Ucche Dudh Shukto Recipe | ঠাকুরবাড়ির স্পেশাল উচ্ছে-দুধ শুক্তো: ভাতের সঙ্গে অনন্য স্বাদের বাঙালি রান্না

SHARE:

সৌভিক দাস ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : বাংলার রান্নাঘরে শুক্তোর বিশেষ স্থান চিরকালই ছিল। বাঙালি দুপুরের ভাত মানেই পাশে শুক্তো থাকলে আলাদা স্বাদ মেলে। কখনও তা হয় তেতো স্বাদের, কখনও বা দুধের মাধুর্যে ভরপুর। ঠাকুরবাড়ির হেঁশেলে এক অনন্য সংযোজন ছিল উচ্ছে-দুধ শুক্তো (Ucche-Dudh Shukto)। এই পদ শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। উচ্ছে (Bitter Gourd) যেমন শরীর ঠাণ্ডা রাখে ও হজমে সাহায্য করে, তেমনই দুধ (Milk) ও নারকেল (Coconut) শুক্তোর স্বাদকে মোলায়েম করে তোলে। গরম ভাতের সঙ্গে এক থালা এই পদ খেলে অমৃতের মতো লাগে। আসুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে তৈরি করবেন এই ঐতিহ্যবাহী রেসিপি।

ছবি: সংগৃহীত

প্রথমেই লাগবে কিছু উপকরণ 
তাজা উচ্ছে (Bitter Gourd) ২-৩টি, আলু (Potato) ২টি, ছোট বেগুন (Brinjal) ১টি, ঝিঙে (Ridge Gourd) ১টি, শিম (Flat Beans) ৫-৬টি, সজনে ডাটা (Drumstick) কয়েকটা, কাঁচালঙ্কা (Green Chili) ২-৩টি ফালি করা, বড়ি (Lentil Dumpling) ৮-১০টি, সর্ষের তেল (Mustard Oil) ৩ টেবিল চামচ, গোটা মেথি (Fenugreek Seed) আধা চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা (Onion Paste) ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা (Ginger Paste) আধা চা চামচ, নুন (Salt) স্বাদমতো, হলুদ গুঁড়ো (Turmeric Powder) আধা চা চামচ, দুধ (Milk) ১ কাপ, নারকেল বাটা (Grated Coconut) ২ টেবিল চামচ এবং সামান্য চিনি (Sugar)।

ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Traditional Mutton Recipe| ট্র্যাডিশনাল রেসিপির স্বাদই আলাদা

কীভাবে বানাবেন? 

প্রথমে সব সবজি সমান টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এতে রান্নার সময় সবজিগুলো সমানভাবে সেদ্ধ হবে। এবার কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে আলু, বেগুন, ঝিঙে ও শিম একে একে হালকা ভেজে নিন। উচ্ছে ভাজার সময় একটু বেশি খেয়াল রাখতে হবে, কারণ হালকা বাদামি রঙ না হওয়া পর্যন্ত ভাজা হলে তেতো স্বাদ কমে আসে। এরপর বড়িও সুন্দর করে ভেজে নিন, যাতে কড়মড়ে থাকে। একই কড়াইতে খানিকটা তেল রেখে তাতে গোটা মেথি ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে দিন। চাইলে হালকা করে পেঁয়াজ বাটা ও আদা বাটা ভেজে নিতে পারেন। এতে শুক্তোতে ভিন্ন স্বাদ যোগ হবে। এবার সব ভাজা সবজি ও সজনে ডাটা কড়াইতে দিন। নুন, হলুদ ছিটিয়ে অল্প জল ঢেলে ঢেকে দিন। সবজি সিদ্ধ হতে শুরু করলে তার মধ্যে নারকেল বাটা মিশিয়ে দিন। নারকেল মেশানো হলে শুক্তো এক অন্য রকম গন্ধ ছড়াবে। এরপর ভাজা বড়ি ফেলে দিন। সবজি ও বড়ি সিদ্ধ হলে আঁচ একেবারে কমিয়ে দিতে হবে। এবার আলাদা করে দুধ গরম করে ধীরে ধীরে কড়াইতে ঢালুন। এখানে খেয়াল রাখতে হবে, দুধ যেন কেটে না যায়। দুধ মেশানোর পর ক্রমাগত নাড়তে হবে। শেষে এক চিমটি চিনি দিয়ে হালকা মিষ্টি স্বাদ আনুন। গরম গরম শুক্তো নামিয়ে তার উপর থেকে কাঁচালঙ্কা ফালি ছড়িয়ে দিন। এই পদ ভাতের সঙ্গে খাওয়ার সময় মুখে এমন এক স্বাদ তৈরি করে, যা সত্যিই অতুলনীয়। অন্যদিকে, ঠাকুরবাড়ির শুক্তো শুধু স্বাদের জন্য নয়, তার পুষ্টিগুণের জন্যও বিখ্যাত। উচ্ছে শরীরের টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, আবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও বিশেষ উপকারী। দুধ ও নারকেল শরীর ঠান্ডা রাখে এবং শক্তি যোগায়। একদিকে যেমন এই পদ স্বাস্থ্যকর, অন্যদিকে ভাতের সঙ্গে খেলে অদ্ভুত তৃপ্তি দেয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) ও ঠাকুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের রান্নাঘরে এই উচ্ছে-দুধ শুক্তো ছিল বেশ জনপ্রিয়। এখনও বহু বাঙালি পরিবার এই পদকে বিশেষ দিনে রান্না করেন। শীতল দুপুরে কিংবা গরমের দিনে এক থালা ভাতের সঙ্গে ঠাকুরবাড়ির শুক্তো যেন এক নিখুঁত সংযোজন। আবার, যারা আধুনিক রান্নায় অভ্যস্ত, তারাও চাইলে এই রেসিপিতে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারেন। কেউ কেউ নারকেলের বদলে সামান্য পোস্ত বাটা (Poppy Seed Paste) দেন, আবার কেউ কেউ পেঁয়াজ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নিরামিষ রাখেন। তবে ঐতিহ্য বজায় রাখতে চাইলে এই রেসিপিই সেরা। সুতরাং, বাঙালি দুপুরের ভাতের স্বাদ যদি আসল অর্থে উপভোগ করতে চান, তবে ঠাকুরবাড়ির এই উচ্ছে-দুধ শুক্তো একবার অবশ্যই বানিয়ে দেখুন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলে পরিবারের সবার মন জয় করবে এই পদ।

সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Idli Sambar Recipe | ইডলি ও সাম্বার রেসিপি | ঘরোয়া পদ্ধতিতে দক্ষিণ ভারতীয় প্রাতঃরাশ

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন