Delhi | স্বচ্ছ দিল্লির ডাক: ‘নো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, (Rekha Gupta) সম্প্রতি দিল্লি সচিবালয়ে এক সরকারি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন, “যারা দিল্লিকে নোংরা করছে, তাদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শুধু কথার স্তরে নয়, এই বার্তা কার্যকর করতে বিশেষ অধ্যাদেশ আনা হচ্ছে, যা সরকারি অনুমোদনের পরেই কার্যকর হবে। তিনি বলেন, “পথঘাটে, পার্কে কিংবা মেট্রো স্টেশনের সামনে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আবর্জনা ফেলেন বা দেয়ালে পোস্টার লাগিয়ে নোংরা করেন, তবে তাকে কঠোর জরিমানা ও শাস্তির মুখে পড়তে হবে। দিল্লিকে আমরা লন্ডন বা প্যারিস নয়, আমাদের মতো করে একটা ‘স্বচ্ছ ও সুন্দর শহর’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শহরকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়। এতে সাধারণ মানুষেরও সমান অংশগ্রহণ জরুরি। “প্রতিটি নাগরিক যদি নিজেকে ‘পরিবেশ প্রহরী’ হিসেবে ভাবেন, তাহলে শহরের রূপ বদলাতে সময় লাগবে না।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির পর্যটনমন্ত্রী কপিল মিশ্র (Kapil Mishra), বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি (Manoj Tiwari), দিল্লি পুলিশের বিশেষ কমিশনার রবিন হিবু (Robin Hibu), এবং প্রাক্তন আইএএস অফিসার রাজীব তালওয়ার (Rajiv Talwar)। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী “ল্যান্ডস্কেপিং-এর মৌলিক নীতি” (Landscaping ke Mool Siddhant) শীর্ষক এক দ্বিভাষিক (হিন্দি ও ইংরেজি) গ্রন্থের উদ্বোধনও করেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সড়কের পাশে পড়ে থাকা প্লাস্টিক, যত্রতত্র থুতু, কিংবা দেয়ালে লিখে রাখার মতো অসভ্য আচরণ আর বরদাস্ত করা হবে না। নগর নিটোল রাখার ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।” এছাড়াও তিনি দিল্লির অন্যতম প্রধান নদী যমুনাকে (Yamuna) পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও জানান। “আমরা কেবল শহরের রাস্তাঘাট নয়, নদী ও পার্কগুলোকেও পুনর্গঠনের মাধ্যমে সবুজ দিল্লি গড়তে চাই। এই জন্য একটি পৃথক প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে যা শিগগিরই জনসমক্ষে আনা হবে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিঁধেছেন আগের সরকারগুলিকেও। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “পূর্বতন সরকারগুলো শুধু রাজ্যের কোষাগারই পরিষ্কার করেছিল, শহরের ধুলো নয়। নাগরিকরা এখন পরিবর্তনের দাবি করছে, আর আমরা সেই পরিবর্তনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” দিল্লি সরকারের এই নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজকর্মী রূপম গৌতম (Roopam Gautam) বলেন, “অবশেষে কেউ দিল্লিকে নিয়ে সত্যিই ভাবছে। এ ধরনের দৃঢ় অবস্থান খুব দরকার ছিল। তবে এর বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই রাজ্যের সাফাই বিভাগ ও পুরনিগমগুলোর কর্মতৎপরতা আরও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। নাগরিকদের ভূমিকাও এবার বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “শুধু প্রশাসন দিয়ে নয়, আমরা নাগরিকের সঙ্গে হাত মিলিয়েই গড়তে চাই নতুন দিল্লি।”
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mohammed Asaduddin | ক্রিকেটের প্যাড ছেড়ে রাজনীতির জার্সি, তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন আসাদউদ্দিন

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন