আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তি এত উন্নতি হবার পরও বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিধর দেশ আমেরিকা যেখানে ভোটকে কেন্দ্র করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। তবে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের বারংবার প্রকাশিত বিভিন্ন নির্দেশ যা শাসক বিরোধী থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের কাছে ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আজকে বলতে কোনও দ্বিধা নেই, এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ বিশেষ পদাধিকারদের কথা উল্লেখ না করলেই নয় যাদের দ্বারা এই অসম্ভবকে সম্ভব এ পরিণত করা ১০০% সফল হয়েছে। লিখেছেন: অগ্নি প্রতাপ

পর্ব : ১০
গণতন্ত্রের অন্যতম বড় স্তম্ভ হল অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটাধিকার। ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এক নজিরবিহীন সাক্ষী থাকলো পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারত বর্ষ সমেত সারা বিশ্ব। যেখানে মোট দুই দফায় এই বিধানসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ হয়। প্রথম দুই দফা এবং পোস্টাল ব্যালট এর হিসাব যোগ করলে কমবেশি ৯৪ শতাংশ। আর একমাত্র হ্যাঁ খালি একমাত্র সাশ্রয় নিউজ এর পাতাতেই প্রকাশিত হয়েছিল SIR এর সরাসরি প্রভাব ১০ থেকে ১১ শতাংশ ভোট দান বেশি হবার এবং ভোট দানের হার কমবেশি ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ হতে পারে অনুমান যা আজ পর্যন্ত কোন সংস্থা বা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সরাসরি অনুমান বা আভাস প্রকাশিত হয়নি যা ভোটদানের হার অনুমান বা আভাস অনুযায়ী ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা গেছে।
১৯৫১ সালে প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ভোটদানের হার ছিল ৪৩.১২।
এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক যখনই ভোট দানের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি হয়েছে তখনই সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত ততই স্পষ্ট হয়েছে। ১৯৭৭ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের হার ৫৬.১৫
২০১১ বিধানসভার নির্বাচনে ভোটের হার ৮৪.৭২
২০২৬ বিধানসভার নির্বাচনে ভোটের হার ৯৪.০০ (কমবেশি)।
২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ভোটের হার কমবেশি ৯৪ শতাংশ যা সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে। ইতিহাস রচনাকারী এই শতাংশর হার যেখানে বিগত কয়েক দশক ধরে ভয় ভীতি, খুন সন্ত্রাস, অরাজকতা, হুমকি ভোট দানে বাধা, গুলি বোমার অবিরাম বর্ষণ, বহু প্রাণ বলিদান এবং পরিশেষে গণনায় কারচুপি থেকে ভোট পরবর্তী হিংসা যা সাধারণ মানুষ দেখে এক দিকে যেমন আতঙ্কিত অন্যদিকে এই ২০২৬ নির্বাচন যেখানে বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, স্বচ্ছ এবং অবাধ, ভয় মুক্ত, ছাপ্পা মুক্ত, খুন, সন্ত্রাস মুক্ত, গণনায় কারচুপি মুক্ত এবং মানুষের আস্থা ও ভরসা জাগিয়ে ভোট মুখী করা শুরু থেকেই শাসক থেকে বিরোধী অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে সাধারণ মানুষ সর্বোপরি আদালত যা সবার কাছে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়।এই নির্বাচন সত্যিই যা সাধারণ মানুষের আস্থা এবং ভরসা যোগাতে ১০০ শতাংশ সফল হয়েছেন নির্বাচন কমিশন।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তি এত উন্নতি হবার পরও বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিধর দেশ আমেরিকা যেখানে ভোটকে কেন্দ্র করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। তবে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের বারংবার প্রকাশিত বিভিন্ন নির্দেশ যা শাসক বিরোধী থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের কাছে ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আজকে বলতে কোনও দ্বিধা নেই, এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ বিশেষ পদাধিকারদের কথা উল্লেখ না করলেই নয় যাদের দ্বারা এই অসম্ভবকে সম্ভব এ পরিণত করা ১০০% সফল হয়েছে।
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৮
১)ভারতের বর্তমান এবং ২৬তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।১৯৮৮ ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের প্রাক্তন আইএএস অফিসার।২০২৩ আইন অনুযায়ী নিযুক্ত প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে ১৪ মার্চ ২০২৪ থেকে তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ভারতের প্রাক্তন সমবায় সচিব দায়িত্বভার সামলেছেন। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ভ্যানিশ কুমার বলে আখ্যা দেন।
