Trump tariff on Europe, Greenland controversy NATO | গ্রিনল্যান্ড বিতর্কে আট বন্ধু দেশকেই শাস্তি! ইউরোপের উপর শুল্ক-খাঁড়া ট্রাম্পের, ২৫ শতাংশের হুঁশিয়ারিতে আন্তর্জাতিক উত্তাপ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন : গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইউরোপের সম্পর্ক ফের তলানিতে ঠেকার ইঙ্গিত। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে তাঁর অবস্থানের বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি দেশের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তে ইউরোপের কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই আটটি দেশের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

যে আটটি দেশ এই শুল্কের মুখে পড়তে চলেছে, তারা প্রত্যেকেই নেটো (NATO) -এর সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তালিকায় রয়েছে ব্রিটেন (United Kingdom), ফ্রান্স (France), ডেনমার্ক (Denmark), নরওয়ে (Norway), সুইডেন (Sweden), জার্মানি (Germany), ফিনল্যান্ড (Finland) এবং নেদারল্যান্ডস (Netherlands)। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মিত্র দেশগুলির উপর এই ধরনের বাণিজ্যিক চাপ আমেরিকা-ইউরোপ সম্পর্ককে নতুন করে সংকটে ফেলতে পারে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার কৌশলগত পরিকল্পনায় সমর্থন না করায় এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বন্ধুরা পাশে না দাঁড়ালে তার ফল ভোগ করতেই হবে।’ তাঁর দাবি, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান ভবিষ্যতে আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া (Russia) এবং চিন (China) থেকে সম্ভাব্য আকাশপথে হামলার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি গ্রিনল্যান্ডের দখলকে ‘কৌশলগত প্রয়োজন’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এই ঘোষণার পরেই ইউরোপের রাষ্ট্রনেতারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer) বলেন, ‘নেটোর বন্ধু দেশগুলির সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা যেখানে বলা হয়, সেখানে তাদের উপর শুল্ক চাপানো সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত।’ তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ মিত্রতার ভিত্তিকেই দুর্বল করবে। স্টার্মার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আমেরিকার প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরোঁ (Emmanuel Macron) আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘শুল্কের হুমকি দিয়ে কোনও কৌশলগত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা কোনও চাপের কাছে নতিস্বীকার করব না।’ মাকরোঁ পরিষ্কার করেছেন, ইউরোপের সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই যে কোনও আলোচনায় বসা উচিত।সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উল্‌ফ ক্রিস্টারসন (Ulf Kristersson) জানিয়েছেন, তাঁর দেশ কোনও ‘ব্ল্যাকমেল’ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলি একজোট হয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে। নরওয়ে ও ব্রিটেনের সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।’ একই সুর শোনা গিয়েছে নরওয়ের প্রশাসনের গলাতেও।

আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রয়েছে। এই প্রশ্নে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত।’ উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রায় ৫৬ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপটি বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ হিসেবে পরিচিত এবং প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে। যদিও দ্বীপটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসন স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, বিদেশ ও প্রতিরক্ষা নীতির দায়িত্ব ডেনমার্ক সরকারের হাতেই রয়েছে। জার্মানির রক্ষণশীল নেতা তথা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রভাবশালী রাজনীতিক ম্যানফ্রেড ওয়েবার (Manfred Weber) মন্তব্য করেছেন, ‘এই শুল্ক ঘোষণায় আমেরিকা-ইউরোপ বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে গেল।’ তাঁর মতে, গত বছর যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়। তার আগেই এই ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্যিক নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ইউরোপের দেশগুলি একজোট হয়ে বিরোধিতা করায় আমেরিকা চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে এর ফল উল্টো হতে পারে বলেই মত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের। কারণ, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপকে আরও ঐক্যবদ্ধ করে তুলতে পারে এবং আমেরিকার সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে পারে।
এই মুহূর্তে সব পক্ষই নজর রাখছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্দরমহলে পাল্টা শুল্ক বা আইনি পথের কথাও আলোচনা হচ্ছে বলে খবর। গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump 18 trillion investment | ‘ট্যারিফই আমার প্রিয় শব্দ’, ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থেকে শক্তিশালী সেনাবাহিনী, নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

Sasraya News
Author: Sasraya News