সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : অযোধ্যার প্রশাসন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অস্থির। শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী (Swami Abhimukteshwaranand Saraswati) এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) এর মধ্যে চলমান টানাপড়েনের প্রভাব পড়ল অযোধ্যার এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার ওপর। মঙ্গলবার অযোধ্যার জিএসটি কমিশনার প্রশান্তকুমার সিংহ (Prashantkumar Singh) নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তিনি তাঁর ইস্তফায় স্পষ্ট করেন, শঙ্করাচার্যের মন্তব্য ও সমাজে বিভাজনের কারণ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিতর্কের সূত্রপাত এই মাসের শুরুতে। শঙ্করাচার্য ও তাঁর অনুসারীদের অভিযোগ, মাঘমেলার সময় প্রয়াগরাজ (Prayagraj) সংলগ্ন সঙ্গমে স্নান করতে গেলে বাধার মুখে পড়েছেন তাঁরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শঙ্করাচার্য রথে চেপে স্নান করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঘন ভিড়ের কারণে জনসুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তাঁর রথযাত্রা আটকানো হয়। বাকি পুণ্যার্থীদের মতো তাঁকেও পায়ে হেঁটে স্নান করতে বলা হয়।
শঙ্করাচার্য সরস্বতী দাবি করেছেন, এইভাবে তাঁকে ‘অপমান’ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তাঁর নোটিস জারি করা হয়েছে। প্রয়াগরাজ মেলা কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের এক মামলার উল্লেখ করে জানিয়েছেন, যত দিন পর্যন্ত ওই মামলার নিষ্পত্তি হবে না, তত দিন কোনও ধর্মীয় নেতাকে জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না। এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে শঙ্করাচার্য সরস্বতী ইউজিসি (University Grants Commission) -এর নতুন নীতিরও সমালোচনা করেছেন। নতুন নীতির অধীনে তফসিলি জাতি, উপজাতি ও অনগ্রসর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ কমিটি ও হেল্পলাইন তৈরি করতে হবে। শঙ্করাচার্য দাবী করেছেন, এই নীতি দেশের হিন্দু সমাজে বিভাজন বাড়াবে এবং ‘এক জাতির বিরুদ্ধে আর এক জাতিকে লড়িয়ে’ সমাজকে বিভক্ত করবে।
এই পরিস্থিতিতে অযোধ্যার জিএসটি কমিশনার প্রশান্তকুমার সিংহ ইস্তফা দেন। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংবিধানের সমর্থনে আমি ইস্তফা দিলাম। অভিমুক্তেশ্বরানন্দের মন্তব্য সমাজে বিভাজন আনতে করা হয়েছে। আমি সেই অপমান সহ্য করতে পারব না।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘‘যোগী আদিত্যনাথ নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। আমার দায়িত্ব শুধু বেতন নেওয়া নয়, বরং আমার নৈতিক দায়িত্ব, যা আমাকে বলতে বাধ্য করছে।’’
প্রশান্তকুমার সিংহ ইস্তফায় তুলে ধরেছেন, ইউজিসি-এর নতুন নীতি নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে, তাতে তিনি দুঃখিত। তবে তাঁর ইস্তফা গৃহীত হলে তিনি সামাজিক কাজের মাধ্যমে জনসাধারণের সেবা অব্যাহত রাখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মধ্যে এই টানাপড়েন উত্তরপ্রদেশ রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক স্তরে এই ইস্তফা সরকারের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনীতিক ও ধর্মনেতাদের মতবিরোধ এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন রাজ্য জুড়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অযোধ্যার স্থানীয় মানুষজন এবং সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ইস্তফা বিরল ঘটনা। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে সরকারকে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে ইস্তফা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশান্তকুমার সিংহকে নৈতিকতার উদাহরণ হিসাবে দেখছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘সরকারের সঙ্গে থাকা অবস্থায় নৈতিকতা বজায় রাখা এবং অসদাচরণকে চ্যালেঞ্জ করা বড় সাহসের কাজ।’’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শঙ্করাচার্য সরস্বতী এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগীর মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব প্রশাসন এবং ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। প্রশান্তকুমার সিংহের পদত্যাগ রাজ্য প্রশাসনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তগুলোতে সতর্কতা বৃদ্ধি পাবে। এভাবে, অযোধ্যার জিএসটি কমিশনারের পদত্যাগ শুধু প্রশাসনিক স্তরে নয়, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় মহলে গুরুত্বপূর্ন বার্তা প্রদান করেছে। প্রশান্তকুমার সিংহের ইস্তফা দেশবাসীর কাছে ‘নৈতিকতার জয়’ হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mann Ki Baat, Narendra Modi | পরিবেশ, ভোটাধিকার ও ভারতীয় সংস্কৃতি : বছরের প্রথম ‘মন কী বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বহুমুখী বার্তা


