সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ (WB Assembly election 2026, Phase 1) ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেল উত্তরবঙ্গ থেকে পশ্চিমাঞ্চল, মুর্শিদাবাদ থেকে পূর্ব মেদিনীপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায়। মোট ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট গ্রহণ চলছে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪৭৮ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ১৬৭ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন, যা নারী অংশগ্রহণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নজির গড়েছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর তত্ত্বাবধানে সকাল ৭টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ, আর শুরু থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথম দফায় ভোট হচ্ছে কোচবিহার (Cooch Behar)-এর ৯টি, আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-এর ৫টি, জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri)-এর ৭টি, কালিম্পঙ (Kalimpong)-এর ১টি, দার্জিলিং (Darjeeling)-এর ৫টি, উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur)-এর ৯টি, দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur)-এর ৬টি, মালদহ (Malda)-এর ১২টি, মুর্শিদাবাদ (Murshidabad)-এর ২২টি, পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur)-এর ১৬টি, পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur)-এর ১৫টি, ঝাড়গ্রাম (Jhargram)-এর ৪টি, পুরুলিয়া (Purulia)-এর ৯টি, বাঁকুড়া (Bankura)-এর ১২টি, পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman)-এর ৯টি এবং বীরভূম (Birbhum)-এর ১১টি আসনে।
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৮
সকালের প্রথম দু’ঘণ্টাতেই ভোটদানের হার আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দেয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোট পড়ে ১৮.৭৬ শতাংশ। জেলার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল পশ্চিম মেদিনীপুর, সেখানে এই সময়ের মধ্যে ভোট পড়ে ২০.৫১ শতাংশ। তার পরেই বাঁকুড়া, যেখানে ভোটের হার ছিল ২০.২০ শতাংশ। অন্যদিকে মালদহে তুলনামূলক কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, সেখানে ভোট পড়ে ১৬.৯৬ শতাংশ। আলিপুরদুয়ারে সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ১৭.৭০ শতাংশ। আসনভিত্তিক হিসেবে সকাল ৯টা পর্যন্ত বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে সর্বাধিক ২২.০৫ শতাংশ ভোট পড়ে। বিপরীতে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে সবচেয়ে কম ১৫.৫৭ শতাংশ ভোট রেকর্ড হয়। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম (Nandigram)-এ এই সময় পর্যন্ত ভোট পড়ে ১৯.১১ শতাংশ, আর বহরমপুর (Berhampore)-এ ছিল ১৯.৮৮ শতাংশ। সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়তেই ভোটের গতি আরও বাড়ে। সকাল ১১টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোট পড়ে ৪১.১১ শতাংশ। এই সময়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে সর্বাধিক ৪৪.৬৯ শতাংশ ভোট পড়ে, আর মালদহে ছিল ৩৮.২২ শতাংশ। গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এই হার অনেকটাই বেশি। সেই নির্বাচনে প্রথম দফায় সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৩৩.৬ শতাংশ, যা এ বারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অন্যান্য দফাতেও সেই হার ২৮ থেকে ৩৭ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছিল।
১১টা পর্যন্ত আসনভিত্তিক হিসেবেও চমকপ্রদ ছবি সামনে আসে। শামসেরগঞ্জ (Samsherganj) কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৪৯.৫২ শতাংশ ভোট পড়ে। নন্দীগ্রামে ভোটের হার দাঁড়ায় ৪২.৮০ শতাংশ এবং বহরমপুরে ৪১.৩১ শতাংশ। দুপুর ১টা নাগাদ ভোটদানের হার আরও লাফিয়ে বাড়ে। শামসেরগঞ্জ কেন্দ্রে এই সময় পর্যন্ত ৭১.০৭ শতাংশ ভোট পড়ে, যা দিনের অন্যতম সর্বোচ্চ। নন্দীগ্রামে ৬৫.৪৬ শতাংশ এবং বহরমপুরে ৬১.৬৯ শতাংশ ভোট রেকর্ড হয়। একই সময়ে তামিলনাড়ুতেও (Tamil Nadu) ভোটগ্রহণ চলছিল, সেখানে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৫৬.৮১ শতাংশ।
দুপুর ৩টে পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটদানের হার দাঁড়ায় ৭৮.৭৭ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী অত্যন্ত উচ্চ। জেলার মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরে সর্বাধিক ৮১.৪৯ শতাংশ ভোট পড়ে। অন্যদিকে কালিম্পঙে তুলনামূলক কম, সেখানে ভোটের হার ৭৪.০৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, দুপুর ৩টে পর্যন্ত সে সময় ভোট পড়েছিল ৫৯ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে। এ বার সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।প্রসঙ্গত, দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন কড়া নজরদারি চালিয়েছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, প্রথমবারের ভোটারদের উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণদের উপস্থিতি, উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক প্রাণবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে রাজ্য জুড়ে।
ছবি : নিজস্ব
আরও পড়ুন : West Bengal Election 2026 Exit Poll : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬, বুথ ফেরত সমীক্ষার সার্বিক বিশ্লেষণ



