সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দুর্গাপুজোর মুখে রেশন গ্রাহকদের (West Bengal Ration 2026) জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। নিয়মিত রেশন সামগ্রীর পাশাপাশি এবার উৎসবের মরশুমে বিনামূল্যে চিনি ও ময়দা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া (Ashoke Kirtaniya)। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে এই অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সুবিধাটি শুধু পুজোর কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জানা গিয়েছে, কালীপুজো পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রেশন ব্যবস্থায় সাধারণত নির্দিষ্ট শ্রেণির কার্ড অনুযায়ী চাল, গম অথবা ফর্টিফায়েড আটা দেওয়া হয়। এবার সেই তালিকায় উৎসব উপলক্ষে চিনি ও ময়দা যোগ হতে চলেছে। ফলে পুজোর সময়ে বাড়িতে মিষ্টি, লুচি, পরোটা, নানা ধরনের জলখাবার কিংবা অন্যান্য খাবার তৈরির ক্ষেত্রে রেশন থেকে পাওয়া এই অতিরিক্ত সামগ্রী কাজে লাগাতে পারবেন উপভোক্তারা। উৎসবের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচ যখন অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটের উপর চাপ তৈরি করে, তখন রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কোন রেশন কার্ডে কতটা চিনি ও ময়দা দেওয়া হবে? এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত পরিমাণ ঘোষণা করা হয়নি। খাদ্য দপ্তরের তরফে পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করে কার্ডের শ্রেণি অনুযায়ী বরাদ্দের পরিমাণ জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে যে ঘোষণা হয়েছে, তাতে চিনি ও ময়দা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে এলেও প্রত্যেক উপভোক্তা ঠিক কতটা করে এই দুটি সামগ্রী পাবেন, তা জানতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। রেশন কার্ডের ধরন অনুযায়ী রাজ্যে খাদ্যশস্যের বরাদ্দ অবশ্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট রয়েছে। অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা বা AAY কার্ডে পরিবারপিছু প্রতি মাসে ২১ কেজি চাল এবং ১৪ কেজি গম অথবা ১৩.৩ কেজি ফর্টিফায়েড আটা দেওয়া হয়। PHH এবং SPHH কার্ডের ক্ষেত্রে মাথাপিছু ৩ কেজি চালের পাশাপাশি ২ কেজি গম অথবা ১.৯ কেজি ফর্টিফায়েড আটা বরাদ্দ রয়েছে। RKSY-I কার্ডে মাথাপিছু ৫ কেজি চাল এবং RKSY-II কার্ডে মাথাপিছু ২ কেজি চাল দেওয়া হয়। এই নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে উৎসবের জন্য চিনি ও ময়দা যোগ করার সিদ্ধান্তই এবারের রেশন ব্যবস্থার অন্যতম বড় পরিবর্তন।
খাদ্য দপ্তর সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেশন কার্ডের শ্রেণিবিন্যাস মাথায় রেখেই নতুন সামগ্রীর পরিমাণ ঠিক করা হবে। সেই কারণে চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশের আগে কোনও নির্দিষ্ট কার্ডে কত কেজি চিনি বা ময়দা মিলবে, তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। দুর্গাপুজো ২০২৬ সালে অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুজো-সংক্রান্ত সূচি অনুযায়ী মহালয়া ১০ অক্টোবর ও দুর্গাপুজোর মূল পর্ব ১৭ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে। এরপর নভেম্বর মাসে কালীপুজো। ফলে উৎসবের দীর্ঘ সময়জুড়ে রেশন গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পুজো থেকে কালীপুজো পর্যন্ত একাধিক উৎসবের সময়ে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে চিনির বিষয়টি নিয়ে বাজারদরের দিকে নজর রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকারও অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির সহজলভ্যতা বজায় রাখতে ডিলারদের মজুতসীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ডিলারদের চিনি মজুত রাখার সীমা ৪,০০০ কুইন্টাল থেকে কমিয়ে ২,০০০ কুইন্টাল করা হয় এবং এই নির্দেশ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর রাখার কথা জানানো হয়েছিল।
