সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক কূটনীতির ব্যস্ত মঞ্চে আবারও সক্রিয় ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) শুক্রবার ছ’দিনের বিদেশ সফরের সূচনা করলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (United Arab Emirates) পৌঁছে। এই সফরের প্রথম পর্যায়েই জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপর ইউরোপের চার দেশ নেদারল্যান্ডস (Netherlands), নরওয়ে (Norway), সুইডেন (Sweden) এবং ইটালি (Italy) পর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই সফর ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সফরের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, ইরান (Iran) সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) জটিলতা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় হয়েছে। ইউএই-তে পৌঁছেই মোদী সে দিকেই জোর দেন।
সরকারি সূত্রের খবর, ইউএই-র সঙ্গে ভারতের মধ্যে পেট্রোলিয়াম ও রান্নার গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। এই চুক্তিকে ঘিরে সরকারি মহলে বলা হচ্ছে, ‘এই সমঝোতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল। আবু ধাবিতে স্বাক্ষরিত ‘ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহি স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স পার্টনারশিপ’ চুক্তির ফলে সামরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে। এতদিন যৌথ মহড়া এবং প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনে অংশ নেবে। চুক্তির আওতায় অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, ‘দুই দেশের মধ্যে এই সহযোগিতা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।’ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দেখা গিয়েছে এই সফরে। গুজরাতে একটি আধুনিক ‘শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার’ গড়ে তোলার পরিকল্পনায় ইউএই বিনিয়োগ করতে সম্মত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারত সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের একটি কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সুযোগও বাড়বে।
এই সফরের পরবর্তী পর্যায়ে ইউরোপ সফর ঘিরেও কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ইটালিতে মোদীর একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে জ্বালানি, পরিবেশ, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, এই সফর সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। বিশেষ করে নরওয়ে এবং সুইডেনের সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য দিকে, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে জল ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি প্রযুক্তি বিনিময় একটি বড় বিষয় হতে পারে। ইটালির সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারতের ভূমিকা কীভাবে আরও দৃঢ় করা যায়, সেটাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সফর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উঠে এসেছে। ইউএই-তে প্রথম দিনের বৈঠক ও চুক্তিগুলি ইতিমধ্যেই তার ইঙ্গিত দিয়েছে। পরবর্তী চার ইউরোপীয় দেশের সফরে সেই গতি বজায় থাকে কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Sanand Speech | সাণন্দে সেমিকন্ডাক্টর যুগের সূচনা: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ থেকে বৈশ্বিক বাজারে ভারতের শক্ত অবস্থান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বড় বার্তা




