সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ডিজিটাল লেনদেনের যুগে দাঁড়িয়ে আজ ইউপিআই (UPI) হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় শপিং মল সব জায়গাতেই এখন কিউআর কোড স্ক্যান করলেই লেনদেন সম্পন্ন। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে বড় বিপদ। সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় সামনে এসেছে, পুরনো ইউপিআই আইডি নিষ্ক্রিয় না রাখার কারণে অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে চোখের পলকে। দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে প্রতারণার ঝুঁকিও। বিশেষ করে যারা নতুন ফোন কেনেন বা নতুন পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার শুরু করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পুরোনো ইউপিআই আইডি মুছে ফেলেন না। আর এই ছোট ভুলই বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
একাধিক সাইবার প্রতারণার ঘটনার পর উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, মোবাইল থেকে পেমেন্ট অ্যাপ আনইনস্টল করলেই ইউপিআই আইডি নিজে থেকেই মুছে যায়। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই আলাদা। অ্যাপ মুছে ফেললেও ইউপিআই আইডি সক্রিয়ই থাকে এবং সেই আইডির সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও অটোপে পরিষেবাও চালু থাকে। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকচক্র। কোনও কারণে যদি আপনার পুরোনো মোবাইল নম্বরটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং সেই নম্বরটি অন্য কারও কাছে পুনরায় বরাদ্দ করা হয়, তাহলে সমস্যার সূত্রপাত সেখান থেকেই। কারণ, ইউপিআই আইডি যদি সেই পুরনো নম্বরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে নতুন ব্যবহারকারী আপনার লেনদেন সংক্রান্ত নোটিফিকেশন পেতে পারেন।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতারকদের হাতে নম্বরটি চলে গেলে তারা সহজেই আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অজান্তেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, আর ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই অ্যাকাউন্ট প্রায় শূন্য হয়ে যাচ্ছে। একজন ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। তাঁর কথায়, ‘আমি নতুন ফোন নেওয়ার পর পুরনো অ্যাপটি ডিলিট করে দিয়েছিলাম। ভাবিনি যে ইউপিআই আইডি আলাদা করে বন্ধ করতে হয়। কয়েক সপ্তাহ পর দেখি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।’ এই ধরনের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে বলেই জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রথমত, মোবাইল ফোন পরিবর্তন করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট অ্যাপের মধ্যে গিয়ে ইউপিআই আইডি নিষ্ক্রিয় করতে হবে। শুধু অ্যাপ ডিলিট করলেই দায় শেষ নয়। সেই সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিলিঙ্ক করা এবং অটোপে ম্যান্ডেট বন্ধ করা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করলে দ্রুত ব্যাঙ্কে নতুন নম্বর আপডেট করা প্রয়োজন। কারণ, ইউপিআই পরিষেবার সঙ্গে মোবাইল নম্বর সরাসরি যুক্ত থাকে। নম্বর পরিবর্তন হলে পুরোনো তথ্য রেখে দিলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তৃতীয়ত, অনেক সময় ব্যবহারকারীরা একাধিক ইউপিআই আইডি ব্যবহার করেন, কিন্তু সবগুলির হিসাব রাখেন না। এই ক্ষেত্রে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (National Payments Corporation of India – NPCI) -এর অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে নিজের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ইউপিআই আইডি খুঁজে দেখা যেতে পারে। একইভাবে ব্যাঙ্কিং অ্যাপ থেকেও এই তথ্য জানা সম্ভব।
ডিজিটাল লেনদেন যত সহজ হচ্ছে, ততই প্রয়োজন বাড়ছে সচেতনতার। বিশেষ করে ইউপিআই ব্যবহারকারীদের জন্য ছোট ছোট সতর্কতাই বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে। প্রতারকরা নতুন নতুন পদ্ধতিতে মানুষের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাই নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সময়ে ইউপিআই পেমেন্টকে অনেকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করেন। বাস্তবে এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে ব্যবহারকারীর সচেতনতার উপর। একটি পুরনো আইডি সক্রিয় থাকলেই সেটি প্রতারণার দরজা খুলে দিতে পারে। উল্লেখ্য, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার (Digital India) এই যুগে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকির দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। নাহলে এক মুহূর্তের অসাবধানতা জীবনের সঞ্চয়কে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : UPI cooling period India, digital payment security RBI | ১০ হাজারের বেশি অনলাইন পেমেন্টে ‘ওয়েটিং পিরিয়ড’? আরবিআইয়ের নতুন ভাবনা, গ্রাহকের হাতে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ



