আজকের
কবি
ও
কবিতা

_____________________________________________
কবি জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়-এর জন্ম ১৯৫৯ সালে, ২৫ জুলাই বাঁকুড়ার কুশমুড়ি গ্রামে। বাবা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় ও মা কুসুমকুমারী দেবী। স্কুলজীবনে থেকে লেখালেখি শুরু। তিনি অজস্র কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, আলেখ্য, সমালোচনামূলক লেখা, নাটক ও একটি অসম্পূর্ণ উপন্যাস লিখেছেন। কবি ব্যক্তিজীবনেকাজ, সাহিত্য, আড্ডা, প্রকৃতি ও জীবনকে নানান দৃষ্টিতে খোঁজেন। ভারতীয় বাংলা কবিতার এই লেখক অনায়াসে বলেন : ‘আমি সেই ভাদ্রবালক দড়িবাঁধা প্যান্ট বাঁহাতে ধরে/ দাঁড়িয়েছি, ছুটবো ইশারা পেলেই আজ খালপারে / কাশফুল বেলা আর পুঁটিঝাঁক দেখা হবে…’। সাশ্রয় নিউজ-এর আজকের পাতায় রইল কবির কবিতাগুচ্ছ।
_____________________________________________
জ য় ন্ত চ ট্টো পা ধ্যা য়
ছাই
উড়ছে প্রবল উড়ছে খড়পোড়া ছাই
ধানের নাড়া পাটকাঠির ঘর আগুন
বিষাক্ত বর্জ্যের অবশেষ অদাহ্য অখাদ্য
বিষছাই রসায়ন দগ্ধতার পথ
স্বচ্ছতার গন্ধটুকু নেই অপ্রিয় জঞ্জাল
সাজানো-গোছানো সংসারের গল্প
কবে যে পুড়েছে অলঙ্ঘ্যবিষাদ
লুপ্তসুখ খেয়েছে নিষাদ
সেখানে কি লেখা ছিল সুখ
কথা ছিল গান ও প্লাবন?
জোয়ারের ভরা নদী দু-কূল ছাপানো
উচ্ছ্বাস ঢেউ ভাটিয়ার রাগ খুনসুটি
রহস্যের ভাঁজ ঢাল বেয়ে নেমে আসা…?
কী যে ছিল কী যে নেই সুতো কিণাঙ্ক রেখা
যতটুকু কোমল স্মৃতি ও শব্দের বাক্স
প্রসাধন পারিপাট্য সুগঠন টান
মগ্নকথার ঝিলমিল জানলা ঝালর
অনিকেত দেখে নেয় কতখানি খেদ
জমা ও ভাসান ধুলোপথে যতটা সম্পদ
চিহ্ন বেয়ে সুখ জমেছিল
দীর্ঘস্বপ্নের ক্ষীণ যবনিকা
প্রতিশ্রুতি তরল গড়িয়েছে কত যে বিকেল
উদবৃত্ত বিমোহন ক্ষয় হয়ে গ্যাছে
দৃশ্য ভেঙে প্রলেপ দিতে পারো
ভাদ্র সিরিজ
১.
ভেজা আগুনে সেঁকে দিচ্ছ বাদামি রুটি
এখন পান্তা খাওয়ার স্বপ্নে সবুজ হা-হুতাশ
পূর্ণোদ্যম ভেঙে দিচ্ছ লতাপাতার ঘর
আর রয়না মাছের সংসার
যশোর দেশের সবুজ জল চোখের ফেভিকুইকে
পুরোপুরি ডুবে গেছি দ্যাখো
গামছাবালক, ছায়ারা দাঁড়িয়েছে অর্জুন ছায়ায়
ওরা সব পারে, অক্ষমের আকুতিগুলো লিখেছি
আতার পাতায়, গন্ধবাণ সরিয়েছে আতঙ্ককীট
মুহূর্তেই ডুবে যাওয়া কৈশোর তুমি কত খেলাপাগল
এখানে ঝরাপাতা পচে ছেলেবেলা জাগে
আগুন সূর্যকে বুড়ো আঙুল ঠুকে দুলালদাদু
চিতসাঁতারে ভাসে ঘণ্টার বেশি
জলছুঁই ফড়িংয়ের ল্যাজে অনুপম দুষ্টুমি
যত ক্লান্তি টেনে নেয়,ভুল হয় ঘাসবেলা, কাস্তের ধার
ঘাম আর থিম্পুর মেঘে কোনো পার্থক্য নেই
কুজ্ঝটিমুখে যারা বসে তারা আসলে জীবন আর
মৃত্যুকে আলাদা ভেবেছে
২.
মোগাম্বোর মতো কুটিল মুখে যারা চাবুক ঘোরায়
তারা সময়ের গাড়ি রুখে ঈশ্বর হতে চায়
আমি সেই ভাদ্রবালক দড়িবাঁধা প্যান্ট বাঁহাতে ধরে
দাঁড়িয়েছি, ছুটবো ইশারা পেলেই আজ খালপারে
কাশফুল বেলা আর পুঁটিঝাঁক দেখা হবে
আতা পেড়ে কুঁড়োর বস্তায় দেবো, পাকাফল
কাড়াকাড়ি করে পুজোর গন্ধ নেওয়া সুখ
ফকিরকাকা বেহালায় এখনই আগমনী বাজিয়েছে কাল
আর তো ক’দিন খড়মাটি সুতলির কাজ
দীর্ঘবেলা ক্লাসরুম ফুটবল জেগেছে উদ্দাম
ছুটোছুটি, ক্লান্তিতে কত সুখ হালকা মেঘেরা জানে
শিউলির গন্ধ লেগে উতলা মন আরও কিছু
করে যেতে চায় শুধু মোগাম্বোরা লালচোখে
কিছু দেখে,কিছু লুটে নেয় কষ্টের ফসল
আমরা অর্বাচীন বালক হতে পারি তবু ন্যায়-অন্যায়
খুব ভালো বুঝি
আমাদের স্বপ্নের ঘরে ফুলের সঙ্গে ঢুকে যাচ্ছে
হায়নার খ্যাঁক খ্যাঁক এই ভাদ্রের দিন আলো হয়ে থাকে আমাদের দরিদ্র জানালায়
অলঙ্করণ : সানি সরকার
🍁সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও দিতে পারেন স্বরচিত স্থানীয় সংবাদ, ফিচার, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ, উপন্যাস … ★ ই-মেল : sasrayanews@gmail.com




