অশোক কুমার রায় ★ রায়গঞ্জ: সমাজসেবা ও সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে যাঁর অবদান আজও পথ দেখায়, সেই প্রয়াত সুজিত ভূষণ রায়কে স্মরণ করে সম্প্রতি রায়গঞ্জে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ স্মরণ সভা। দেবীনগরের রায়গঞ্জ সমাজ কল্যাণ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাজগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৩৯ এবং প্রয়াণ ১৬ জানুয়ারি ২০১১ এই সীমিত সময়ের মধ্যেই সুজিত ভূষণ রায় যে বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন, তা এখনও উত্তরবঙ্গের সামাজিক প্রেক্ষাপটে উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
দেবীনগর, রায়গঞ্জ তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমূলক আন্দোলনে সুজিত বাবুর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজকল্যাণ, পত্রপত্রিকা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি আজীবন নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। শুধু উপদেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, পাশাপাশি আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে সেগুলিকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। অত্যন্ত সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ হলেও তাঁর মানসিক দৃঢ়তা ছিল অনন্য, যা তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছিল। তাঁর প্রয়াণদিনকে স্মরণ করেই এই সম্প্রতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্মরণ সভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা তাঁদের বক্তব্যে সুজিত বাবুর বহুমুখী ব্যক্তিত্বের নানা দিক তুলে ধরেন। স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ছিল সঙ্গীত ও আবৃত্তির পরিবেশনা, যা অনুষ্ঠানকে আরও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে। শিশুদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে নজর কাড়ে, কারণ সুজিত বাবু শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ও তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গভীরভাবে আগ্রহী ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিশুদের উপস্থিতি যেন তাঁর সেই স্বপ্নকেই নতুন করে সামনে এনে দেয়।
এই উপলক্ষ্যে প্রদান করা হয় ‘সুজিত ভূষণ রায় স্মৃতি সম্মাননা ২০২৬’। এ বছরের সম্মাননা প্রাপকদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও কবি ডঃ সুনীল চন্দ। এছাড়াও বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ, কবি ও সংগঠক শ্রী প্রবীর গুহ এবং বর্ষীয়ান কবি আশিস সরকার। সম্মাননা গ্রহণের পর প্রত্যেকেই সুজিত বাবুর আদর্শ, মানবিকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করেন এবং জানান, আজকের সময়ে এমন নিষ্ঠাবান সমাজসেবীর প্রয়োজন আরও বেশি। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সুজিত বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উত্তরসূরি নীরদ রায় এবং তাঁর নাতি সৌরভ রায়। সভাপতিত্ব করেন সৌর্যেন্দ্র কুমার ধর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্রী সুশীল গোস্বামী। সার্বিকভাবে এই স্মরণ সভা সুজিত ভূষণ রায়ের আদর্শকে আগামী দিনের সমাজগঠনের প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরেছে।