উৎসবের সময়ে চিনির চাহিদা সাধারণত বাড়ে। বাড়িতে পায়েস, মিষ্টি, লাড্ডু, বিভিন্ন ধরনের পিঠে বা মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরির জন্য চিনি প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে ময়দার ব্যবহারও বেড়ে যায়। লুচি, পরোটা, নিমকি, নানা ধরনের ভাজাভুজি কিংবা বাড়িতে তৈরি জলখাবারের ক্ষেত্রে ময়দা অন্যতম প্রয়োজনীয় উপকরণ। ফলে রেশন দোকান থেকে এই দুটি খাদ্যসামগ্রী পাওয়া গেলে উৎসবের বাজার করার সময় কিছুটা খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সুবিধাটি পেতে উপভোক্তাদের কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, সেই বিষয়েও খাদ্য দপ্তরের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা রয়েছে। রেশন দোকানগুলিতে কবে থেকে চিনি ও ময়দা পৌঁছবে, কোন কার্ডধারীরা তা পাবেন এবং বিতরণের সময়সীমা কী হবে, এই বিষয়গুলি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হতে পারে। তাই শুধুমাত্র মৌখিক ঘোষণার ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট পরিমাণ ধরে রেশন দোকানে যাওয়ার পরিবর্তে চূড়ান্ত নির্দেশিকার দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় একাধিক শ্রেণির কার্ড রয়েছে। AAY কার্ড মূলত সবচেয়ে বেশি খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন এমন পরিবারগুলির জন্য নির্ধারিত। PHH ও SPHH কার্ডের ক্ষেত্রে সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে বরাদ্দ নির্ধারিত হয়। আবার RKSY-I এবং RKSY-II কার্ডের ক্ষেত্রেও মাথাপিছু চালের পরিমাণ আলাদা। তাই উৎসবের অতিরিক্ত সামগ্রী বণ্টনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের শ্রেণিভিত্তিক কাঠামো রাখা হবে কি না, তা খাদ্য দপ্তরের পরবর্তী সিদ্ধান্তে জানা যাবে। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার ঘোষণার পর থেকেই রেশন গ্রাহকদের মধ্যে মূলত দুটি বিষয় নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কতটা চিনি পাওয়া যাবে ও কতটা ময়দা দেওয়া হবে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বরাদ্দ চূড়ান্ত করতে খাদ্য দপ্তরের তরফে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ঘোষণা হলেও চূড়ান্ত পরিমাণ এখনও অপেক্ষমাণ। এদিকে পুজোর সময়ে বাজারে কেনাকাটার চাপ বাড়ে। পোশাক, জুতো, উপহার, পুজোর সামগ্রী থেকে শুরু করে রান্নার উপকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে পরিবারের মাসিক খরচের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় হয়। বহু পরিবারে পুজোর আগে বাজারের তালিকায় চিনি ও ময়দাও থাকে। ফলে নিয়মিত রেশন সামগ্রীর বাইরে এই দুটি পণ্য বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ উৎসবের বাজারের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।
রেশন দোকানগুলির ক্ষেত্রেও এবার নতুন দায়িত্ব আসতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি ও ময়দা সরবরাহ, সংরক্ষণ আর কার্ড অনুযায়ী বিতরণ, নির্দিষ্ট নিয়মে করতে হবে। উপভোক্তাদের যাতে প্রাপ্য সামগ্রী পেতে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য খাদ্য দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশিকায় বিতরণ সংক্রান্ত নিয়মও জানানো হতে পারে। প্রসঙ্গত, রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে বা ভর্তুকিতে খাদ্যশস্য পাওয়ার বিষয়টি বহু পরিবারের মাসিক খাদ্য বাজেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সেই ব্যবস্থার সঙ্গে উৎসবের সময় অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী যুক্ত হলে তার প্রভাব শুধু পুজোর রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবারের নিয়মিত বাজার খরচের হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁরা রেশন ব্যবস্থার উপর খাদ্যশস্যের জন্য নির্ভরশীল, তাঁদের কাছে অতিরিক্ত চিনি ও ময়দা পাওয়ার সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আলাদা।
কিন্তু, আপাতত সবচেয়ে জরুরি হল খাদ্য দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি। কোন কার্ডে কতটা চিনি, কতটা ময়দা, কখন থেকে বিতরণ শুরু হবে এবং কতদিন পর্যন্ত পাওয়া যাবে—এই তথ্যগুলি সরকারি নির্দেশে চূড়ান্ত হবে। বর্তমানে যে বিষয়টি জানা গিয়েছে, তা হল দুর্গাপুজোর উৎসবকে সামনে রেখে রেশন ব্যবস্থায় নিয়মিত চাল-আটা বা গমের বাইরে চিনি ও ময়দা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এই সুবিধা কালীপুজো পর্যন্ত চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পুজোর আগে রেশন গ্রাহকদের জন্য এবারের ঘোষণা নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। তবে সুবিধার প্রকৃত পরিমাণ জানতে কার্ডভিত্তিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে, কোন পরিবারের রেশন ঝুলিতে কতটা চিনি ও ময়দা যোগ হচ্ছে। তার আগে পর্যন্ত রেশন গ্রাহকদের কাছে মূল খবর একটাই, উৎসবের মরশুমে নিয়মিত রেশনের পাশাপাশি এবার চিনি ও ময়দাও দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য দপ্তর।
ছবি : সংগৃহীত প্রতীকী
আরও পড়ুন : Rabi Season Fertiliser Stock India | রবি মরশুমে বড় স্বস্তি কৃষকদের, দুই বছরের সর্বোচ্চ সারের মজুত দেশে




