সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগারওয়াল (Manoj Kumar Agarwal) এবার বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ সফরে যাচ্ছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর সাম্প্রতিক সফর ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার আবহ এখনও পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। তার মধ্যেই এই নতুন জেলা সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, শুক্রবার বীরভূম জেলায় পৌঁছবেন সিইও। পরদিন, অর্থাৎ শনিবার তাঁর মুর্শিদাবাদ যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এই দুই জেলাতেই আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে ভোটের আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা এবং প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় জোরদার করাই এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সিইও দফতরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে ইঙ্গিত, সফর চলাকালীন মনোজকুমার অগ্রবাল জেলার নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি, মাঠপর্যায়ে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গেও তিনি কথা বলতে পারেন। ভোটারদের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ বা প্রত্যাশা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে গত শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে গিয়ে জেলা সফরের সূচনা করেছিলেন মনোজ। সেই সফরে তিনি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তবে সেই সফরের পরেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয় একটি ছবিকে ঘিরে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) দাবি তোলে, সিইও-কে স্থানীয় এক বিজেপি (Bharatiya Janata Party) নেতার সঙ্গে দেখা গিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সাংবাদিক সম্মেলনে একটি ছবি প্রকাশ করে বলেন, ‘মনোজের পাশে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নাম তপনকুমার মহাপাত্র (Tapan Kumar Mahapatra)।’ তাঁদের দাবি, এই ব্যক্তি নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর অঞ্চলের বিজেপির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর ঘনিষ্ঠ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফে সিইও-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দলের অভিযোগ, ‘একজন সাংবিধানিক পদাধিকারীর এই ধরনের উপস্থিতি নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী হতে পারে।’ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ভারতের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien) একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র পাঠিয়ে জানিয়েছেন, ‘মনোজকুমার অগ্রবালের ভূমিকা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে।’ তাঁদের দাবি, এই ধরনের আচরণ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ (Representation of the People Act, 1951) -এর আওতায় ‘দুর্নীতিমূলক আচরণ’-এর পর্যায়ে পড়তে পারে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সিইও দফতরের পক্ষ থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে প্রশাসনিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, ভোটের আগে বিভিন্ন জেলায় সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা সিইও-র দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে এবং সেই সূত্রেই এই সফরগুলি হচ্ছে। উল্লেখ্য, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ, দু’টি জেলাই রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই জেলার একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী, প্রথম দফায় যেসব জেলায় ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিইও-র জেলা সফর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে সাহায্য করবে বলেই ধারণা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নন্দীগ্রাম সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এই নতুন সফরগুলি আরও বেশি নজরে থাকবে। সিইও কীভাবে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখেন এবং অভিযোগের আবহের মধ্যেও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যান, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এই প্রেক্ষাপটে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ সফর প্রশাসনিক ও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটের আগে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ভোটারদের মনোভাব এই সফরকে ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : food adulteration India NHRC meeting, AI food safety India | খাদ্যে ভেজাল রুখতে বড় পদক্ষেপ, এনএইচআরসি বৈঠকে এআই নজরদারি ও কড়া আইন প্রস্তাব




