পার্বতী কাশ্যপ ★ সাশ্রয় নিউজ : বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত আমির খান (Amir Khan) সিনেমার রূপালী পর্দায় যেমন নিখুঁত, তেমনই বাস্তব জীবনে তাঁর যাত্রাপথ রূপকথার চেয়ে কম নয়। তবে তাতে রয়েছে গভীর ঘাত-প্রতিঘাত, প্রেম, বিচ্ছেদ আর নিজের মধ্যে লড়াইয়ের এক কঠিন অধ্যায়। এবার নিজের অতীত জীবনের এক গোপন অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা। জানালেন, কীভাবে প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পরে মদে ডুবে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন, কীভাবে একসময় মনে হয়েছিল, জীবনটাই শেষ করে দেবেন!বলিউডের ঝলমলে জগৎ থেকে কিছুটা দূরে সরে বর্তমানে আমির খান পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু এই শান্তির মুখ দেখতে তাঁর যে কতটা ঝড় পেরোতে হয়েছে, তা অজানা ছিল অনেকেরই। সদ্য এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন, রীনা দত্ত (Reena Dutta)-র সঙ্গে তাঁর প্রথম বিয়ে, সেই সম্পর্কের বিচ্ছেদ ও তার পরবর্তী মানসিক বিপর্যয়ের কথা। খুব অল্প বয়সেই পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও রীনাকে বিয়ে করেছিলেন আমির। প্রেম গভীর ছিল, এমনকী রীনার মন পাওয়ার জন্য রক্ত দিয়ে চিঠি লেখার কথাও জানা যায় তাঁর সম্পর্কে। দুই সন্তান জুনায়েদ (Junaid) ও ইরা (Ira) থাকার পরেও তাঁদের বিবাহিত জীবন ভেঙে পড়ে।আমির বলেন, “রীনা আর আমি আলাদা হয়ে যাওয়ার পরে প্রায় ২-৩ বছর আমি যন্ত্রণা ভোগ করেছি। কোনও কাজ করতাম না, বাড়িতে একা থাকতাম। প্রথম এক বছর প্রচুর মদ্যপান করেছি।” এই সময়ে তিনি একেবারে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। একসময় যে আমির মদ ছুঁয়েও দেখতেন না, তিনি একদিনে একটি বোতল মদ শেষ করে ফেলতেন। তাঁর কথায়, “বিচ্ছেদের পরে আমি বুঝতেই পারছিলাম না আমার কী করা উচিত। রাতে ঘুমোতে পারতাম না। তখনই শুরু হয় মদ্যপান। যে মদ ছুঁয়েও দেখত না, সে এক এক দিনে এক-এক বোতল মদ শেষ করে ফেলত। আমি ‘দেবদাস’ হয়ে গিয়েছিলাম। গভীর অবসাদে ডুবে যাচ্ছিলাম। নিজেকে শেষ করে দেব ভেবেছিলাম।” এই আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে কীভাবে বেরিয়ে এলেন, সে কথাও জানিয়েছেন অভিনেতা। আমির বলেন, “আমি জানতাম, এভাবে চললে নিজেকে শেষ করে ফেলব। একদিন নিজেকেই প্রশ্ন করলাম, এটা কি আমি? এটাই কি আমার জীবন হবে? তখনই বুঝতে পারলাম, আমাকে এই অবসাদ কাটাতে হবে।” পরিবার, বিশেষ করে সন্তানদের কথা ভেবেই তিনি ফিরে এসেছিলেন কাজ ও জীবনের পথে। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে আবার নিজেকে গুছিয়ে নেন। মদ্যপান ছেড়ে জীবনকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি নিজের ক্ষতগুলিতে প্রলেপ দিয়েছি। এখন আর মদ্যপান করি না। জীবনে যে ভুল করেছি, তার থেকে শিক্ষা নিয়েছি। বিচ্ছেদের শোক কাটিয়ে ওঠার পরে বুঝেছি, জীবন এখানেই থেমে থাকে না।”
আমির খান একমাত্র অভিনেতা নন যিনি ব্যক্তিগত জীবনে টানাপোড়েনের মুখোমুখি হয়েছেন, তবে তিনি বরাবরই তাঁর জীবনের সত্যিটা সাহসের সঙ্গে সামনে আনেন। দু’টি বিবাহ। প্রথম রীনা দত্ত (Reena Dutta), তারপর কিরণ রাও (Kiran Rao)। এবং তৃতীয়বার এক প্রেমিকা ও তিন সন্তান নিয়ে গড়া নতুন জীবন। কিন্তু বিচ্ছেদের পরে কখনওই সম্পর্কের সেতু তিনি ভাঙতে দেননি। রীনা ও কিরণের সঙ্গে এখনও তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বিপদে পাশে থাকেন। একাধিকবার তিনি বলেছেন, “বিচ্ছেদ মানেই মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়। আমরা একে অপরের জীবনের অংশ, সেটা কখনও বদলায় না।” আজও রীনা ও কিরণের সঙ্গে পারিবারিক অনুষ্ঠান বা সন্তানদের বিশেষ দিনে তাঁকে একসঙ্গে দেখা যায়। বলিউডে যখন বিচ্ছেদ মানেই ‘দূরত্ব’, তখন আমিরের এই অবস্থান অনেকের কাছেই দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ওই সাক্ষাৎকার তাঁর ভক্তদের কাছে শুধুই আবেগের উদ্রেক নয়, বরং জীবনের কঠিন অধ্যায় কীভাবে সামলে নেওয়া যায়, তার এক শক্তিশালী বার্তাও। আমির খান আজ এক সফল অভিনেতা তো বটেই, এক জ্যান্ত প্রমাণ, কীভাবে হারিয়ে যাওয়া মানুষ নিজেকে নতুনভাবে ফিরে পেতে পারে।আজ, যখন বহু সম্পর্ক ভেঙে যায় তুচ্ছ কারণে, তখন আমির খানের এই প্রকাশ্য সাহস ও পরিণত চিন্তাভাবনা সময়ের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জীবনের গ্ল্যামারের বাইরেও যে গভীর কষ্টের নদী বয়ে যায়, তার এক নিঃশব্দ স্বাক্ষর রেখে গেলেন আমির।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rashmika Mandanda | Star Life : তিনটে ৫০০ কোটির ছবি, পাঁচ শহরে বাড়ি, গ্যারাজে লাক্সারি গাড়ি, ৩০-র আগেই সম্পত্তিতে রেকর্ড গড়লেন রশ্মিকা




