সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দীঘা: বর্ষার মরশুমে ইলিশ (Hilsa Fish) নিয়ে বাঙালির আবেগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে সেই আবেগে খানিকটা ভাঁটা পড়েছিল। বাজারে চাহিদা থাকলেও জোগান কম থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল ইলিশের দাম। তবে সাম্প্রতিক আবহাওয়ার পরিবর্তনের পর ছবিটা দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। দীঘার (Digha) মোহনায় হঠাৎ করেই ইলিশের বড় চালান আসতে শুরু করেছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার সকালে সমুদ্র থেকে ফিরে আসা একটি ট্রলার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৎস্যজীবীদের দাবি, ওই এক ট্রলারেই প্রায় আড়াই টন ইলিশ ধরা পড়েছে। জালে উঠেছে ছোট, মাঝারি থেকে বড় সব মাপের মাছ। এই বিপুল পরিমাণ মাছ একসঙ্গে ওঠার ঘটনায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী মহলে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে দিঘার মোহনায় মোট ইলিশ ওঠার পরিমাণ ৩০ টন ছাড়িয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন পর এমন পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় বাজারে জোগান বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মৎস্যজীবীদের কথায়, ‘আবহাওয়ার পরিবর্তনের পর সমুদ্রে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হয়েছে, তাই জালে বেশি মাছ উঠছে।’ চলতি মরশুমের শুরুতে নিষেধাজ্ঞা পর্ব শেষ হওয়ার পরও সমুদ্রে খুব বেশি ইলিশের দেখা মেলেনি। ফলে মাছ ধরার ট্রলারগুলিও তেমন সাফল্য পায়নি। এর পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার কারণে কয়েক দিন মাছ ধরার কাজ ব্যাহত হয়। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যায় এবং দাম বেড়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই ধারা বদলাতে শুরু করেছে।
দীঘার পাইকারি বাজারে এখন ইলিশের দাম ওজনভেদে আলাদা। ৩০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি প্রায় ৪০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম ১৩০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে মাছের মান, তাজা অবস্থা এবং আকার অনুযায়ী দামে ওঠানামা থাকছে। দীঘা ফিস অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (Digha Fish & Fish Traders Association) -এর সহ-সভাপতি নবকুমার পইড়া (Nabakumar Poira) জানান, ‘নিষেধাজ্ঞা কাটার পর প্রথম দিকে খুব একটা ইলিশ পাওয়া যায়নি। পরে এক সময়ে ২৫ থেকে ৩০ টন মাছ উঠেছিল। আবার কিছুদিন পরিস্থিতি খারাপ ছিল। এখন ফের ভালো জোগান আসছে।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ১ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১৩০০ থেকে ১৩৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকার মধ্যে। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছ প্রায় ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে এই দামের ওঠানামা সরাসরি জোগানের উপর নির্ভর করছে।
মৎস্যজীবীদের আশা, আগামী কয়েক দিনে আরও ট্রলার সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরে ফিরলে জোগান আরও বাড়বে। তাতে বাজারে ইলিশের দাম কিছুটা কমতে পারে। ইতিমধ্যেই পাইকারি বাজারে সরবরাহ বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। খুচরো বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইলিশপ্রেমীদের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই অপেক্ষা করছেন দাম কিছুটা কমলে কেনার জন্য। বর্ষার সময় ইলিশের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। ফলে জোগান বাড়লে বাজারে ভারসাম্য ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
দীঘার মোহনায় একসঙ্গে এত পরিমাণ ইলিশ ওঠা শুধু স্থানীয় বাজার নয়, বৃহত্তর মাছের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই মাছ পৌঁছতে শুরু করলে সরবরাহ চেইন আরও সক্রিয় হবে। ব্যবসায়ীদের মতে, পরবর্তী কয়েক দিন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা গুরুত্বপূর্ণ। এখন নজর রয়েছে সমুদ্রের উপরই। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবং মাছ ধরার কাজ স্বাভাবিক থাকলে ইলিশের জোগান আরও বাড়তে পারে। তাতে দামের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্য দিকে, আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে আবার পরিস্থিতি বদলাতেও পারে। কিন্তু, বর্তমানে দীঘার এই ইলিশ ধরা পড়ার খবর বাজারে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সকলের নজর এখন আগামী দিনের দিকে। ইলিশের জোগান এবং দামের এই ওঠানামা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : How to make mustard paste | সর্ষে বাটার সঠিক কৌশল: পাতুরি ও সর্ষে-ইলিশ রান্নার সময় কোন ভুল এড়াবেন?




