সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার কালীঘাট এলাকা, যা রাজ্যের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই পরিচিত, সেখানেই সোমবার বিকেলে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেস -এর বেলেঘাটা বিধায়ক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) লক্ষ্য করে ছোড়া হল কাঁচা ডিম। ঘটনাটি ঘটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর কালীঘাটের বাড়ির সামনেই। এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, ওই দিন বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বৈঠক শেষ করে তিনি যখন বেরিয়ে আসছিলেন, তখনই এই হামলার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও, যারা তাঁর প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
কুণাল ঘোষ নিজেই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমি যখন বাড়ি থেকে বেরোচ্ছি, তখন সাংবাদিকেরা আমাকে দাঁড়াতে বলেন। আমি তাঁদের কথা মতো দাঁড়াই। সেই সময় দু’জন যুবক আমার দিকে এগিয়ে আসে। তাদের পিছনে আরও কয়েকজন ছিল। আচমকা একজন আমার দিকে ডিম ছুড়ে মারে।’ তাঁর কথায়, পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই এই ঘটনা ঘটে যায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, হামলাকারীরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে সেখানে অপেক্ষা করছিল। কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করেই তারা অবস্থান নেয়। ঘটনার সময় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বড় কোনও অশান্তি হয়নি, তবে ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হামলার দায় স্বীকার করেন একজন যুবক। তিনি নিজের নাম চন্দন (Chandan) বলে দাবি করেন। তিনি জানান, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই এই পদক্ষেপ। তাঁর বক্তব্য, ‘কুণাল ঘোষ কি কম অত্যাচার করেছেন? এঁরা পচা ডিম খাওয়ারই যোগ্য।’ এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। সূত্রের আরও খবর, ওই যুবক নিজেকে কালীঘাট এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, বরং প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই কাজ করেছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, এই প্রতিবাদ কি স্বতঃস্ফূর্ত, না এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে? ঘটনার সময় কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার চোখ ক্যামেরার দিকে ছিল। ঠিক সেই সময় একজন আমার দিকে ডিম ছুড়ে দেয়। আমি প্রথমে বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে।’ তাঁর কথায় ধরা পড়ে ঘটনাটির আকস্মিকতা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। তাঁদের মতে, বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজ্যে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে, আর এই ঘটনা সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। উল্লেখ্য, কালীঘাট এলাকা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এমন ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হামলাকারীরা এত কাছে পৌঁছে গেল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
ঘটনার পর পুলিশ (Kolkata Police) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তার মধ্যেই এমন ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর অন্দরেও এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দলের নেতাদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ এটিকে অশোভন আচরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে প্রতিবাদের একটি রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে যেভাবেই দেখা হোক না কেন, একজন জনপ্রতিনিধির উপর প্রকাশ্যে এই ধরনের হামলা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। প্রসঙ্গত, কলকাতার মতো ব্যস্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mithun Chakraborty defamation | মিঠুনকে নিয়ে মন্তব্যে স্থগিতাদেশ, কুণাল ঘোষকে মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ হাই কোর্টের



