সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেঙ্গালুরু: ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রধান নির্বাচক পদ ঘিরে। অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) -এর সঙ্গে বোর্ডের মতভেদের খবর সামনে আসার পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহে প্রাক্তন ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষ্মণ (VVS Laxman) -এর নাম সামনে আসে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে। কিন্তু রবিবার তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)-র আসন্ন বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আগরকরের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে ক্রিকেটমহলে আলোচনা চলছে। যদিও বোর্ডের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নির্বাচক কমিটির ভিতরে এবং বোর্ড স্তরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে কে দায়িত্ব নিতে পারেন, তা নিয়ে নানা নাম উঠে আসছে।
এরই মধ্যে লক্ষ্মণের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। তিনি দীর্ঘদিন জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি তথা উৎকর্ষ কেন্দ্রের (Centre of Excellence) সঙ্গে যুক্ত। তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নয়ন এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। অতীতে প্রধান কোচ পদেও তাঁর আগ্রহের কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) -এর সঙ্গে চুক্তি থাকায় সেই সম্ভাবনা এগোয়নি। পরবর্তীতে শোনা যায়, বোর্ড চাইলে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিতে রাজি থাকতে পারেন লক্ষ্মণ। এই পদে থাকলে নিয়মিত সফরের চাপ তুলনামূলক কম, ফলে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পরিকল্পনায় মন দেওয়া যায়, এমন ধারণাও প্রচলিত। কিন্তু রবিবার বেঙ্গালুরুর উৎকর্ষ কেন্দ্রে এক সাংবাদিক বৈঠকে লক্ষ্মণের বক্তব্য পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়। তিনি জানান, ‘আমি উৎকর্ষ কেন্দ্রের সঙ্গে আমার চুক্তি আরও দু’বছর বাড়িয়ে নিয়েছি।’ এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, তিনি কি আদৌ প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী? কারণ চুক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয়, বর্তমান ভূমিকাতেই তিনি আপাতত থাকতে চান।
সাংবাদিক বৈঠকের পুরো সময় জুড়ে লক্ষ্মণ উৎকর্ষ কেন্দ্রের কাজ এবং তার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। ভারতীয় ক্রিকেটে পরিকাঠামো উন্নয়ন, তরুণদের প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বর্তমান ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্যে কোথাও প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলেই মনে করছেন অনেকে। একই সঙ্গে তিনি প্রাক্তন ক্রিকেটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতিতে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু অবদান রাখা উচিত।’ এই মন্তব্যও বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কেউ মনে করছেন, তিনি সরাসরি প্রশাসনিক পদে না গিয়ে নিজের বর্তমান দায়িত্বেই অবদান রাখতে চাইছেন।
এদিকে আগরকরকে ঘিরে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। বোর্ডের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে বলেই জানা যাচ্ছে। প্রয়োজনে নতুন মুখ আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও কোনও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবুও একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটারের নাম ঘুরছে আলোচনায়। ভারতীয় দলের সামনে ব্যস্ত সূচি। একাধিক আন্তর্জাতিক সিরিজ়, আইসিসি প্রতিযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এসব কিছু মিলিয়ে নির্বাচক কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দল গঠন, নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া, সিনিয়রদের নিয়ে ভাবনা এই সব ক্ষেত্রেই প্রধান নির্বাচকের সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলে।
এই পরিস্থিতিতে নেতৃত্বে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব দলের উপর পড়তে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন, এমন মতও শোনা যাচ্ছে ক্রিকেটমহলে। লক্ষ্মণের মন্তব্য সেই প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি যদি সত্যিই বর্তমান ভূমিকাতেই থাকতে চান, তা হলে বোর্ডকে অন্য বিকল্প খুঁজতে হবে। আবার পরিস্থিতি বদলালে ভবিষ্যতে নতুন সিদ্ধান্তও আসতে পারে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে এখন নজর প্রধান নির্বাচকের পদে। আগরকর থাকবেন কি না, লক্ষ্মণ দায়িত্ব নেবেন কি না, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কেউ আসবেন, এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও অমীমাংসিত। তবে সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও গতি পেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India WTC Position, Shubman Gill Team Ranking | শ্রীলঙ্কার ড্র-তেই এগিয়ে ভারত! টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শুভমনদের অবস্থান শক্ত, শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ার দাপট




