সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের সব জেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতির গতিবেগ বাড়াতে নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বুধবার ভার্চুয়াল বৈঠকে, বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR — Special Intensive Revision) সহ যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ আগামী সাত দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয় জেলাশাসক ও জেলা ইলেকশন অফিসারদের (DEO) প্রতি। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে জেলাভিত্তিক এনুমারেশন ফর্ম ছাপানোর অন্তত ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, রাজ্যে এসআইআর শুরু হতে পারে আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সূত্র বলছে যে, ভোটার তালিকার ‘ম্যাপিং’ কাজ অর্থাৎ ২০০২ সালের শেষ এসআইআর-তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ১৬৫ জন। এই পরিসংখ্যানে, প্রায় ৪.৯৬ কোটি ভোটারের নামের মিল পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ২.৬৭ কোটি ভোটারের ক্ষেত্রে নিবিড় যাচাই প্রয়োজন হবে।
জেলাভেদে ম্যাপিং-মিলের হার ভিন্ন: প্রায় ৭০% মিল পাওয়া গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে, সীমান্তবর্তী জেলা-গুলিতে গড় মিল ৬০–৬৫%, হাওড়ায় প্রায় ৬৯%, পুরুলিয়ায় ৭১%। তবে অনেক রাজ্য পর্যায়ে কাজ এখনও অসমাপ্ত বলে উল্লেখ। উল্লেখ্য, এসআইআর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতেও উত্তেজনা তীব্র উঠেছে। চলতি সময়ে বিহারে এই পদ্ধতির ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বিহারের অন্তত ৩.৬৬ লাখ ভোটের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তথ্য দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে এবং “নতুন নামগুলোর পরিচয়” প্রকাশের দাবি তুলেছে। বিচারপতি বৃন্দ একে “নির্বাচন কমিশনের অধিকার” বলে উল্লেখ করলেও, কমিশনের প্রতি নির্দেশ জারি করা হলে সেটি হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিহারে SIR কার্যক্রমের সময় Aadhaar (আধার)-কে ১২তম বৈধ পরিচয়দর্শক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি ছিল যে Swasthya Sathi কার্ড বা রেশন কার্ডকে চিহ্নিত পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করা হোক। তবে নির্বাচন কমিশন সেই প্রস্তাব নাকচ করে বলে উল্লেখ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও রাজ্য নেতারা বলেছেন, এসআইআর যদি দ্রুত চালু করা হয়, তা ভোটারদের অধিকার হরণে রূপ নিতে পারে।
রাজ্যে আগামী সাত দিনের মধ্যে এসআইআর প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেও, বাস্তব দিক থেকে এটি একটি চ্যালেঞ্জ হবে। এর জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, জনশক্তি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় দরকার হবে। ম্যাপিং যেভাবে চলেছে, তাতে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই ও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। উল্লেখ্য,
>কমিশনকে তথ্য দিতে হবে, কোন জেলার কাজ কতদূর পৌঁছেছে,
>জেলাশাসকদের ছাপানোর পরিকাঠামো ও সক্ষমতা যাচাই করতে হবে,
>নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে সময় অনুযায়ী কাজ শেষ করতে হবে,
>বৈধ পরিচয় দাখিল ও যাচাই প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ হতে হবে,
>রাজনৈতিক ও জনসমর্থন বজায় রেখে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
ছবি : প্রতীকী।
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ পঞ্চম কিস্তি)




