Why birds fly in a V formation | পাখিরা V-আকৃতিতে কেন ওড়ে? প্রকৃতির এক অপূর্ব রহস্য

SHARE:

পার্বতী কাশ্যপ ★ সাশ্রয় নিউজ : আকাশের দিকে তাকালেই কখনও দেখা যায় এক ঝাঁক পাখি হাওয়ার বুক চিরে V-আকৃতিতে এগিয়ে চলেছে। অনবদ্য ছন্দ। যেন এক একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়ে চলেছে নীল-আকাশে। কিন্তু এই নজরকাড়া গঠনের পেছনে শুধুই সৌন্দর্য নয়, লুকিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানের সুচারু কৌশল আর প্রকৃতির চমৎকার সহযোগিতা। প্রাণীবিদদের মতে, গিজ (Geese), পেলিক্যান (Pelicans), আইবিস (Ibises) ও অন্যান্য পরিযায়ী পাখিরা দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার সময় V-আকৃতির ফ্লাইট ফর্মেশন বেছে নেয়৷ তা কিন্তু কৌশলগত কারণেই। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি (University of Oxford) ও নাসা (NASA)-র গবেষণা বলছে, এই V-আকৃতির উড়ান কৌশল পাখিদের শক্তি সঞ্চয়ে বিশেষ সহায়তা করে।

আরও উল্লেখ, পাখিরা V-আকৃতিতে উড়লে সামনে থাকা নেতা পাখিটি হাওয়ার সর্বোচ্চ প্রতিরোধও সহ্য করে, তার ডানার ছায়ায় পেছনের পাখিগুলি তুলনামূলক কম এনার্জি খরচ করে উড়তে পারে। নেতার ডানার তলায় তৈরি হওয়া ঘূর্ণায়মান বাতাস একপ্রকার ‘আপওয়াশ’ তৈরি করে, যা পেছনের পাখিদের বাড়তি লিফট দেয়। ফলে তাদের আলাদা করে শক্তি খরচ করতে হয় না। মজার বিষয় যে, প্রতিটি পাখির ডানার ফ্ল্যাপও একটি নিখুঁত ছন্দে চলে। এটি কিন্তু কাকতালীয় নয়। গবেষণা পত্রিকা ‘নেচার’ (Nature)-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নর্দার্ন বাল্ড আইবিস (Northern Bald Ibis)-এর মতো পাখিরা একে অপরের ডানার ছায়ায় উড়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিমানগত সুবিধা নেয়। তারা ডানার ছন্দ মিলিয়ে এমনভাবে ফ্ল্যাপ করে যাতে বাতাসের গতিপথ ও চাপকে কাজে লাগানো যায়। তবে প্রশ্নও ওঠে যে, সবচেয়ে সামনে কে থাকে? আর সেই ভূমিকা কীভাবে বন্টন হয়? পক্ষী বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই দলগত কৌশলে নেতৃত্ব বদল হয় ঘন ঘন। যে পাখি সামনে থাকে, সে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন সে পিছনে চলে আসে, আর নতুন কেউ সামনের দায়িত্ব নেয়। এই দায়িত্ব ভাগাভাগি করার মাধ্যমে গোটা দলই দীর্ঘ পথে আকাশে টিকে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন : Aamir Khan, Kiran Rao | বিচ্ছেদের পরও একইরকম ঘনিষ্ঠতা! কিরণ ও আমিরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক

ইউএস ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটি (US National Audubon Society)-র গবেষণা অনুযায়ী, এই সম্মিলিত উড়ানের পদ্ধতি পিছনের পাখিদের শক্তি সাশ্রয় করে প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। এটি প্রকৃতির এক অভূতপূর্ব উদাহরণ, যেখানে আকাশে টিকে থাকার জন্য প্রতিযোগিতার বদলে সহযোগিতাই মূল অস্ত্র। শুধু শক্তি সঞ্চয় নয়, V-আকৃতি পাখিদের দৃষ্টিসীমাও বাড়িয়ে দেয়। এই ছক অনুযায়ী পাখিরা ওড়ে বলেই প্রতিটি পাখি তার পাশের সঙ্গীকে দেখতে পায়, ফ্লকের গতিপথ অনুসরণ করতে পারে ও সংঘর্ষ এড়াতেও সক্ষম হয়। বহু হাজার কিমি পথ অতিক্রম করার সময় এই ভিজ্যুয়াল কনট্যাক্ট তাদের জন্য একান্ত জরুরি বলে পক্ষী বিশারদরা মনে করেন।

আবার গবেষণায় এ-ও উল্লেখ যে, পাখিদের যাত্রা পথে গন্তব্য এক হলেও পথের ধরণ ভিন্ন হতে পারে। তাই একে অপরের সঙ্গে দৃষ্টির ও গতির সংযোগ বজায় রাখা তাদের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। আসলে পাখিদের চলার পথে V-আকৃতি যেন একটি চলন্ত ম্যাপ (বা মানচিত্র)। ওই মানচিত্র বরাবর প্রতিটি পাখি একেকটি বিন্দু হয়ে যুক্ত থাকে বড় ক্যানভাসের ভেতরে। বিজ্ঞান বলছে, এক-একটি পাখির ডানার ঘূর্ণনের ছন্দ এতটাই নিখুঁত যে, তাকে বলা যায় ‘এরোডাইনামিক হাওয়া চালনা’র শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। একে-অন্যের ওপরে ভর করে, নেতৃত্ব ভাগ করে, সমন্বয় রক্ষা করে যে উড়ান তারা দেয়, তা আমাদের এ-ও শেখায়, সহযোগিতাই যে-কোনও যাত্রার ও দীর্ঘ যাত্রার মূলমন্ত্র। এই অপূর্ব টিমওয়ার্কের সাক্ষী হতে গেলে খুব বেশি কিছু করতে হয় না। শুধু একবার চোখ তুলে আকাশের দিকে তাকালেই চলবে।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Virat-Anushka : হঠাৎ কী হল, বৃন্দাবনে “বিরুষ্কা” 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন