সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শিলিগুড়ি: শহরকে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখতে কঠোর অবস্থান নিল রাজ্যের নতুন সরকার। রাস্তাঘাটে যত্রতত্র থুতু ফেলা, পানের পিক ছড়ানো কিংবা প্লাস্টিক ফেলে নোংরা করার প্রবণতা রুখতে এবার কড়া জরিমানার পথে হাঁটছে প্রশাসন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) উত্তরবঙ্গ সফরে এসে জানিয়ে দিলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম ভাঙলেই দিতে হবে জরিমানা। ইতিমধ্যেই এই ঘোষণা ঘিরে নাগরিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিলিগুড়িতে পুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘শহরকে পরিষ্কার রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। যেখানে সেখানে থুতু ফেলা বা ময়লা ফেলা আর চলবে না।’ তাঁর কথায় উঠে এসেছে নাগরিক আচরণের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা শপিং মলে গেলে নিয়ম মেনে চলি, কিন্তু রাস্তায় নামলেই কেন সেই শৃঙ্খলা থাকে না?’
সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শহরের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা। বহুদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে, রাস্তার মোড়ে, দেওয়ালে বা ফুটপাথে পানের পিক ও থুতুর দাগ শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংক্রমণের আশঙ্কাও। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। মন্ত্রী জানান, শুধু থুতু ফেলা নয়, রাস্তায় প্লাস্টিক বা অন্য কোনও আবর্জনা ফেললেও জরিমানা করা হবে। ‘যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। এটা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য,’—এই মন্তব্যে তিনি নাগরিকদের সচেতন হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন। জরিমানার অঙ্ক নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা না হলেও, পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী থুতু ফেললে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা নেওয়া হতো। নতুন সরকার সেই অঙ্ক বাড়াবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, নিয়ম ভাঙলে আর ছাড় দেওয়া হবে না। এই উদ্যোগের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’। এই অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ শহরের যে কোনও নোংরা জায়গার ছবি তুলে আপলোড করতে পারবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট পুরসভা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগকারীও জানতে পারবেন সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না। এতে প্রশাসন ও নাগরিকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, শুধু শাস্তি নয়, আগে সচেতনতা বাড়ানোই লক্ষ্য। তাই আগামী তিন মাস সময় দেওয়া হচ্ছে নাগরিকদের অভ্যাস বদলানোর জন্য। এই সময়ের মধ্যে প্রচার, প্রচারণা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হবে। কিন্তু সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। কারণ, শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কঠোর নিয়ম জরুরি। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, শুধুমাত্র জরিমানা নয়, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন এবং পরিকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন বা জনবহুল জায়গায় ময়লা ফেলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সেখানে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মত অনেকের। প্রশাসনও সেই দিকটি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
নগরোন্নয়ন দফতরের এই পদক্ষেপ শহরের চেহারা বদলে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও জড়িত। রাস্তায় থুতু ফেলা থেকে ছড়াতে পারে নানা সংক্রমণ, যা বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে নাগরিকদের আচরণের উপর। নিয়ম থাকলেই হবে না, তা মানার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। আগামী দিনে এই নিয়ম কার্যকর হলে শহরের রাস্তাঘাট কতটা বদলায়, সেটাই দেখার। তবে আপাতত ১ সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। প্রচার থেকে শুরু করে নজরদারি সব ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হচ্ছে। শহর পরিচ্ছন্ন রাখার এই প্রচেষ্টায় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের যৌথ অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেবে। নিয়মের পাশাপাশি দায়িত্ববোধ তৈরি হলে তবেই বদল আসবে শহরের চেহারায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : The Geographical Indication (GI) tag: Ponduru Khadi from Andhra Pradesh gets global recognition and market access through KVIC




