পরিধি চক্রবর্তী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বলিউডের পর্দায় যিনি একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন, সেই শ্রদ্ধা কাপূর (Shraddha Kapoor) -এর জীবনের এক অজানা অধ্যায় সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। চমকপ্রদ তথ্য হল, আজকের সুপারস্টার হওয়ার আগে তিনি সাধারণ জীবনে একেবারেই আলাদা পথে হাঁটছিলেন। কফি বানানো, স্যান্ডউইচ বিক্রি করা, এভাবেই বিদেশে পড়াশোনার সময় নিজের হাতখরচ চালাতেন শ্রদ্ধা। এমনকী সম্প্রতি নিজেই সেই সময়ের স্মৃতি মনে করে নস্টালজিক হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী।

শ্রদ্ধা কাপূরনিজের প্রোফাইলেই জানিয়েছেন, কেবল অভিনেত্রী নন, উদ্যোগপতি হওয়ার পাশাপাশি জীবনের এক পর্যায়ে তিনি ওয়েটারের কাজও করেছেন। পড়াশোনার টানাপোড়েন, একা থাকার খরচ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার তাগিদে সেই সময় চাকরি খোঁজার অ্যাপে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করেছিলেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তদের চোখ কপালে।
আরও পড়ুন : Koel Mallick Gives Of A Baby Girl : কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন কোয়েল মল্লিক

শ্রদ্ধা ২০০৫ সালে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময়েই জীবনে আসে সেই চাকরির অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি কফি প্রস্তুতকারক সংস্থায় ওয়েটারের কাজ শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী।
কাজের তালিকায় ছিল গ্রাহকদের কফি পরিবেশন করা, নানা ধরনের স্যান্ডউইচ বানানো এবং দোকানের সাধারণ দায়িত্ব পালন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, “২০০৫ সালে বস্টনে পড়ার সময় যে সংস্থায় কাজ করতাম, সেখানে যত জনকে কফি বানিয়ে খাইয়েছি তাঁদের প্রত্যেকের কাছে ক্ষমা চাইছি।” কেন এমন ক্ষমা প্রার্থনা? অভিনেত্রীর ব্যাখ্যা, তিনি নাকি কফি বানাতে তেমন দক্ষ ছিলেন না। তবে হাসতে হাসতেই বলেন, স্যান্ডউইচ বানানোর কাজটি বেশ দ্রুত শিখে গিয়েছিলেন। সেই সময়কার অভিজ্ঞতাই তাঁকে পরবর্তীতে জীবনযুদ্ধে শক্ত করেছে। শ্রদ্ধা বলেন, “কোনও কাজ ছোট বা বড় নয়, বরং প্রতিটি অভিজ্ঞতাই মানুষকে গড়ে তোলে।’’

শ্রদ্ধা কাপূর (Shraddha Kapoor) -এর সিনেমায় প্রবেশের যাত্রা কিন্তু বলিউডের প্রচলিত নিয়ম মেনে হয়নি। যেখানে অনেকেই কৈশোরেই ডেবিউ করেন, শ্রদ্ধা বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরেন। প্রায় ১৩ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, একের পর এক ছবি ও দর্শকের ভালবাসা তাঁকে আজ বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী করে তুলেছে। ‘আশিকি ২’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক একাধিক ব্লকবাস্টার ছবি তাঁর কেরিয়ারে মাইলস্টোন হয়ে আছে। কিন্তু জীবনের সেই সাধারণ অথচ সংগ্রামী দিনগুলোর স্মৃতি আজও তাঁর মনে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
আরও পড়ুন : Kajol | তিন খানের তুলনায় সালমানের স্টার পাওয়ার অনন্য! অকপট স্বীকারোক্তি কাজলের
অনেকেই হয়ত কল্পনা করতে পারবেন না, যে শ্রদ্ধার ভক্তরা তাঁকে সিনেমার পর্দায় গ্ল্যামারাস রূপে দেখে অভ্যস্ত, তিনিই একসময় কফি বানাতে বানাতে গ্রাহকদের হাসিমুখে সার্ভ করতেন।

আর এই কফি সার্ভ করার অভিজ্ঞতাই হয়তো তাঁকে ভেতর থেকে নম্র করেছে, শিখিয়েছে জীবনের বাস্তবতা। ভক্তরা বিষয়টি জানার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। কেউ লিখেছেন, “শ্রদ্ধা প্রমাণ করলেন পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “ওঁর বিনয়ী স্বভাব আর আজকের সফল্য দু’টোই একে অপরকে সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করেছে।”

এই অভিজ্ঞতার পর বর্তমানে শ্রদ্ধা কেবল বলিউডের এক ঝলমলে তারকাই নন, তিনি একজন উদ্যোগপতিও। ফ্যাশন, মিউজিক ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা প্রজেক্টে তিনি যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু যেখান থেকেই শুরু হোক, প্রতিটি পদক্ষেপই তাঁকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।বলিউডে প্রতিযোগিতা ও উত্থান-পতনের ভিড়ে শ্রদ্ধা কাপূরের গল্প প্রমাণ করে, সাফল্যের পিছনে কেবল গ্ল্যামারের মোড়ক নেই, আছে সংগ্রাম, আছে সাধারণ জীবনের অভিজ্ঞতা। আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে করে তুলেছে ভক্তদের কাছে আরও বেশি মানবিক, আরও বেশি অনুপ্রেরণার
সব ছবি : সংগৃহীত




