সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি/ইরোড: গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারে নতুন পথ দেখাতে চলেছে ‘বিকশিত ভারত- জি র্যাম জি আইন’। তামিলনাড়ুর ইরোডে কৃষক, শ্রমিক ও খেতমজুরদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এই মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)। তিনি বলেন, ‘এই আইন আত্মনির্ভর গ্রাম গঠনের পথে একটি শক্ত ভিত রচনা করেছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মৌলিক পরিকাঠামো বিস্তার এবং গ্রামের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য’।
ইরোডে আয়োজিত কর্মসূচীতে শ্রমিক ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, আগের ব্যবস্থায় মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প বা মনরেগার (MGNREGA) আওতায় ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা থাকলেও বহু জায়গায় সময় মতো কাজ মিলত না এবং মজুরি পেতেও বিলম্ব হত। তিনি একে গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই দুর্বলতা ও দুর্নীতি দূর করতেই ‘বিকশিত ভারত-জি র্যাম জি আইন’ -এর মাধ্যমে সংস্কার আনা হয়েছে।

নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না দেওয়া হলে শ্রমিকরা বেকার ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন। একই সঙ্গে, মজুরি প্রদানে যদি ১৫ দিনের বেশি বিলম্ব হয়, তাহলে শ্রমিকদের সুদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ‘এই ব্যবস্থাগুলি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সুরক্ষিত করবে এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অবকাশ কমাবে’। মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মীদের বেতন ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে প্রশাসনিক ব্যয় ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। গ্রামসভাকে শক্তিশালী করাও এই আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘এখন আর চেন্নাই বা দিল্লিতে বসে গ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঠিক করা হবে না। কোন কাজ হবে, কীভাবে হবে, তা গ্রামসভাই সিদ্ধান্ত নেবে’। তাঁর কথায়, এই বিকেন্দ্রীকরণ প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে এবং গ্রামের মানুষ নিজেদের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজেরাই নেবে।
শিবরাজ সিং চৌহান আরও বলেন, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর (Narendra Modi) নেতৃত্বে সরকার এমন ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে শ্রমিক ও কর্মীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। কেউই এই টাকায় নয়ছয় করতে পারবে না’। তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত শ্রমিক ও কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। ইরোড সফরের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বিখ্যাত হলুদ বাজার পরিদর্শন করেন এবং হলুদ চাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এই সময় তিনি ইরোডকে ‘টারমেরিক সিটি’ হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে একটি হলুদ পরীক্ষাগার (Turmeric Testing Laboratory) স্থাপনের ঘোষণা করেন। তিনি ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদকে (Indian Council of Agricultural Research -ICAR) প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন, যাতে এই পরীক্ষাগার দ্রুত স্থাপন করা যায়। শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ‘এই পরীক্ষাগার হলুদ চাষিদের গুণমান নির্ধারণ, সার্টিফিকেশন এবং উন্নত বিপণনে বড় সহায়ক হবে’।
এছাড়াও ইরোডে হলুদ বোর্ডের একটি আঞ্চলিক দফতর স্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি। যদিও বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীন, তবু কৃষিমন্ত্রী হিসেবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শিবরাজ সিং চৌহান। তাঁর মতে, এর ফলে হলুদ চাষিরা নীতিগত সহায়তা পাবেন, বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং নতুন রপ্তানি সম্ভাবনাও তৈরি হবে।ইরোড অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় হিমঘর স্থাপন করা সম্ভব এবং এ জন্য তামিলনাড়ু সরকারকে রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার (Rashtriya Krishi Vikas Yojana -RKVY) তহবিল ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হবে। পাশাপাশি চোরাপথে হলুদ আমদানি রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি এবং এই বিষয়ে দিল্লিতে বৈঠকের কথাও জানান। কৃষির ভিত্তি হিসেবে উন্নত মানের বীজের উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি আইসিএআর-এর মাধ্যমে বীজ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
শিবরাজ সিং চৌহান কৃষিক্ষেত্রে উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলিও খতিয়ে দেখেন। শতাধিক স্টল ঘুরে তিনি কৃষিপণ্য, তাদের গুণমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোক্তা ও কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এক হাজারেরও বেশি মহিলা কৃষকের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন তিনি এবং বিভিন্ন কৃষক সংগঠন ও প্রগতিশীল কৃষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতেও অংশ নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অন্যদিকে, ‘বিকশিত ভারত-জি র্যাম জি আইন’ গ্রামভিত্তিক অর্থনীতি ও সামাজিক ন্যায়ের পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সমালোচকরা। ইরোডের এই কর্মসূচী, সরকার গ্রামকে উন্নয়নের কেন্দ্রে রেখে আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk Partner Indian Origin | মাস্ক জানালেন তাঁর সঙ্গিনীর শিকড় ভারতে, ‘ইন্ডিয়ান অরিজিন’ পরিচয় ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে




