ইভান মুস্তাফী : ১৯৫৭ সালের এপ্রিল। হলিউডে (Hollywood) স্বাগত জানাতে সোফিয়া লরেনের (Sophia Loren) জন্য পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। ভেন্যু ছিল বিলাসবহুল রোমানোফ’স (Romanoff’s) রেস্টুরেন্ট, বেভারলি হিলসের (Beverly Hills) প্রাণকেন্দ্রে। পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন বারবারা স্ট্যানউইক (Barbara Stanwyck), মন্টগোমারি ক্লিফট (Montgomery Clift), গ্যারি কুপার (Gary Cooper), শেলি উইন্টার্স (Shelley Winters)-এর মতো সে সময়ের হাই প্রোফাইল তারকারা। কিন্তু সেই রাতের মূল আকর্ষণ হয়ে গেল একটি ছবির জন্য। ছবিতে ধরা পড়েছিল সোফিয়া লরেনের (Sophia Loren) সাইড-আই, আর ঠিক তার সামনে বসে থাকা জেন ম্যান্সফিল্ড (Jayne Mansfield)।
ইভ গোল্ডেন (Eve Golden)-এর লেখা Jayne Mansfield: The Girl Couldn’t Help It অনুযায়ী, ম্যান্সফিল্ড (Jayne Mansfield) সেদিন সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলেন। ওঁর উদ্দেশ্যই ছিল সকলের নজর কেড়ে নেওয়া। ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ওয়ার্নার ব্রোস (Warner Bros.)-এর সঙ্গে সাত বছরের চুক্তি সই করেন জেন। প্লেবয় প্লেমেট (Playboy Playmate) হিসেবে জনপ্রিয় হওয়ার পর তাঁকে মনে করা হত মেরিলিন মনরো (Marilyn Monroe)-এর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। লেখিকা ইভ গোল্ডেন বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম, একটি জনপ্রিয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্স (20th Century Fox)-এ মনরো সমস্যায় ফেলছিলেন। তাই ওয়ার্নার ব্রোস জেন ম্যান্সফিল্ডকে সামনে আনে।” ১৯৫৬ সালে The Girl Can’t Help It ও ১৯৫৭ সালে Will Success Spoil Rock Hunter? মাত্র আট মাসের ব্যবধানে মুক্তি পাওয়া এই সুপারহিট ছবি দু’টি ম্যান্সফিল্ডকে (Jayne Mansfield) বড় তারকা বানিয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে, সোফিয়া লরেন (Sophia Loren) ছিলেন মাত্র ২২ বছরের ইতালিয়ান সুন্দরী। ইতালির (Italy) ফ্যাসিস্ট শাসক মুসোলিনির (Mussolini) আমলে বড় হওয়া লরেনের মায়েরও অভিনয়জগতে আসার স্বপ্ন ছিল। লেখিকা মেরি অ্যান ম্যাকডোনাল্ড ক্যারোল্যান (Mary Ann McDonald Carolan), The Transatlantic Gaze: Italian Cinema, American Film-এর ওই বিশেষ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কিশোর বয়সে সৌন্দর্য কম্পিটিশনে নামেন লরেন। সেখানেই পরিচয় হয় তাঁর ভবিষ্যৎ স্বামী, প্রযোজক কার্লো পন্টির (Carlo Ponti) সঙ্গে। পন্টি প্রযোজনা করেছিলেন তাঁর প্রথমদিকের বেশিরভাগ ছবিই।”
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি ছিল হলিউডের কাছে সস্তার শ্যুটিং লোকেশন। ফলে দু’টি দেশের মধ্যে ব্যবসা, সংস্কৃতি, সিনেমা ও অর্থনীতির প্রবল বিনিময় চলত। লরেনের (Sophia Loren) কেরিয়ারে বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে Aida (1953) এবং The Gold of Naples (1954)-এর সাফল্যের পর। কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (Cannes Film Festival) প্রদর্শিত হওয়ার পর পারামাউন্ট (Paramount) লরেনকে সাইন করে। তাদের আশা ছিল, লেসলি ক্যারন (Leslie Caron), ইঙ্গ্রিড বার্গম্যান (Ingrid Bergman), মার্লিন ডায়েট্রিখ (Marlene Dietrich)-এর মতো ইউরোপীয় অভিনেত্রীদের পথ অনুসরণ করবেন লরেন। কিন্তু সেদিনের সেই বিখ্যাত ছবি? ক্যামেরা ধরা পড়েছিল জেন ম্যান্সফিল্ডের (Jayne Mansfield) অতি সাহসী পোশাক আর সোফিয়া লরেনের (Sophia Loren) সেই বিখ্যাত ‘সাইড-আই’। সোফিয়া লরেন পরে বলেছিলেন, “আমি ওর বুকে তাকাচ্ছিলাম। কারণ ওর পোশাক যেভাবে কেটে রাখা ছিল, আমি ভাবছিলাম কখন সেটা ফসকে যায়।” হলিউডের (Hollywood) ইতিহাসে ছবিটি রয়ে গিয়েছে একটি চিরকালীন গল্পের মতো। দু’জনেই সেই সময়ের সুন্দরী ও আইকন হলেও, ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ স্পষ্ট ছিল সেই একঝলক চাহনিতে। তবে ছবিটি প্রমাণ করে, গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক না বলা গল্প, যার আকর্ষণ ম্লান হয় না সময়ের স্রোতেও।
ছবি:
আরও পড়ুন : Amir Khan | বিচ্ছেদের পরে ‘দেবদাস’ হয়ে গিয়েছিলাম, জীবনের অন্ধকার অধ্যায় শেয়ার করলেন আমির খান


