sperm donation rules India | শুক্রাণু দান করে উপার্জন? জেনে নিন নিয়ম, শর্ত ও আইনি দায়বদ্ধতা

SHARE:

ভারতে শুক্রাণু দান করে কীভাবে আয় করা যায়, কী কী নিয়ম মানতে হয় এবং আইসিএমআর-এর গাইডলাইন কী বলছে, তা জানুন বিস্তারিত।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : যাঁরা সন্তান লাভের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণায় ভুগছেন, তাঁদের কাছে কৃত্রিম প্রজনন (Assisted Reproductive Technology) এক নতুন আশার আলো। ভারতে অসংখ্য ফার্টিলিটি ক্লিনিক (Fertility Clinic) প্রতিদিন গ্রহণ করছে শুক্রাণু দাতাদের (Sperm Donor) কাছ থেকে বীর্য, যেখান থেকে তৈরি হচ্ছে বহু পরিবারের স্বপ্নপূরণের পথ। কিন্তু প্রশ্ন হল, শুক্রাণু দান মানেই কি কেবল মানবিক সাহায্য? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে আর্থিক লাভও?

ভারত সরকারের অধীনে কাজ করা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) স্পার্ম ডোনেশন সংক্রান্ত একটি কড়া গাইডলাইন তৈরি করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, দাতার (Donor) বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। তবে বয়স একমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠি নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বংশগত রোগ, যেমন থ্যালাসেমিয়া, হেমোফিলিয়া, বা অন্য কোনও জেনেটিক সমস্যা থাকলে সেই ব্যক্তি দানের অযোগ্য বলে গণ্য হন। দাতার জীবনযাত্রাও হতে হবে পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর। ধূমপান (Smoking), মদ্যপান (Alcohol) বা মাদকের (Drugs) প্রতি আসক্তির ইতিহাস থাকলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাধারণত তাঁদের শুক্রাণু গ্রহণ করে না।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বীর্য বিশ্লেষণ
দাতাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে হয়। যৌনরোগ (STDs) থেকে শুরু করে এইচআইভি (HIV), হেপাটাইটিস বি ও সি (Hepatitis B & C) পর্যন্ত একাধিক রোগের স্ক্রিনিং করা হয়। সঙ্গে মূত্রের নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। শুধু তাই নয়, শুক্রাণুর (Sperm) গুণগত মান নির্ণয়ের জন্যও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। দান করার ২-৩ দিন আগে থেকে বীর্যপাত (Ejaculation) বন্ধ রাখতে বলা হয়, যাতে পরীক্ষার সময় শুক্রাণুর ঘনত্ব (Density), গতি (Motility) ও স্বাস্থ্য (Morphology) সঠিকভাবে বোঝা যায়।

আইনি চুক্তি ও পরিচয় গোপনীয়তা

যে কোনও দানের আগেই দাতাকে স্বাক্ষর করতে হয় একটি আইনি চুক্তিতে (Legal Consent Form)। তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে, এই দান স্বেচ্ছায় করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর থেকে যদি কোনও সন্তান জন্মায়, তাহলে দাতা কোনওভাবেই তার পিতৃত্ব দাবি করতে পারবেন না। এই আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যে, ভবিষ্যতে কোনও ধরনের জটিলতা বা বিরোধ তৈরি না হয়।এর পাশাপাশি, দাতার পরিচয় (Identity) সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হয়। কে কার শুক্রাণু গ্রহণ করছেন, তা জানার কোনও উপায় নেই। আইসিএমআর (ICMR) পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছে -এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে পরোপকারী উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত।

কত টাকা উপার্জন সম্ভব?

এখন প্রশ্ন আসে, শুক্রাণু দানের বদলে কি অর্থপ্রাপ্তি হয়? সরকারি গাইডলাইনের নিরিখে স্পার্ম দানের জন্য কোনও অর্থ প্রদান আইনসম্মত নয়। কিন্তু ক্লিনিকগুলি দাতার সময়, যাতায়াত খরচ ও মানসিক শ্রমের মূল্য হিসেবে ‘পুরস্কার’ (Honorarium) স্বরূপ কিছু অর্থ দিয়ে থাকে। এই অঙ্ক সব জায়গায় এক নয়। শহর, ক্লিনিকের রেটিং, এবং পরিষেবার ধরন অনুযায়ী সেটা পরিবর্তিত হয়। কিন্তু গড় হিসেবে একবার শুক্রাণু দান করলে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত অর্থ পেতে পারেন একজন দাতা।

ভারতে এখনও শুক্রাণু দানকে ঘিরে কিছুটা সঙ্কোচ, কিছুটা ভুল ধারণা আছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বহু তরুণ এখন এগিয়ে আসছেন এই কাজে। কেউ কেউ নিঃসন্তান দম্পতিকে সাহায্য করতে চান, কেউ আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজে।কিন্তু যেহেতু এতে জড়িয়ে রয়েছে গভীর মানবিক ও আইনি বিষয়, তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি দিক ভালভাবে জেনে নেওয়া উচিত। জেনে রাখা উচিৎ যে, শুক্রাণু দান মানে কেবল কয়েক হাজার টাকা উপার্জন নয়, এটি অনেক সময় একটি পরিবারকে আলো দেখানোর পথ হতে পারে। তবে সেই পথ হোক সঠিক নিয়মে, আইনের ছত্রছায়ায় ও সম্পূর্ণ সচেতনতার সঙ্গে।

ছবি: সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : One Night Stand | One Night Stand নিয়ে ভুল ধারণা? জানুন এর কিছু অজানা ইতিবাচক দিক

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন