Post Poll Violence West Bengal, Suvendu Adhikari Speech | ভোট-পরবর্তী হিংসা ঘিরে বিধানসভায় তপ্ত বাকযুদ্ধ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বনাম শোভনদেব, তৃণমূলকে কটাক্ষ নওশাদের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার (West Bengal Assembly) অষ্টাদশ অধিবেশনের সূচনাতেই সৌজন্যের আবহ ভেঙে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক মঞ্চ। শুক্রবার স্পিকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে বসা অধিবেশনে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovan Deb Chattopadhyay) -এর মধ্যে তর্ক তীব্র আকার নেয়। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে (Trinamool Congress) নিশানা করে সরব হন আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Nausad Siddiqui)। ফলে দিনের শুরুতেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে বিধানসভা কক্ষে। প্রথা মেনে নতুন স্পিকার হিসেবে কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি (BJP) বিধায়ক রথীন্দ্র বসুর (Rathindra Basu) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অধিবেশন শুরু হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা তাঁকে আসনে পৌঁছে দেন। তবে আনুষ্ঠানিকতার পরই রাজনৈতিক বক্তব্যে শুরু হয় তীব্র মতবিনিময়।

আরও পড়ুন : Phalaharini Amavasya Puja Vidhi, Kali Puja Rules India | ফলহারিণী অমাবস্যা ২০২৬: অশুভ কর্মফল থেকে মুক্তির তিথি

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শোভনদেব উঠে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের পর বহু জায়গায় অশান্তি চলছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা বলেছিলেন ভয় নয়, ভরসা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন যে মানুষের মধ্যে ভরসার অভাব, আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই ঘরছাড়া হয়েছেন।’ তাঁর এই মন্তব্যে শাসকদলের দিকে সরাসরি আঙুল ওঠে। এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেন, ‘কেউ ঘরছাড়া হয়েছেন বলে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘যদি কেউ বাস্তবে ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তা হলে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে জানানো হোক।’ তবে তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী ঘটনায় যে বহু এফআইআর দায়ের হয়েছিল, তাতে যদি কারও নাম না থাকে, তবে স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেবে। আর নাম থাকলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিধানসভায় আলোচনার সময় ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি তৃণমূলের শাসনকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘২০২১ সালে জয়ের পর এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে মনে হয়েছিল পদত্যাগ করি, যদি তাতে আমাদের কর্মীরা নিরাপদ থাকে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর কাছে বারবার চিঠি পাঠিয়েও কোনও উত্তর পাননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিজেপির প্রতি অন্ধ সমর্থন নয়, আবার অযথা বিরোধিতাও করবেন না। অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার কার্যপ্রণালী নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘বিধানসভা কোনও সংঘর্ষের জায়গা নয়, এখানে গণতান্ত্রিক আলোচনাই মুখ্য হওয়া উচিত।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিরোধী দলকে সম্মান দেওয়ার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের কণ্ঠস্বর যেন কখনও স্তব্ধ না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’ এই মন্তব্যে পূর্বতন সরকারের সময়কার পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

এদিন নতুন স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় (Tapas Roy), আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (Aam Janata Unnayan Party) নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir), সিপিএম (CPM) বিধায়ক মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (Mohammad Mostafizur Rahman) এবং বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি (Chandana Bauri)। তাঁদের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু জানান, আগামী ১৮ জুন রাজ্যপাল আরএন রবির (RN Ravi) ভাষণের মধ্য দিয়ে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে এবং ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হবে। ফলে আগামী অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

অন্য দিকে, রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ। তিনি নন্দীগ্রাম (Nandigram) কেন্দ্রের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভবানীপুর (Bhabanipur) আসনটি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি আসন ছাড়তে হয়। একই দিনে রেজিনগর (Rejinagar) আসন থেকেও ইস্তফা দেন হুমায়ুন কবীর। ফলে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল। এদিকে, তৃণমূলের অন্দরে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা তৎপরতা শুরু হয়েছে। পরিষদীয় দলের বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দলীয় বিধায়কদের নির্দেশ দেন নিজেদের এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের তালিকা প্রস্তুত করতে। জানা গিয়েছে, এই তালিকা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনটি পৃথক তথ্যানুসন্ধানী দল গঠন করে ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই দলগুলি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করবে। উল্লেখ্য, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসায় বিধানসভার এই অধিবেশন যে আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলাই যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসা, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিরোধী-শাসক সম্পর্ক, সব মিলিয়ে রাজনীতির ময়দান এখন বেশ সরগরম।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Vande Mataram mandatory in schools, Suvendu Adhikari decision | স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’: সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম, শুভেন্দু অধিকারী -এর ঘোষণায় জোর চর্চা রাজ্যে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন