সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটকে (West Bengal election) সামনে রেখে প্রস্তুতির গতি বাড়াল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ঠিক পরেই সোমবার একটি জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছে কমিশন। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, বাহিনী মোতায়েন, স্পর্শকাতর অঞ্চল চিহ্নিতকরণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়, সব দিক খতিয়ে দেখা হবে এই বৈঠকে বলেই সূত্রের খবর। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো বৈঠকই ভার্চুয়াল মাধ্যমে হবে এবং তাতে যুক্ত থাকবেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। শনিবার প্রকাশিত প্রথম দফার তালিকার পর রাজ্যে ভোট প্রস্তুতির কাজ কার্যত পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে যে বৈঠকটি হবে, সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের আইজি, ডিআইজি, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও এসএসপিরা। দুপুরের পর পৃথক বৈঠকে যোগ দেবেন রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার এবং কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর নোডাল অফিসাররা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বর্তমান পরিস্থিতি ও অতীত নির্বাচনী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।
একজন প্রশাসনিক কর্তা জানিয়েছেন, ‘ভোটের আগে স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে টহল ও রুটমার্চ জোরদার করা হবে। কোথাও যাতে অশান্তির আবহ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।’ জেলা পর্যায়ে স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাচল ও দায়িত্ব বণ্টনের খসড়াও প্রস্তুত করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময়ে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বা সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (Central Armed Police Forces বা CAPF) কত সংখ্যায় মোতায়েন হবে, সেই বিষয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ভোটার তালিকা ঘিরে পরিসংখ্যানও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। শনিবার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম এখনও বিবেচনাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এই নামগুলি বিচারবিভাগীয় পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত যাচাইয়ের পর আরও কিছু সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে। জানা যাচ্ছে, বিচারকদের পর্যবেক্ষণের পর ফের সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা থেকে আপাতত বাদ পড়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন। ফলে বর্তমানে মোট বিয়োজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২। প্রশাসনিক মহলের মতে, একাধিক ক্ষেত্রে ঠিকানা পরিবর্তন, মৃত্যুর তথ্য হালনাগাদ না হওয়া বা নথিপত্রের অসামঞ্জস্যতার কারণেই এই বিয়োজন হয়েছে। অন্যদিকে নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। ৬ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৮ নম্বর ফর্মের সাহায্যে ৬ হাজার ৬৭১ জনের নাম সংশোধন বা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে উল্লেখ। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) -এর নির্দেশ মেনে বিচারবিভাগীয় ঝাড়াইবাছাইয়ের আওতায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত আপত্তি ও দাবি খতিয়ে দেখে পরবর্তী চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা, এই প্রক্রিয়া চলাকালীনই হয়তো ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলেও এই বৈঠককে ঘিরে কৌতূহল তুঙ্গে। কারণ, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলার চিত্র, বাহিনী মোতায়েনের সংখ্যা এবং স্পর্শকাতর বুথের তালিকা, এসবই নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়লে বুথে নিরাপত্তা জোরদার হয় এবং ভোটারদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পায়। সেই দিকটি মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নিতে চাইছে কমিশন।
একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, ‘প্রতিটি জেলায় আলাদা পরিস্থিতি থাকে। কোথাও সীমান্তবর্তী এলাকা, কোথাও আবার ঘনবসতিপূর্ণ নগর অঞ্চল। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, ভোটের সময় যাতে পরিবহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ইভিএম মজুত সংক্রান্ত কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্যও আলাদা রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। ভোটার তালিকার সাম্প্রতিক তথ্য ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের নাম তালিকায় রয়েছে কি না তা যাচাই করছেন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবস্থার ফলে ঘরে বসেই আবেদন, সংশোধন ও স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ভোট প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই কমিশনের এই আগাম তৎপরতা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সোমবারের বৈঠকে যে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা আগামী দিনের প্রস্তুতির দিশা নির্ধারণ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভোট ঘোষণার আগে এই প্রশাসনিক সমন্বয় রাজ্যের নির্বাচনী আবহকে আরও গতিশীল করে তুলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : SIR List 2026, West Bengal Election | SIR তালিকা প্রকাশ ২০২৬: ৭.৮ কোটি নাম, ৬০ লক্ষ অমীমাংসিত, জেলা ভিত্তিক পূর্ণ তথ্য




