ধীরেন মাহান্তী ★ সাশ্রয় নিউজ : সাফল্য (Success) কি ভাগ্যের ব্যাপার? নাকি শুধু মেধা থাকলেই জীবনে সব পাওয়া যায়? না, বাস্তবটা একটু ভিন্ন। সাফল্য আসে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা, ধৈর্য, এবং কিছু নির্দিষ্ট জীবনের অভ্যাস থেকে। এমনটাই বলছেন মনোবিজ্ঞানী থেকে জীবনদর্শনের শিক্ষকরা। এক কথায়, সফল মানুষদের জীবনযাপনে এমন কিছু সাধারণ অভ্যাস থাকে, যা তাঁদের আলাদা করে তোলে। এবং আশ্চর্যের বিষয়, এই অভ্যাসগুলি যে কেউ নিজের জীবনে আনতে পারেন। সফল মানুষদের মধ্যে লক্ষ্য স্থির করার প্রবণতা অত্যন্ত প্রকট। তাঁদের মতে, “একটা স্বচ্ছ লক্ষ্য না থাকলে, আপনি জানবেন না কোন দিকে হাঁটছেন।” তাই প্রথম ধাপেই তাঁরা স্থির করেন, ঠিক কী পেতে চান জীবনে। লেখক ও মোটিভেশনাল বক্তা রবিন শর্মা (Robin Sharma) বলেন, “স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া জীবনে এগনো মানে কম্পাস ছাড়া নৌকো চালানো।” শুধু বড় স্বপ্ন দেখেই থেমে যান না তাঁরা; লক্ষ্যকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যান।

সময়কে সবচেয়ে বড় সম্পদ মনে করেন সফল ব্যক্তিত্বরা। টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক (Elon Musk) একবার বলেছিলেন, “সময় ঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনি বছরে যা করতে পারেন, তাতে অন্যেরা দশ বছরেও পৌঁছাতে পারে না।” এই মানুষরা সময় অপচয় করেন না, এবং জানেন মনঃসংযোগ হারালে ক্ষতি হয় অমূল্য মুহূর্তগুলোর।
সফল্যের আরেকটি বড় ভিত্তি, তারা জীবনকে এক শিক্ষাক্ষেত্র হিসেবে দেখেন। তাঁদের মতে, ব্যর্থতা আসলে সুযোগ, কিছু নতুন শেখার জন্য। ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তি (Narayana Murthy) বহুবার বলেছেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা এসেছে যখন আমি হেরেছি।” এই শিক্ষার্থীসুলভ মনোভাবই তাঁদের প্রতিনিয়ত উন্নত করে। তাঁদের আরেকটি বড় শক্তি হল ইতিবাচক মনোভাব। জীবন যতই কঠিন হয়ে উঠুক, তাঁরা আশাবাদী থেকে সামনে এগিয়ে যান। কথাসাহিত্যিক পাউলো কোয়েলহো (Paulo Coelho) একবার লিখেছিলেন, “ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আপনাকে অন্ধকারে আলো দেখতে সাহায্য করে।” এই মানুষরা বাইরের পরিস্থিতির চেয়ে নিজেদের মানসিক শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেন।

মানুষের সঙ্গে সংযোগ রাখতে জানেন সফলরা। তাঁরা শুধুই নিজের কাজের মধ্যে আটকে থাকেন না। চিন্তা-ভাবনার আদান-প্রদান করেন, অন্যদের শোনেন ও নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিও ভাগ করে নেন।
Read : From Heritage Sites to Riverbanks: Delhi NCR Embraces Yoga’s Global Message
স্টিভ জবস (Steve Jobs) বহুবার বলেছেন, “তুমি একা কিছুই করতে পারো না। সঠিক সংযোগই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।” সাফল্যের পথচলায় নিজের প্রতিও যত্নবান হন এঁরা। তাঁদের জীবনের অগ্রাধিকার তালিকায় নিজের শরীরচর্চা, খাবারের প্রতি সচেতনতা, ঘুম ও মানসিক সুস্থতা রাখার পরামর্শ দেন। অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone) মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলাখুলি বলার সাহস দেখিয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, “নিজেকে ভাল না রাখলে, আপনি অন্য কিছুতেই সেরাটা দিতে পারবেন না।”

শুধু তাই নয় সফল ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকেও নজর থাকে কঠোরভাবে। তাঁরা বেহিসাবি নন, বরং খরচের প্রতিটি দিক বিবেচনায় রেখে চলেন। বিনিয়োগ, সঞ্চয় ও বাজেট এই শব্দগুলো তাঁদের অভিধানে প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক। লেখক ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সুশীল আগরওয়াল (Sushil Agarwal) বলেন, “অর্থ উপার্জনের মতোই জরুরি হল অর্থ ব্যবস্থাপনা শিখে নেওয়া। কারণ ভবিষ্যতের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনি কীভাবে অর্থ পরিচালনা করছেন তার উপর।” অর্থাৎ, সফল মানুষদের সাফল্যের পেছনে থাকে একটা নিয়মিত অভ্যাসের ভিত। কোনও গোপন সূত্র নয়, সঠিক সময়ে সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলাই তাঁদের সাফল্যের চাবিকাঠি। লক্ষ্য নির্ধারণ, সময় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা, ইতিবাচকতা, কার্যকরী যোগাযোগ, আত্ম-যত্ন এবং অর্থনৈতিক সচেতনতা এই সাতটি দিকেই তাঁরা মনোযোগ দেন বিশেষভাবে। তাহলে কি আপনি তৈরি সফলতার অভ্যাস গড়ে তুলতে? হয়ত সাফল্যের পথে আপনি আগেই হাঁটা শুরু করে দিয়েছেন, এখন শুধু দরকার একটু লক্ষ্য, একটু শৃঙ্খলা, আর বাকিটা তো আপনার হাতেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Radhika Apte | বার বার সাহসী চরিত্রে রাধিকা আপ্টে: নগ্নতা নয়, শিল্পই প্রধান




