মেধা পাল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউড ও ক্রিকেট দুনিয়ার পরিচিত তারকাজুটি আথিয়া শেট্টী (Athiya Shetty) ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার কেএল রাহুল (KL Rahul) হঠাৎ করেই জড়িয়ে পড়লেন বিস্ময়কর প্রতারণা-কাণ্ডে। যদিও অভিযোগের কেন্দ্রে তাঁরা নন, তবুও তাঁদের নাম ও সই ব্যবহার করে কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় মুম্বইয়ের আম্বোলি পুলিশ (Amboli Police) ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত ক্রমশ গভীর হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে উল্লখ, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তরা হলেন একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঋষভ সুরেকা (Rishabh Sureka), সংস্থার কর্ণধার যশ নাগরকোটি (Yash Nagarkoti) এবং সহযোগী অশয় শাস্ত্রী (Ashay Shastri)। অভিযোগ, ঋষভ সুরেকা পরিকল্পিতভাবে অভিনেত্রী আথিয়া শেট্টীর সই নকল করে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করেন এবং সেই সূত্রে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি অভিনেতা অরশদ ওয়ারসীর (Arshad Warsi) নামেও একটি ভুয়ো ই-মেল আইডি তৈরি করেছিলেন, যাতে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে। সেই সময় ঋষভ সুরেকা আথিয়া শেট্টীর সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একটি নামী সোনার বিপণির বিজ্ঞাপনের জন্য আথিয়াকে তিনি ব্র্যান্ড ফেস হিসেবে নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিন। প্রাথমিক আলোচনায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার একটি চুক্তির কথা ওঠে। তবে সেই আলোচনা পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ নেয়নি। অভিযোগ, এখানেই প্রতারণার ছক কষেন ঋষভ। আথিয়ার সম্মতি ছাড়াই সোনার বিপণির কাছে তিনি আশ্বাস দেন যে বিজ্ঞাপনে আথিয়া শেট্টীকেই দেখা যাবে। এরপর অভিনেত্রীর সই জাল করে নিজেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
পুলিশের দাবি, এই জাল চুক্তির মাধ্যমে শুধু বিজ্ঞাপনের টাকা নয়, আথিয়া শেট্টী ও তাঁর স্বামী কেএল রাহুলের নাম ব্যবহার করে একাধিক ভুয়ো খাওয়া-দাওয়া ও বিলাসবহুল খরচের বিলও তৈরি করা হয়। সেই বিল দেখিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের মতে, আথিয়ার নাম ব্যবহার করে আরও কয়েকটি জায়গা থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার মোট অঙ্ক কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। এই বিজ্ঞাপন সংস্থার মূল অফিস হরিয়ানায় অবস্থিত হলেও আন্ধেরিতে (Andheri) তাদের একটি শাখা অফিস রয়েছে, যা ঠিক যশ রাজ ফিল্মস্ (Yash Raj Films) -এর অফিসের বিপরীতে। পুলিশ মনে করছে, এই লোকেশন ব্যবহার করেও অভিযুক্তরা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। চলচ্চিত্র জগতের বড় প্রযোজনা সংস্থার কাছাকাছি অফিস থাকায় বহু ক্লায়েন্ট সহজেই প্রভাবিত হয়েছিলেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ঋষভ সুরেকা ২০২৩ সালে এই সংস্থায় যোগ দেন। যোগ দেওয়ার পরপরই তিনি তাঁর মায়ের চিকিৎসার অজুহাতে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। অভিযোগ, এরপর থেকেই একাধিক আর্থিক অনিয়মে তিনি সংস্থার অন্দরেই ধরা পড়েন। তবুও নানা অজুহাতে তিনি সংস্থায় থেকে যান এবং বড় বড় তারকার নাম ব্যবহার করে নতুন প্রকল্প আনার প্রতিশ্রুতি দিতে থাকেন। ২০২৪ সালে তিনি নাকি দাবি করেছিলেন, একটি বড় বিজ্ঞাপনের জন্য অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে (Dia Mirza) ব্র্যান্ড ফেস হিসেবে আনবেন, যার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা। এই প্রস্তাব ঘিরেও সংস্থার অন্দরে সন্দেহ তৈরি হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আথিয়া শেট্টীর টিম বিষয়টি পুলিশের নজরে আনে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই আম্বোলি পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে ঋষভ সুরেকা, যশ নাগরকোটি ও অশয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক প্রতারণা, যেখানে তারকাদের জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে হাতিয়ার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আথিয়া শেট্টী ও কেএল রাহুলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না বলেই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তবে তাঁদের নাম জড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আইনজ্ঞদের মতে, তারকাদের সই ও নাম ব্যবহার করে এই ধরনের প্রতারণা বাড়ছে, যা আটকাতে আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন।
তবে, বর্তমানে অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেরা চলছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ঠিক কত টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে, জাল নথি ও ভুয়ো ই-মেল আইডির মাধ্যমে আর কোন কোন তারকার নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তাও যাচাই করা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণা-কাণ্ডে আগামী দিনে আরও বড় তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Records 2026 | বিরাট কোহলি: ২০২৬ সালেই চারটি রেকর্ডের সামনে ভারতীয় ক্রিকেট মহাতারকা




