আজকের
কবি
ও
কবিতা

______________________________________________
কবি বনশ্রী রায় দাস-এর কথায়, ছোটবেলা থেকেই তাঁর লেখালেখি শুরু। প্রায় কুড়ি বছর ধরে নিবিষ্ট আছেন লেখালেখি জগতে। কবি তাঁর কবিতার কাছা অকপট : ‘যারা বা যে দুঃখ দিতে চেয়েছিল, আসলে / তারাই আমার সবচেয়ে বড় উপকারী বন্ধু’…। বনশ্রীর লেখা নিয়মিত দেশ-বিদেশের অজস্র পত্র-পত্রিকায় লেখা মুদ্রণ হয়। এখন পর্যন্ত তাঁর মোট ছয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সাশ্রয় নিউজ-এর পাতায় রইল তাঁর একগুচ্ছ কবিতা।
_____________________________________________
ব ন শ্রী রা য় দা স
কেউ একলা কাঁদে
অবশিষ্ট আলোটুকু খুঁটে নেবে বলে
পৃথিবী-পাখি ডানা ভাসায় অচিননগরে,
সাতসমুদ্র পাতালপুরে নীল স্বপ্ন-সাম্রাজ্য
চাঁদের চারপাশে মাছের অভিযাত্রা
দেখতে দেখতে জ্যোৎস্না বাতিওলা,
সূর্য স্ট্রিট লাইট।
আজব বাগানে অনাদরে ফোটে ফুল
গাছ কাটা পড়ে মুহর্মুহু, রক্তের বুকে
মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে
উচ্চাকাঙ্ক্ষার অট্টালিকা
মুখ ভার করে থাকে ফসলের মাঠ
শ্রাবণ এলেও বর্ষা আসে না উপশম নিয়ে।
ঘরে মুখ লুকিয়ে একলা কাঁদে মানুষ,
কপালে গভীর ক্ষত, শরীরে স্তুপিকৃত জঞ্জাল।
শবের পিপাসা
ঘরে ঘরে পাতা খুলে বেদ, উপনিষদ, শূন্য চশমা
পাখি ডাকা ভোর ফুলের গন্ধ স্বরলিপি,
হাঁক দিয়ে যায় আউল-বাউল হাওয়া
হারিয়েছে কোথায় বিলিকাটা আঙুল
ফুরিয়েছে তাদের যৌথ আলোড়ন,
বাড়িগুলো ঝিমোয় যেন কালের বিবর
মধ্যরাতের ধূসর মাস্কে কে করে এতো চুম্বন?
কার শরীরের অজস্র ভাষা আগুনফুল
হয়ে ফুটে ওঠে মণিকর্ণিকাকারঘাটে ঘাটে,
চুল্লিতে চাগাড় দিয়ে ওঠে শবের পিপাসা
আজ আর কাকে ধর্মীয় শ্লোক শোনাবে কৃষ্ণ!
পাহাড়ি মেঘ ও কবি
রঙ্গিত নদীর অরণ্যে রমণ প্রস্তাব এলে
ঠিকানা ভুলে সমস্ত মেঘেরা গাভী হয়ে যায়,
ভারি স্তনে ঠোঁট ছুঁয়ে দেয় তিব্বতি পাহাড়
অকাল বর্ষণ হয়ে খসে খসে পড়ে আদিরস
তখন পৃথিবী ফিরে আসে জন্ম লগ্নে!
ফুরফুরে হিম-চাদর গায়ে, অজুত
রডোডেনড্রনগুচ্ছের পাড়া জাগিয়ে
কবিতা লিখে চলেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়।
হৃদয়ে জড়ালে ফুটে ওঠে শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদ
অভিসন্ধি হাওয়ায় ভাসে নিবিড় কুহক
জানালার দৃশ্যে ঢুকে পড়ে কামরাঙা ঢেউ
চৈত্রের কুঞ্জ থেকে খসে পড়ে রোদবর্ণ গন্ধ
ছাতিমের উপহার পত্রে একচ্ছত্র ষড়যন্ত্র
স্তবকে সাজানো মায়াচর উড়িয়ে নিয়ে যায়
কালের ঝড়, ভেঙে শতখণ্ড করে গাঁ গঞ্জ
বেদনাতল যত ফুটছে ফুটুক ঈর্ষার উনুনে
হৃদয়ে ছোঁয়ালে উঠে আসবে শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদ
যারা বা যে দুঃখ দিতে চেয়েছিল, আসলে
তারাই আমার সবচেয়ে বড় উপকারী বন্ধু
বাঁশি ও বৈরাগ্য
করতলে রাখা বিষাদমুদ্রা কখন পালক হয়ে গেল
তারই বিপথগামী পথে রেখেছি এক বাটি চাঁদ,
ব্রজবুলি উচ্চারণে তরঙ্গ খোঁজে লাজুক নূপুর।
ঝিনুক নদীর অরণ্য ঘেরা আঁকাবাঁকা পথ আমার
হর্ষকণা হয়ে মিশে যাচ্ছে নৌকাবিলাস পর্বে,
রাধা’র মৃত্যুবাণ লুকিয়ে আছে বাঁশির বৈরাগ্য স্বভাবে!
প্রাচীন ক্ষত যত সারিয়ে তুলি অগ্নিস্নানে
বলেছিলে তুমি প্রতীক্ষা সাজাবে হারামনিতানে।
অলঙ্করণ : সানি সরকার
🍁 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও দিতে পারেন স্বরচিত স্থানীয় সংবাদ, ফিচার, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ, উপন্যাস … ★ ই-মেল : sasrayanews@gmail.com