বর্তমানে কমিশনের অন্যান্য দুই সদস্য হলেন
সুখবির সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী।
২)১৯৯০ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের একজন অবসরপ্রাপ্ত আই এ এস অফিসার হলেন সুব্রত গুপ্ত।২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেন নির্বাচন কমিশন।রাজ্যে সুষ্ঠু, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ও মৃত্যুহীন ভোট এবং ডায়মন্ড হারবার, সোনারপুর, মগরাহাট, ফলতা ইত্যাদি স্পর্শকাতর এলাকায় ইভিএম কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নিষ্ঠার সঙ্গে স্ক্রুটিনি করছেন।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সহ পরিবহণ, জলসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রক দায়িত্বভার সামলেছেন।
২০২৬ রাজ্যে নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা কড়া ভাবে উল্লেখ করেছেন।
৩)মনোজ কুমার আগরওয়াল হলেন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১৯৯০ ব্যাচের একজন আইএএস অফিসার।বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং ২০২৫ থেকে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের দায়িত্বভার পালন করছেন।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা,প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং নির্বাচনের সময় রাজ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন এবং ভোট প্রক্রিয়া মনিটর করার জন্য দায়বদ্ধ।
৪)একমাত্র আই পি এস অফিসার যিনি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা নির্বাচনে একমাত্র পুলিশ পর্যবেক্ষক মাত্র ৭২ ঘণ্টা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনের রক্ষকের ভূমিকায় তিনি যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি আর কেউ নন অজয় পাল শর্মা উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের ২০১১ ব্যাচের একজন আইপিএস অফিসার।৫০০-র বেশি এনকাউন্টার পরিচালনা করে “এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট” বা “ইউপি সিংহাম” নামে পরিচিতি লাভ করেন। প্রথম জীবনে পেশায় ডেন্টিস্ট থেকে আইপিএস পুলিশ অফিসার বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদে কর্মরত।পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের পর শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের ফলতা বিধানসভার মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়-ভীতি এবং ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে তল্লাশি এবং সতর্কবার্তায় প্রার্থী সমেত অনুগামীদের উদ্দেশ্যে কঠিন এবং কঠোর আইনে ব্যবস্থা প্রয়োগের হুমকি ভিডিও ভাইরাল হতেই শাসকের রক্তচক্ষুর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। অদম্য সাহস এবং আইনের শাসনের পুন: প্রতিষ্ঠা জেদের কাছে সামান্য দু একটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া অবশেষে কোনরকম রক্তপাত, ভোটদানে বাধা, সংঘর্ষ, গুলি বোমার অবিরাম বর্ষণ, মৃত্যুহীন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট দান সম্পন্ন হয়। ভোট শেষে ভোটের হার দাঁড়ায় ৯০.৩০ শতাংশ।
এই ৭২ ঘন্টা পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং প্রমাণ করেছেন আইনের রুক্ষক হিসেবে একজন পুলিশ অফিসার সঠিকভাবে দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করলে অসম্ভব বলে কিছু হয় না ফলস্বরপ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে হয়ে উঠেছেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
আগামী ৪ মে সোমবার ২০২৬ এই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন অর্থাৎ বিগত ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফা নির্বাচন যে অভূতপূর্ব ভয় মুক্ত, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবার দরুণ নির্বাচন কমিশনকে কুর্নিশ জানাই এবং সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনগুলোতেও যাতে করে মানুষের অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা যাতে করে অটুট থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি থাকল।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal election turnout 2026 | ৯২% পার ভোট, দেশজোড়া রেকর্ড বাংলার, ফলাফলে বড় পরিবর্তনের আভাস!



