সাশ্রয় নিউজ ★ অম্বালা : হরিয়ানার অম্বালায় (Ambala, Hariyana) সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে। এক তরুণ তার প্রেমিকার সঙ্গে একটি হোটেলে রাত কাটাচ্ছিলেন। পরের দিন সকালে ঘুম ভেঙেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় চমক পান। ঘরভর্তি পুলিশ দেখে হতভম্ব যুবক চিৎকার করে বলেন, “তুমি তো আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দিলে!” এই ঘটনাটি এখন হানি-ট্র্যাপ (Honey Trap) কাণ্ড হিসেবে তদন্তাধীন।
অভিযোগ অনুসারে, অম্বালার বাসিন্দা তরুণ অঙ্কুশ (Ankush)-এর সঙ্গে ফোনে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে একজন তরুণীর। নিজেকে মুম্বইয়ের (Mumbai) বাসিন্দা বলে দাবি করে মেয়েটি জানায়, তার বাবা-মা নেই। সে বর্তমানে নিজের ‘মুখে বলা ভাই’ মুন্না (Munna)-র সঙ্গে দিল্লিতে থাকেন। প্রথমে তরুণী অঙ্কুশকে দিল্লি আসতে অনুরোধ করলেও, অঙ্কুশ রাজি হননি। পরিবর্তে তিনি তরুণীকে অম্বালায় আসতে বলেন। মেয়েটি সম্মত হয়। অম্বালায় পৌঁছায়। এরপর তাঁরা একসঙ্গে একটি বেসরকারি হোটেলে রাত কাটান। পরদিন সকাল হতেই পুরো ঘটনাপ্রবাহ পালটে যায়। তরুণী ১১২-এ ডায়াল করে পুলিশে অভিযোগ জানায়, তার সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়েই পুলিশ হোটেলে এসে পৌঁছয়। এবং ঘটনাস্থল থেকে তরুণীকে অম্বালা ক্যান্টনমেন্ট থানায় (Ambala Cantonment Police Station) নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় নাটকের দ্বিতীয় পর্ব। অভিযোগ দায়ের করার বদলে তরুণী জানায়, “আমার ভাই আসবে, ওর কথাতেই সব করব।” থানার এসএইচও ধর্মবীর (SHO Dharmveer) জানান, এর আগেও ওই তরুণী আম্বালা শহরে ঠিক একই ধরণের একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় টাকা নিয়ে চলে যান।
এদিন দুপুরে মেয়েটির তথাকথিত ভাই ও আরও একজন ব্যক্তি থানায় উপস্থিত হন। তখন অঙ্কুশের চাচাতো ভাইও সেখানে পৌঁছায়। এসএইচওর দাবি, এরপর থানার বাইরেই টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার একটি চেষ্টা হয়। চুক্তি হয় ১.৫ লক্ষ টাকার। যার মধ্যে ৫০ হাজার নগদ এবং ১ লক্ষ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। পুলিশ পুরো ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে আগে থেকেই একটি টিম তৈরি করেছিল। সেই টিম ৫০ হাজার টাকা সহ অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। এই মুহূর্তে অভিযুক্ত তরুণী পুলিশ হেফাজতে। আদালতে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে, পুরো কাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েটি শুধু অঙ্কুশ নয়, আরও বেশ ক’য়েকজন পুরুষকে একইভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। হোটেল কর্তৃপক্ষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা অম্বালাবাসীর মনে গভীর আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “এখন কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। একবার ভুল করলে পুরো জীবন বিপন্ন হয়ে যেতে পারে।” পুলিশও সতর্কতা জারি করে জানায়, অনলাইনে তৈরি হওয়া সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত ভরসা বিপজ্জনক হতে পারে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “বর্তমানে এমন চক্র কাজ করছে, যারা সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে সহজলভ্য টার্গেট বেছে নিচ্ছে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য অর্থ আদায়, আর সেই ফাঁদে অনেক নিরীহ যুবক জড়িয়ে পড়ছে।”
ঘটনাটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে। কেউ বলছেন “এটা সুপরিকল্পিত প্রতারণা”, আবার কেউ বলছেন “এই তরুণীর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত, নয়ত আরও অনেকে ফাঁসবে।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত তরুণীর দাবি, সে নির্দোষ। পুলিশের জালে ধরা পড়া টাকা ও আগের অভিযোগের মিল থাকায় তদন্তকারী অফিসাররা সহজে তাকে বিশ্বাস করছেন না। এখন পুলিশের লক্ষ্য, এই তরুণী আদৌ একা কিনা, নাকি এর পেছনে কোনও সুসংগঠিত হানি ট্র্যাপ চক্র সক্রিয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী মামলাটি আরও বিস্তৃত রূপ নিতে পারে বলে ধারণা তদন্তকারী অফিসারদের। এই ঘটনায় অম্বালায় ছড়িয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভয়ের পরিবেশ। আত্মীয়তা বা প্রেমের নামে এমন প্রতারণার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কতটা নিরাপদ এখনকার সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্ক?
ছবি : সংগৃহীত
আরও খবর : SRK | Love Story of Shah Rukh Khan and Gouri Khan : শাহরুখ-গৌরীর প্রেম এক আশ্চর্য রূপকথা



