Madan Mitra retirement from politics | মদন মিত্র কি রাজনীতি ছাড়ছেন! ‘স্কাউন্ড্রেলদের আস্তাকুঁড়’ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

SHARE:

রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। রাজনীতিকে ‘স্কাউন্ড্রেলদের আস্তাকুঁড়’ বলায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর কি এবার ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন মদন মিত্র (Madan Mitra)? কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, সময় যত এগোচ্ছে, রাজনীতির প্রতি তাঁর বিরক্তি ও ঘৃণাই বাড়ছে। এমনকী ব্যক্তিগত ভাবে রাজনীতি থেকে কতটা ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টাও করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরেই এখন সবচেয়ে বেশি চর্চা, রাজনীতি নাকি ‘স্কাউন্ড্রেলদের শেষ রিসর্ট’, অর্থাৎ বখাটেদের শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। মদন মিত্রের এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কামারহাটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয় পান মদন। কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। সেই আবহেই গত ১৫ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন শিবিরের একাধিক সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এরপর তাঁকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর সঙ্গে দেখা যায়।

আরও পড়ুন : Madan Mitra on Sovandeb Chattopadhyay | ‘বিরোধী দলনেতা হতে সই জাল!’ শোভনদেবকে নিশানা মদন মিত্রের, তৃণমূলে ফের কোন্দল

কিন্তু, মদন মিত্রের সেই সময়কার অবস্থান ছিল কিছুটা ভিন্ন। সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দিলেও তিনি নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবেই উল্লেখ করেছিলেন। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে তিনি বলেছিলেন, তিনি দল ছাড়েননি, শুধু ‘ঘর বদলেছেন’। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের জাতীয় ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথাও জানান। দলীয় মুখ্য সচেতকের পদ থেকেও তিনি সরে দাঁড়ান। এর পর থেকেই মদন মিত্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সঙ্গী হিসেবে পরিচিত এই নেতা কেন হঠাৎ সংগঠনের মূল শিবির থেকে দূরত্ব তৈরি করলেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলতে থাকে। জুলাইয়ে তাঁর শিবির বদলের পর তৃণমূলের অন্দরের বিরোধও আরও প্রকাশ্যে আসে। সেই পর্বে দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও একাধিক মন্তব্য করেছিলেন মদন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এবার অবশ্য তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু কোনও নির্দিষ্ট নেতা বা দলীয় পদ নয়। গোটা রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েই নিজের বিরক্তির কথা জানিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর কথায়, সময়ের সঙ্গে রাজনীতির প্রতি তাঁর ঘৃণা বাড়ছে। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ভাবছেন, কীভাবে ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া যায়। এরপরই রাজনীতির বর্তমান চরিত্র নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য সামনে আসে। মদনের বক্তব্য, ‘যত দিন যাচ্ছে, রাজনীতির উপরে আমার ঘৃণা ছাড়া আর কিছু বাড়ছে না। সবাই না হলেও, রাজনীতি এখন স্কাউন্ড্রেলদের শেষ রিসর্টে পরিণত হচ্ছে। স্কাউন্ড্রেলদের আস্তাকুঁড় হয়ে গিয়েছে।’ এই বক্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠছে, মদন মিত্র কি সত্যিই সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন? তাঁর কথায় অন্তত সেই ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও এখনই তিনি কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। ফলে তাঁর মন্তব্যকে আপাতত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari | Rejinagar By Election : রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে শুভেন্দুর নিশানায় হুমায়ুন, ‘বিচারের ভার গণদেবতার’

মদন মিত্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিবিধিও এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সঙ্গী হিসেবে পরিচিত মদনকে জুলাই মাসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে দেখা যায়। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতেও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়। যে দিনটি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে তাঁর পরিচয়ের অন্যতম অংশ ছিল, সেই দিন অন্য শিবিরের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। শুধু দলীয় মঞ্চ নয়, কলকাতা মেট্রোপলিটনে গণেশপুজো ঘিরেও সাম্প্রতিক সময়ে মদন মিত্রকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে যুক্ত এই পুজোকে ঘিরে শিবির পরিবর্তনের পর নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। ফলে সাংগঠনিক পদ থেকে সরে যাওয়া, অন্য শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং এবার রাজনীতি থেকেই দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত, তিনটি বিষয় একসঙ্গে মদন মিত্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন : Madan Mitra defection | ঋতব্রতদের দলে মদন, তৃণমূলে ফের ধাক্কা

মদন মিত্রের সাম্প্রতিক অবস্থানের আরও একটি দিক হল, কয়েক দিন আগেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রসঙ্গ। এক সময় যাঁর সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ চলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেই এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পর এবার রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা বলায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা তিনি নিজে বিস্তারিত ভাবে জানাননি। তাঁর বক্তব্যে মূলত রাজনীতির বর্তমান পরিবেশ নিয়ে হতাশা এবং বিরক্তির কথাই উঠে এসেছে। অতীতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যেমন নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে, তেমনই এবারও তাঁর বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে যে, এটি কী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সাময়িক হতাশার বহিঃপ্রকাশ, নাকি সত্যিই সক্রিয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি?

রাজ্য রাজনীতিতে মদন মিত্রের পরিচিতি দীর্ঘ দিনের। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর উপস্থিতি ছিল। পরবর্তী সময়ে রাজ্য মন্ত্রিসভাতেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। কামারহাটি কেন্দ্রের রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা রয়েছে। সেই নেতার মুখেই যখন রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু, তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। কারণ তিনি রাজনীতি ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি। বরং ব্যক্তিগত ভাবে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন বলেই জানিয়েছেন। ফলে আগামী দিনে তাঁর অবস্থান কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। মদন মিত্রের ‘স্কাউন্ড্রেলদের আস্তাকুঁড়’ মন্তব্য অবশ্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে তাঁর যাতায়াত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্য এবং রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, সব মিলিয়ে কামারহাটির বিধায়কের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। এখন দেখার, এই ক্ষোভ কি শেষ পর্যন্ত তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সত্যিই দূরে সরিয়ে দেয়, নাকি সময়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে আবার কোনও নতুন পরিবর্তন আসে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Donald Trump | India US relations : নরেন্দ্র মোদী-ট্রাম্পের ফোনালাপে বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা থেকে প্রযুক্তি, আঞ্চলিক শান্তি নিয়েও আলোচনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন