ইসরোর যৌথ উদ্যোগে অ্যাক্সিয়ম স্পেস (Axiom Space)-এর এই অভিযানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৪ দিন থাকবেন শুভাংশুরা। চলবে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। তাঁরা ভবিষ্যতের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন। কামনা কথায়, বাড়িতেও শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনে অভ্যস্ত শুভাংশু। মহাভারতের অর্জুনের মতো লক্ষ্য স্থির করে চলেন। কামনা আদর করে ডাকেন ‘শুক্স’। তিনি বলেন, “আকাশ ওকে ডাকলেও, পা মাটিতেই থাকে।” শুভাংশু ভালবাসেন শরীরচর্চা করতে, নন-ফিকশন বই পড়তে, আর বাড়ি এলে সব সময় ছয় বছরের ছেলের সাথেই কাটান। যুদ্ধবিমান চালানোর জীবনের থেকে এক লাফে মাইক্রোগ্রামের সূক্ষ্ম পরীক্ষানিরীক্ষার জগতে। বদলে গিয়েছে জীবনের দিশা। প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষভাবে ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এই অভিযান এক নতুন অধ্যায় লিখল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, “শুভাংশু শুক্লই প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পা রাখবেন। নিজের কাঁধে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের ইচ্ছা, আশা, আকাঙ্ক্ষার ভার বহন করছেন তিনি।” ২৬ জুন বিকেল ৪টে নাগাদ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছেন শুভাংশু ও তাঁর সহকর্মীরা। শূন্যতার দেশে ভেসে বেড়ানো সেই ছোট্ট ছেলেটির চোখে হয়ত এখনও ভাসছে লখনউয়ের স্কুলের সেই বেঞ্চ। যেখানে প্রথমবার পাশে বসেছিল কামনা। ক্লাসরুমের সেই মৃদু হাসিই আজ মহাকাশে পৌঁছনোর সবচেয়ে বড় প্রেরণা।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Extramarital Affairs: বউ বাচ্চাদের রেখে মাসী শ্বাশুড়ির সঙ্গে চম্পট দিল যুবক

 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন